অল্পের জন্য বেঁচে গেলেন ২শ লঞ্চযাত্রী

সময়বাংলা, ঢাকা:  বৃহস্পতিবার নারায়ণগঞ্জ থেকে ছেড়ে আসা এমভি সোমা লঞ্চটি সন্ধ্যা ৬টা ২০ মিনিটে মুন্সীগঞ্জ ঘাটে নোঙর করার আগ মুহূর্তে বরিশালগামী এমভি বোগদাদিয়ার সঙ্গে সংঘর্ষের মুখোমুখি হয়। কিন্তু তুলনামূলক বড় লঞ্চটির চালকের বিচক্ষণতায় সংঘর্ষ থেকে রক্ষা পায় দুই লঞ্চ। সেইসঙ্গে বেঁচে যায় দুই লঞ্চের কয়েকশ যাত্রী।

এমভি সোমা লঞ্চের যাত্রী সাহাদাৎ রানা জানান, সন্ধ্যায় নারায়ণগঞ্জ থেকে এমভি সোমা লঞ্চটি ছেড়ে আসে। ৭টায় মুন্সীগঞ্জ ঘাটে নোঙর করে। তবে লঞ্চটি ঘাটে নোঙর কারার আগমুহূর্তে এমভি বোগদাদিয়া লঞ্চের সঙ্গে সংঘর্ষ বাধার উপক্রম হয়। এ সময় আতঙ্কে লঞ্চের যাত্রীরা চিৎকার করতে থাকে। চিৎকার শুনে তাৎক্ষণিক বড় লঞ্চটি কিছুটা সাইড নিতে পারায় দুর্ঘটনা থেকে আমাদের লঞ্চটি রক্ষা পায়।

এমভি সোমা লঞ্চের যাত্রী সাংবাদিক সাহাদাৎ রানা জানান, সন্ধ্যা ৭ টায় মুন্সীগঞ্জ ঘাটে নোঙ্গর করে ছোট্ট লঞ্চটি। তবে লঞ্চটি ঘাটে নোঙ্গর কারার কিছুটা বড় আকারের বোগদাদিয়া লঞ্চের সাথে সংঘর্ষ বেধেই যাচ্ছিল। এসময় আতঙ্কে লঞ্চে থাকা যাত্রীরা আর্তচিৎকার করতে থাকে।

জনাব রানা জানান, এই ঘটনার জন্য পুরোপুরি দায়ী সোমা লঞ্চের চালক মো. মিলন। বোগদাদিয়া লঞ্চটি দেখে তাকে যাত্রীরা বারবার সর্তক করার পরও সে দ্রুত ধলেশ্বরী পার হওয়ার চেষ্টায় গতি বাড়িয়ে দেয়। এতে বোগদাদিয়া এবং সোমা মুখোমুখি হয়ে যায়।

অথচ অন্যান্য লঞ্চ মূল নদীতে আড়াআড়ি পার হওয়ার সময় অতি সতর্কতার সঙ্গে ধীরে ধীরে পার হয়। অনভিজ্ঞ সারেং সহযোগী মো. মিলন লঞ্চটি চালানো দায়িত্ব কিভাবে পেলে সেটিও খতিয়ে দেখা প্রয়োজন।

লঞ্চের অপর এক যাত্রী সেলিম বলেন, প্রায়ই এ নৌরুটে এমন ঘটনা ঘটে। অনেক সময় মাঝ নদীতে লঞ্চের স্টার্ট বন্ধ হয়ে যায়। মূলত এই নৌরুটে অভিজ্ঞ লঞ্চচালক নেই বললেই চলে। বেশিরভাগ লঞ্চ চালকের সহকারী দিয়ে পরিচালনা করা হয়। আজ আমাদের লঞ্চটিতে মো. মিলন নামে একজন অনভিজ্ঞ সহযোগী চালক ছিলেন। যার নিয়ন্ত্রণে ছিলাম আমরা প্রায় দুইশ যাত্রী। বলতে পারেন অল্পের জন্য বেঁচে গেলাম সবাই।

এ বিষয়ে মুন্সীগঞ্জ জেলা প্রশাসক সায়লা ফারজানা বলেন, আগামীকাল আমরা সরজমিনে লঞ্চঘাট যাব এবং এ বিষয়ে কার্যকর ব্যাবস্থা গ্রহণ করবো। এই নৌরুটের লঞ্চ নিয়ে আরও অভিযোগ রয়েছে। দ্রুত এ বিষয়ে ব্যবস্থা নেয়া হবে।

সময়বাংলা/আইজু

সংবাদ সম্পর্কে আপনার মতামত দিন

এ বিভাগের আরো খবর