আগামী তিন থেকে পাঁচ বছরে লেবাননের কর্মীরা দেশে যেতে পারবেনা: রাষ্ট্রদূত

নিজস্ব প্রতিবেদক: যারা ইতিমধ্যে দেশে যাবার জন্য দূতাবাসে আবেদন করে দূতাবাসে যোগাযোগ করছে না বা তাদের ফোন করেও পাওয়া যাচ্ছেনা আবার টিকেটের টাকা জমা দিয়ে লেবানন জেনারেল সিকিউরিটি থেকে অনেক কষ্টের মাধ্যমে দেশে যাবার ছাড়পত্র আনার পরেও অনেকে পালিয়ে বেড়াচ্ছে, দেশে যাচ্ছে না, এসকল কর্মীদের আগামী তিন থেকে পাঁচ বছরের মধ্যে দেশে যাবার কোন সুযোগ দেয়া হবে না বলে জানালেন বাংলাদেশ সরকারের বৈরুত দুতাবাসের রাষ্ট্রদূত আব্দুল মোতালেব সরকার।

বৈরুতের আইন আল রুম্মামীর ফেরে স্কুলে বি. বাড়িয়া তিতাস প্রবাসী সংগঠনের আয়োজিত সংগঠনের প্রথম প্রতিষ্ঠা বার্ষিকী এবং ভাষা সৈনিক শহীদ ধীরেন্দ্রনাথ দত্ত’র স্বরনে আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এমনটি জানান।

রাষ্ট্রদূত বলেন, লেবানন সরকার শুধু বাংলাদেশীদের জন্য দেশে যাবার একটি সুযোগ রেখেছে , আর দেশে যাবার জন্য প্রায় তিন হাজার আবেদনের জমা হয় যার এক হাজারের বেশী ইতিমধ্যে দেশে চলে গেছেন, বাকিরাও ধীরে ধীরে চলে যাবে। কিন্তু এদের মধ্যে অনেকেই রয়েছেন যারা আবেদন করেও দেশে যাচ্ছেন না, আবার অনেকে জেনারেল সিকিউরিটি থেকে ছারপত্র পাবার পর দেশে যাচ্ছেন না, যার জন্য দূতাবসকে বারবার লেবানন সরকারের সংশ্লিষ্ট দপ্তরের কাছে প্রশ্নের সম্মুক্ষীন হতে হয়। তাই এসকল প্রবাসীদের আগামী তিন থেকে পাঁচ বছর কোন সুযোগ দেয়া হবে না, এমনকি পুলিশের হাতে গ্রেফতার হলেও তাদের কোন সহযোগীতা করা হবে না।

তিনি আরো বলেন, লেবাননের প্রসাশন পর্যন্ত এখন জানে বাংলাদেশীদের চালাফেরা উঠাবসা কেমন, সুতরাং এমন কিছু করা যাবে না যা থেকে দেশের বদনাম হয়। প্রয়োজনে এর কঠিন নিয়ন্ত্রন ব্যবস্থা নেয়া হবে।  দূতাবাসে অভিযোগ এসেছে বাংলাদেশী কিছু অসাধু চক্র নারী ব্যবসা, অপহরনের মত অপরাধ সহ বিভিন্ন অপরাধে জড়িয়ে পরেছে, এসব অপরাধীদের নাম ইতিমধ্যে দূতাবাসে চলে এসেছে আবার দুএকজনকে লেবানন পুলিশ সুস্পষ্ট প্রমানের ভিত্তিতে গ্রেফতারও করেছে। অচিরে এসব বন্ধে লেবাননে বাংলাদেশের অর্জিত সুনাম অক্ষুন্ন রাখতে ব্যবস্থা নেয়া হবে।  রাষ্ট্রদূত সকল প্রবাসীদের অপরাধ মূলক কার্যক্রম থেকে বিরত থাকতে বিশেষ অনুরুধ জানান।

যারা এখনো দেশে যাবার কোন আবেদন করেনি, পুনরায় নতুন করে কাগজপত্র বিহীন সে সকল কর্মীদের দেশে পাঠানোর কোন সুযোগ দেয়া হবে কিনা? এমন এক প্রশ্নের জবাবে রাষ্ট্রদুত বলেন, আপাতত নেই, তবে আবেদন জমা হওয়া সকলকে দেশে পাঠানো হলে নতুন করে আবেদন নেয়ার চিন্তাভাবনা রয়েছে, সেটি লেবাননের সংশ্লিষ্ট্য দপ্তরে যোগাযোগ করে তাদের সম্মতি পেলে নতুন আবেদন নেয়া হবে।

তিতাস নদীর পারের জেলা ব্রাক্ষ্মনবাড়িয়ার লেবাননে অবস্থিত প্রবাসীদের সংগঠন ‘বিবাড়িয়া তিতাস প্রবাসী সংগঠন’ এর প্রথম প্রতিষ্ঠা বার্ষিকী পানল এবং বিবাড়িয়ার কৃতি সন্তান ভাষা সৈনিক শহীদ ধীরেন্দ্রনাথ দত্ত’র স্বরনে আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে।  বৈরুতের আইন আল রুম্মনী ফেরে স্কুলে অনুষ্ঠিত সভায় বিবাড়িয়ার ওস্তাদ আলাউদ্দীন খান, আব্দুল কুদ্দুস মাখন ও মনমোহন দত্ত সহ সকল কৃতি সন্তানদের স্বরন করা হয়। সেই সাথে মহান শহীদ দিবস ও আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস উপলক্ষেও আলোচনা করা হয়।

সংগঠনের সভাপতি আব্দুর রাজ্জাক বজলুর সভাপতিত্বে সভায় প্রধান অতিথি ছিলেন বাংলাদেশ দূতাবাসের রাষ্ট্রদূত আব্দুল মোতালেব সরকার। এবং বিশেষ অতিথি ছিলেন, দূতাবাসের প্রথম সচিব সায়েম আহমেদ, সংগঠনের সাধারন সম্পাদক কাউছার আলম জনি, উপদেষ্টা মন্ডলীর সদস্য বীর মুক্তিযোদ্ধা আলী আশরাফ ভূইয়া, মফিজুল ইসলাম বাবু, আমির হোসেন, ইকবাল হোসেন ভূঁইয়া, সহ সভাপতি রুবেল আহমেদ, ওয়াসিম ভূঁইয়া, সাংঠনিক সম্পাদক আব্দুর রহিম মতিন।

এছাড়া বিশেষ অতিথি ছিলেন, আলী আকবর মোল্লা, মো. কলিম উল্লাহ, বাবুল মুন্সি সহ অনেকে।  অনুষ্ঠান পরিচালনা করেন লেবাননের সুপরিচিত, বিবাড়িয়া জেলার সন্তান সোহেল মিয়া।

পবিত্র কোরআন পাঠের মাধ্যমে আলোচনা সভাটি শুরু হয় এবং শুরুতে সকল ভাষা শহীদদের স্বরনে দাড়িয়ে একমিনিট নিরবতা পালন করা হয়। অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি এবং বিশেষ অতিথিদের সংগঠনের পক্ষথেকে ফুলদিয়ে বরন করা হয়। এবং অনুষ্ঠান শেষে সংগঠনের প্রতিষ্ঠা বার্ষিকীর বিশাল আকারের কেক কাটা হয়। সে সময় এক আনন্দঘন পরিবেশ সৃষ্টি হয়। বক্তব্য রাখেন, শাহিনুর ইসলাম শাহিন।

সভায় বাংলাদেশ বিভিন্ন রাজনৈতিক, সামাজিক সংগঠনের নেতৃবৃন্দসহ অসংখ্য বিবাড়িয়া জেলার প্রবাসীরা উপস্থিত হয়ে সভাকে সাফল্য মন্ডিত করেন। এছাড়া অন্যন্য জেলার প্রবাসীরা সহ বিভিন্ন টিভি, পত্রিকা, অনলাইন মিডিয়ার সাংবাদিক বৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।

অন্যান্যদের মধ্যে আরো বক্তব্য রাখেন, মজিবুল হক মুজিব, রানা ভূঁইয়া, আবু বক্কর, নুরুল ইসলাম, ওসমান মিয়া, আবুল কালাম আজাদ, ইমতিয়াজ আহমেদ সহ অনেকে।

সংবাদ সম্পর্কে আপনার মতামত দিন