”আবারো ফাঁসীর মঞ্চে মিষ্টিমুখ” এবং (সরকারের ইস্যু কন্ট্রোল সিস্টেম)

এড. মোঃ সলীমুল্লাহ খান: একজনের ফেসবুক স্ট্যাটাসে দেখলাম দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদীর মামলায় সরকার পক্ষের আপীলের শুনানীর রায়ের তারিখ এগিয়ে আনা হয়েছে তিনি দাবী করেন যে,ফাঁসির আদেশ দেয়া হবে, মানুষ আবার এই ইস্যুতে ঝাপিয়ে পরবে আর এই ফাঁকে ভারতের সাথে একতরফা দেশের স্বার্থ বিরুধী বিভিন্ন চুক্তি এবং প্রতিরক্ষা চুক্তিসহ ৩৫ টি চুক্তি সই হবে, সরকারের ইস্যু কন্ট্রোল সিস্টেমের অংশ হিসাবে সাঈদীর ফাঁসি ঘোষণা করা হবে।

যিনি এই স্ট্যাটাসটি দিয়েছেন তিনি সাঈদীর সমর্থক তাতে কোন সন্দেহ নাই, কিন্তু তিনি যে সিস্টেমের কথা বলেছেন তাতেও কোন সন্দেহ নাই। সরকারের এ যাবতকালের যতগুলো রায় দেয়া হয়েছে ঠিক সে সময়েই কোন একটা ইস্যুকে দামাচাপা দেয়া হয়েছে। সাঈদীর মামলার রায়ের প্রতিবাদের আন্দোলনে নিহত হয়েছিলো প্রায় ৩৫০ এর উপরে, আহত হয়েছিলো প্রায় ১০ হাজার, গ্রেফতারও প্রায় ১০ হাজার, রাষ্ট্রীয় সম্পদ ধ্বংস হয়েছে অপরিগনিত, শুধু গাছ কাঁটা হয়েছিলো অনুমান প্রায় ত্রিশ হাজার। কথিত আছে তখন ঘাদানিক নেতা শাহরিয়ার কবির জানিয়েছিলেন যে পরিবেশের বিরাট ক্ষতি যা অপূরণীয়। তবে আলোচনায় আসছে এই ত্রিশ হাজার গাছের পরিণতি সম্পর্কে জানা গেছে পুলিশ ও আওয়ামীলীগের নেতারা গাছ গুলো বিক্রয় করে টাকাটা ক্যাশ করে নিয়ে গেছে।

যদি এবারও একই সিস্টেম হয় তাহলে মানসিকভাবে তৈরী থাকতে হবে দেশের সম্পদ খোয়ানোর জন্য, তৈরী থাকতে হবে ব্যাপক প্রাণহানি আর ধ্বংসযজ্ঞ দেখার জন্য। এই মামলার প্রত্যাক্ষদর্শি সাক্ষী যখন সাঈদীর পক্ষে সাক্ষ্য দিলেন তখন সাক্ষীকে আদালত অঙ্গন থেকে উধাও অর্থাৎ গুম করা হয়েছে, কিছু মানুষ ছিয়ে দিলো সাঈদীকে চাঁদে দেখা গেছে, যদিও এ প্রচার জামাত শিবির নিজেরা করে নাই বলে বিজ্ঞপ্তি দিয়েছিলেন। এমনকি সাঈদী পরিবারের পক্ষ থেকে এটা গুজব বলে সাক্ষাৎকার দিয়েছিলেন সাঈদীর ছেলে যিনি বর্তমান উপজেলার চেয়ারম্যান।

সাঈদীর বড় ছেলে রফিক বিন সাঈদী আদালত চলা কালে হার্ট এ্যাটাকে মারা যান, সে সময়ে সাঈদীকে প্যারলে জানাজা দেয়ার জন্য আনা হলে তিনি মুনাজাতের মাধ্যমে বিরাট বক্তব্য তুলে ধরেছিলেন, কারাঘারে থাকা অবস্থায় সাঈদীর মাতাও ইন্তেকাল করেন, সাঈদীর জেলখানা থেকে লেখা প্রায় ৫৫০ পৃষ্ঠার একটি গ্রন্থ প্রকাশিত হয়েছিলো এবং উনার একজন ছেলেই এটার সম্পাদনা করেছিলেন। তবে এই বইটা পরে নিষিদ্ধ হয়েছিলো বলেই জানি, কেননা জেলখানায় থাকাবস্থায় জেল কোড অনুযায়ী থাকবস্থায় এ ধরনের প্রকাশ নিষিদ্ধ।  মেজর জলিল জেলখানায় থাকাবস্থায় তিনি উনার আদর্শিক মতবাদের বিশ্বাস পরিবর্তন করেছিলেন, আমি তখন ছোট তবু মনে আছে ছোটরা সরকারী কলোনী কুমিল্লা, জেল খানার প্রাচীর ঘেষা মাঠে আমরা খেলতাম ছোট গোল পোষ্টের শুধু পায়ের খেলা মানে গোল কিপারও পায়ে খেলবেন হাতের ব্যবহার নেই।

আবার দেখা যেত টেপ টেনিস ক্রিকেট খেলা হতো, তখন প্রায় সময় বল চলে যেত জেলখানার ভিতর, তখন কলোনীর পশ্চিম পাশে তিন তলা বিল্ডিং এর ছাদে উঠে আমরা বল ফেরত চাইতাম, তখন জেল পুলিশ বা হাজতী কয়েদীরা বল ফেরত দিতেন আমরা হাততালি দিয়ে তাদের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানাতাম। তখন বড় বাবরী চুল ও বড় দাড়িওয়ালা একটা আনকমন লোককে বিকা়ল বেলা হাটতে দেখতাম তখন জানতে পারলাম লোকটির নাম মেজর জলিল। তিনি যখন মুক্তি পান তখন জেলে বসে লেখা বই ছাপালেন ”অরক্ষিত স্বাধীনতাই পরাধীনতা” ”কৈফিয়ত ও কিছু কথা” ”ইসলামী ঐক্য ইসলামী আন্দোলন” জানামতে এই বই গুলো প্রকাশিত হয়।

জামাত নেতা গোলাম আযমকে যখন ১৯৯২ সালে নাগরিকত্ব মামলায় গ্রেফতার করা হয় তখন তিনিও কয়েকটি বই লেখেন যেমন- ”দুনিয়া মুমিনের জেলখানা” ”ইসলামী আন্দোলনে বায়াতের মর্যাদা” তারপর উনার নিজের জীবন নিয়ে লেখা বই সম্ভবত কয়েক খন্ডে প্রকাশিত হয়েছিল ”জীবনে যা দেখলাম” যার মধ্যে উনার জেলখানায় থাকার অনেক কথাই লিখেছিলেন। এই যুগের নবীন নেতা গোলাম মাওলা রনী তিনি এমনিতেই ভালো লেখক, জেলখানার অভিজ্ঞতা নিয়া তিনিও বেশ কয়েকটা কলাম লিখেছিলেন অনেক তথ্য পাওয়া যায় উনার লেখায়।

আগে শুনতাম জেল না খাটলে নেতা হওয়া যায়না, যদিও বর্তমান আমলে নেতাগিরি করলে জেল খাটার চাইতে গুম ক্রসফায়ারের আশংকা বেশী। অগনিত নেতার কোন হদিছ নাই, অনেক নেতা আছেন ভারতের বিভিন্ন জেলখানা ও মানসিক হাসপাতাল বা পাগলা গারদে। বাংলাদেশের এ পরিস্থিতি আর কতদিন চলবে মাৱষের মনে এক ধরনের অস্থিরতা বিরাজ করছে।

এরপর দেখা যায় এক দলের নেতার ফাঁসি অন্য দলের নেতা কর্মীরা মিষ্টি বিতরন ও উল্লাস করেন, খুবই নোংরামী দেখা যায় যখন ঠিক জেল গেটের সামনেই এক পক্ষ উল্লাসকারীর বেহায়াপনা স্বয়ং আইন শৃংখলা বাহিনীর সামনেই। শাহবাগে করেন একেবারে জেলগেটের সামনে কেন, কেন ফাঁসির আসামীর স্বজনরা নিরাপত্তাহীন লাঞ্ছনার শীকার হবেন।

প্রথমে জানাজা দেয়ার ইচ্ছা সময় দেয়া হতো এখন নাই, পুলিশ প্রহরায় দাফন, কবর জিয়ারত করতে গিয়ে গ্রেফতার হতে হয়, এই রকম পরিস্থিতিতে যদি সাঈদীর ফাঁসী হয় তাতে বুঝাই যায় আরেকটি অনাকাংখিত সংঘর্ষ। তার মানে কিন্তু এইনা বিচার করা বন্ধ হউক, চাই সম নাগরিক অধিকার। বিচারের পর তার সাথে কিসের শত্রুতা তখন তাদের ফাঁসীর সামনে গিয়ে উল্লাস এবং মিষ্টি খাওয়া সঠিক কাজ নয় দূরে থেকে করেন। তাদের স্বজনদের জানাজা পড়ার বিষয়ে সঠিক সময় না দেওয়া মানবতা বিরুধী কর্ম, দেয়াই মানবতাপূর্ণ কাজ। তাই আসন্ন ফাঁসীর ইস্যুতে সকল পক্ষকে নিজেদেরকে সীমার মধ্যেই রাখার জন্য সচেষ্ট হওয়া হবে উচিত কর্ম, আল্লাহ সকলকে ধৈর্য্য ধরার তৌফিক দান করুন” #আমিন’

লেখক, এড. সলিমুল্লাহ খান
rosegarden.khan@gmail.com

সংবাদ সম্পর্কে আপনার মতামত দিন