”আমরা ঈমানের ভান্ডারকে এমনি শূন্য করছি যে, জাতীয় ঈদগাহ ময়দানে মূর্তি বসিয়ে দিয়েছি”

নিজের উপলব্দি থেকে লিখেছেন, এড. মোঃ সলীমুল্লাহ খান

এড. মোঃ সলীমুল্লাহ খান: পৃথিবীতে মূর্তির প্রয়োজনীয়তা কি? তাহার উত্তর একবাক্যে নাই, একমাত্র ইসলাম ধর্মেই দেশ ও দশের পক্ষে, সত্যের পক্ষে যদি কেউ তার জীবনকে উৎসর্গ করে তারমানে এইনা আত্মঘাতী হবে। বস্তুবাদীগন বিশ্বাস করে মালিক আর শ্রমিকের দ্ধন্ধের ইতিহাস হলো পৃথিবীর ইতিহাস। কেউ বলবে ধনী আর গরীবের দ্ধন্ধের ইতিহাস, কেউ বলে শোষক আর শোষিতের ইতিহাস। আর ইসলাম বলে ”সত্য ও মিথ্যার দ্ধন্ধের ইতিহাসই হলো পৃথিবীর ইতিহাস”।

ইসলামে শুধু যারা সত্যের জন্য জীবন দান করে তাদেরকে শহীদের মর্যাদা দিয়েছেন। সহীহ আল বুখারী শরীফের প্রথম খন্ডের প্রথম হাদীসেই এই শহীদের শাহাদাত কবুল হবেনা যার নিয়তে ছিলো তার নামে সৌদ হবে স্তম্ভ হবে। তারপরও আমরা শহীদ মিনার নাম দিয়ে ইসলাম বিরুধী কাজই করছি আর যারা শহীদ হলেন তাদের কবরের আজাব বৃদ্ধির কাজ করছি। হুজুর বলে যারা দাবী করি, তারাই নিজেদের স্বার্থে ইসলামকে বিক্রি করতে দ্বিধাবোধ করিনা। নারী নেতৃত্ব হারাম মহিলা হলো তেঁতুল, আবার হাত মেলাতে যাই, আসলে সবই লাভ ও লোভের খেলা।

পৃথিবীর ক্ষমতা দখলের প্রতিযোগিতায় বিভিন্ন দেশ কি চিন্তা করছে, আর আমরা আজ প্রায় ৪৬ বৎসর হলো স্বাধীনতা লাভ করেছি এখন পর্যন্ত দেশটাকে গড়ার জন্য বা উন্নতির জন্য স্থায়ী কোন নীতি ঐক্যবদ্ধ হওয়ার কোন কর্মসূচী কারোর মধ্যেই দেখিনা। শুধুই বিভাজন, ইতিহাস নিয়েও বিভাজন। এমন কোন বিষয় নেই যাকে নিয়ে দ্বিমত নেই। শিক্ষা নিয়ে এত মতভেদ থাকলে দেশ এগোবে কখন। এখন পর্যন্ত সবকিছুই পরীক্ষামূলক, স্থায়ী কোন নীতি নেই। একদল থাকবে কিভাবে ক্ষমতা দীর্ঘায়িত করা যায়, আর অন্য একটা দল থাকবে এইবারই যেনতেনভাবে কিভাবে ক্ষমতায় যাওয়া যায়। তাই আমি ব্যাসিক কোন পার্থক্যতো দেখিনা।

স্বৈরাচার বলে যাকে নামানো হলো তাকে আবার জোটে নিতে বা ক্ষমতা ভাগাভাগি করতে দ্বিধাবোধ করিনা। এই দোষেও দুই দলই সমান দোষী। কাজী জাফর প্রায় এরশাদকে নিয়ে এসে পরেছিলেন চারদলীয় জোটে। শেষে নিজে আসলেন এরশাদকে আনতে পারলেননা। আওয়ামী লীগ ল্যাং মেরে এরশাদকে নিজেদের পকেটে ঢুকিয়ে রাখতে পেরেছেন। বিগত স্বৈরাচার তিনি হলেন বর্তমান সরকারের বিশেষ দূত। আর যে জামাতের ইস্যু বা কথিত গোলাম আযমের ব্রেইন চাইল্ড কেয়ারটেকার সরকারের ফর্মূলা তার সাথে ঐক্যমত্য হয়ে ১৯৯৬ সালে দীর্ঘ ২১ বছর পর ক্ষমতালাভ করেন। কিন্তু নিজেদের পুরাতন চেহেরা প্রকাশ হবার পর ২০০১ সালে সর্বময় ক্ষমতা নিয়ে চারদলীয় জোট ক্ষমতায় আরোহন করে। জামাত এবার পতাধারী মন্ত্রীত্ব পায়। এটা নিয়া যতটুকু ইস্যু না তার থেকে ইস্যু তৈরী হয় হাওয়া ভবন ও কিছু লোকের তারেক রহমানকে পূজি করে বিজনেস মানসিকতা। এরপর মানুষ দেখেছে কিভাবে লগী বৈঠার তান্ডব। এরপর সেনা সমর্থিত সরকার কেউই তুলসীপাতা নয়, তারা মাইনাস টু ফর্মূলা করতে চাইলেন। তবে খালেদা জিয়ার কারনে মাইনাস টু তো দূরে থাক, মাইনাস ওয়ান করতে পারতেন তিনি তাও করতে দেননি। এরপরের ইতিহাস সবার জানা, ক্ষমতায় টিকে থাকতে জলিল সম্পাদক থাকতেও এই হুজুরদের সাথে মিটিং হয়েছিলো, এখন আবার হয়েছে।

কওমীদের সনদ দেয়া হবে কিন্তু সনদ দিয়ে তারা কি করবেন, কিভাবে করবেন কেউ ভেবেছেনকি। এটাও মূর্তি আর ভাষ্কর্যের মত অবস্থা। এই মূর্তির পিছনে প্রতিটি জেলায় এতো এতো বাজেট কিন্তু আমাদের কৃষ্টি কালচারে কি এসবের কোন স্থান আছে নাকি কখনো হবে। তারপরও এসব কাদের জন্য। মুসলিমরা কখনো মুশরিকদের সাথে হাত মেলাতে পারেনা। যেমন আহলে কিতাব যারা তাদের মধ্যে বিয়ে পর্যন্ত জায়েজ এটা স্বয়ং প্রধানমন্ত্রী সংসদে বলেছেন। তার মানে তিনি জানেননা বা বুঝেননা তা হতেই পারেনা। তাহলে এইভাবে মূর্তি বানানোর জন্য কেন মুসলিম দেশের ধনরাশি ব্যয় করা হবে। এর জবাবদিহি কে করবে। আমাদেরকে মূর্তির পক্ষে বিপক্ষে লাগিয়ে টাইম পাস করা, ইসলাম বলেছে ”মূর্তি বানানো দূরে থাক মূর্তির নিকটেও যেওনা”।

আর বর্তমানে যে মূর্তি বা ভাষ্কর্য নিয়ে যা চলছে তা কি আমাদের মূর্খতা নয়। কিসের ঐক্যমত কিসের মূর্তি, আমাদের পবিত্র জাতীয় ঈদগাহ মাঠ থেকে এটা এক মিনিটে পারলে সরিয়ে ফেলুন।

এটা গ্রীক জাষ্টিসিয়া কিংবা জাপানের থেমিস কোনটাই হয়নি, এটাকে ভাষ্কর্য বললে ভাষ্কর্যকে অপমান করা হবে।
মৃণাল হক এই এক ব্যাক্তি ছাড়া পৃথিবীতে আর কোন লোক নেই। সুলতান সুলেমান সিরিজে দেখানো হয় যিনি ভাষ্কর্য বানানোর দায়িত্ব পান পছন্দ বা সঠিক হয়নাই তাই তার গর্দান যায় বা যাবে। এখানে গর্দান না নিলেও জরিমানা নেওয়া উচিত। এটাকে কাপড় পড়িয়ে ভাষ্কর্য না বানিয়ে মূর্তি বানানো হলো যে ব্যাক্তি মূর্তি আর ভাষ্কর্যের পার্থক্য জানেননা তাকে দিয়ে কেন পুরো দেশ ভর্তি করে ফেলা হচ্ছে। বঙ্গবন্ধুর যতগুলো তিনি তৈরী করেছেন মনে হয়না একটাও সঠিক হয়েছে। আমার কথা বিশ্বাস নাহলে বিশেষজ্ঞ দল দিয়ে তদন্ত করুন, অযথা কোনটা শেখ মুজিব কোনটা ওসমানী তিনি মাঝে দু একটা জেলাতে এমন খারাপ কাজ করেছেন। তাকে জরিমানা ও প্রতিস্থাপনের নির্দেশ দেওয়া উচিত।

যদি ইসলামী দৃষ্টিকোণ থেকে বলি তাহলে আমরা সবাই একমত হবো, যদি আগের রাজা বাদশাহদের দেখি যারা হক পন্থি ছিলেন তারা তো মসজিদ, মিনার তৈরী করে গেছেন। পুরো ভারত মুসলিম শাসকদের গড়া পুরাকীর্তিতে ভরা, আর যারা শয়তানের অনুসারী ছিলেন তারাই শুধু নিজেদের মূর্তি তৈরী করতেন। সে জন্য আল্লাহ ফেরাউনকে তাজা মূর্তি বানিয়ে রাখার ব্যবস্থা করেছেন, মানুষ ৪৫ ডলার দিয়ে টিকেট কেটে তাকে দেখে, তা দেখেও কি আমাদের ঈমানী চেতনা জাগ্রত হয়না”?

আর কি বলবো তেঁতুল হুজুরদের কথা, তাদের আর এরশাদের মধ্যে আর খুব বেশী পার্থক্য নজড়ে পরেনা, যত্তোসব ফা ল তু….

সংবাদ সম্পর্কে আপনার মতামত দিন