আমার পন্ডিত প্রিয়জনেষুরা: প্রসঙ্গ এস এস সি

এড. মোঃ সলীমুল্লাহ খান: এস,এস,সি ‘র রেজাল্ট নিয়ে কিছুই লেখতে ইচ্ছে করছেনা, কুমিল্লা বোর্ডের রেজাল্ট কেন এতোটা খারাপ হলো, তার একটাই উত্তর তারা পড়া লেখা ভালো করে করতে পারে নাই। এবার তো আর বি,এন,পি’র আন্দোলনের দোহাই দিতে পারবেননা। কেননা গত এক বছরে বিরোধী দলের তেমন কোন কর্মসূচীই ছিলোনা। তবে সরকারের বিভিন্ন নাটকীয় কর্মসূচী ছিলো তবে তা এস,এস,সি ‘র ছাত্র/ছাত্রীদের উপর প্রভাব ফেলার কথা নয়।

আপনারা সবাই জানেন মিঃ নাহিদ হলেন শিক্ষা মন্ত্রী। তবে পাঠ্যপুস্তকের ভুল দিয়ে বছর শুরু, সীলেবাস দিতে চার মাস সময় পাড়, এগুলোও কিন্তু এইবারের এস,এস,সিতে প্রভাব ফেলার কথা নয়। রেজাল্ট দেখে আতংকিত ছাত্র/ছাত্রীরা। কেউ বেহুশ হয়ে কুমিল্লা জিলা স্কুল থেকে সোজা হাসপাতাল, কেউ ঘুমের টেবলেট খেয়ে হাসপাতালে, কেউ বেছে নিলেন আত্মহননের পথ। বোনের মেয়েকে রেল লাইন থেকে নামাতে গিয়ে লাশ হলেন খালা ভাগ্নী দুজনই। এতো বড় ধ্বস নামার পিছনে মূল কারণ কি তা খতিয়ে দেখার প্রয়োজন আছে।

প্রথমে শিক্ষা পদ্ধতি নিয়ে বার বার পরীক্ষামূলক পদ্ধতির ব্যবহার। এরপর আগের অনেক প্রসিদ্ধ গল্প , কবিতা বাদ দিয়ে নতুন ধারার লেখা পড়া চালু, বাংলাদেশ মুদ্রণ শিল্পের বিকাশ উপরের দিকে তারপরও ভারত থেকে বই ছাপাতে দেয়া। তাতে কি ছাপা হলেইতো হলো। কিন্তু বইয়ের দু একটি ভাষা পরিবর্তন হলো কিভাবে। আমরা বাংলাদেশে কখনো সামাজিক কিংবা বইয়ের ভাষায় ”লবন” কে ”নুন” বলিনা এটা পশ্মিম বংগের ভাষা। দেখা যায় বইয়ে লবনে বদলে নুন ছাপা হলো, এটার উত্তর যেমন শিক্ষা মন্ত্রী দিতে পারবেননা, তেমনি পাশের হার কমলো কেন তার উত্তরও তিনি দিতে পারবেননা।

তবু যতটুকু জেনেছি বুঝেছি, এবার প্রশ্নপত্র নিয়ে মাথা না ঘামিয়ে নাকি তারা উত্তরপত্র মূল্যায়ণ পদ্ধতির উপর কাজ করেছেন। তাহলে আপনাদের মনে হয় আস্তে আস্তে বুঝে আসতেছে বিপর্যয়ের কারণটা কি। শিক্ষকদের উপর পেশার বেশী মার্ক দিলে ধরা খেলে চাকুরী ঝুলবে, তখন তারা মনে মনে যেটা ৮ দেওয়ার কথা ভেবেছিলেন সেখানে ৬ দিয়েও চিন্তায় আচ্ছন্ন। এরপর বিশজন খাতাটা পূনমূল্যায়ণ করেছেন এই নিয়তে কারা বেশী নম্বর দিয়েছেন। কোথাওতো ভুলে কম নম্বর দিতে পারে এটা তাদের মাথায় ঢুকানো হয়নাই। বিশজন ‘দি নিজেদের পান্ডিত্য জাহির করতে গিয়ে ১ নম্বর করেও কমিয়ে থাকেন তাহলে কমে গেল ২০ নম্বর, তাহলেতো পাশ কমবেই।

তাই আমি মনে করি ধমকে কমেছে প্রতি প্রশ্নের উত্তরে ২ নম্বর, তাহলে এখানে কমলো ২০। আর ২০ পন্ডিতের পদ্ধতিতে কম পেল ২০ নম্বর, তাহলে কমলো কতো ৪০ নম্বর।

এটাকে যদি প্র্যাডিকশণ মনে করি তাহলেও অন্তত ২০ কমেছে এই পদ্ধতিতে তাই, উত্তর পত্র মূল্যায়ণের এই টুইন্না মাতবরির পদ্ধতি এবারই যেন বাতিল করা হয়। যত্তোসব আহাম্মকের দলকে দিয়ে রেখেছে শিক্ষা ব্যবস্থার ১৪ টা বাজানোর জন্য। শিক্ষার্থীদের জীবনের দাম দিতে বলবোনা অন্তত সময়টাও যদি ফেরত চাই দিতে পারবেন। আমার পন্ডিত প্রিয়জনেষুরা???

সংবাদ সম্পর্কে আপনার মতামত দিন