আমার ভাষা আমার অহংকার

ইসমাইল হোসেন স্বপন, ইতালী থেকে: নিজস্ব ভাষা ও সংস্কৃতি প্রবাসে বেড়ে উঠা সকল শিশু কিশোরদের মাঝে এবং বিশ্বের দরবারে ছড়িয়ে দেবার লক্ষ্যে নিরলস ভাবে কাজ করে চলেছে ইতালির রোমে অবস্থিত সঞ্চারী সংগীতায়ন । ইতালি ভাষার পাশাপাশি সুন্দর ও সঠিক উচ্চারনে বাংলা ভাষা শিখাতে ও বাংলা সংস্কৃতির প্রতি আগ্রহ বাড়িয়ে তুলতে সঞ্চারী সংগীতায়ন প্রতিবারের ন্যায় মায়ের ভাষা বাংলাকে প্রতিষ্ঠা করতে যারা প্রান দিয়েছেন সেই সকল ভাষা শহীদের স্মরণে মহান শহীদ দিবস ও আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস উপলক্ষে গত ১৯ শে ফেব্রুয়ারি রবিবার ইতালির রোমে বাঙালি অধ্যুষিত তরপিনাতারা এলাকায় Asinitas (centri interculturali con i migranti) মিলনায়তনে শিশুদের চিত্রাঙ্কন “সবাই মিলে ছবি আঁকি” ও এক বহুজাতিক সাংস্কৃতিক সন্ধ্যার আয়োজন করে ।

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসাবে উপস্থিত ছিলেন ইতালীতে নিযুক্ত গন প্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের মান্যবর রাষ্ট্রদূত আবদুস সোবহান সিকদার এবং বিশেষ অতিথি হিসাবে উপস্থিত ছিলেন ইতালির বিশিষ্ট সঙ্গীতজ্ঞ সারা মদিলিয়ানি ও আসিনিতাসের চিচিলিয়া বেরতলনি। প্রধান অতিথি তাঁর বক্তব্যে বলেন সঞ্চারী আগামী দিনে মায়ের ভাষাকে নতুন প্রজম্মের মাঝে সমুন্বত রাখতে যে দায়িত্বশীল ভুমিকা পালন করছে তা সত্যি প্রশংসার দাবিদার । তিনি আরও বলেন যার যার ভাষা তাঁর নিজস্ব কৃষ্টি ও সংস্কৃতি বহন করে যা তাঁর নিজস্ব স্বকীয়তায় প্রকাশ পায় ।

অনুষ্ঠানে এ ছাড়াও সংক্ষিপ্ত বক্তব্য রাখেন বিশিষ্ট রাজনৈতিক ও সাংস্কৃতিক ব্যাক্তিত্ব কীটন সিকদার, সামাজিক সংগঠন ধুমকেতুর কর্ণধার নূরে আলাম সিদ্দিকী বাচ্চু, বৃহতর ঢাকা সমিতির সভাপতি কাজী মনসুর আহমেদ শিপু , ইপিবিএ – এর ইতালী শাখার সাধারণ সম্পাদক জসিম উদ্দিন এবং সুলতানা ফ্যাশন এর স্বতাধিকারী ফাহমিদা সুলতানা লিপি। আগত অতিথিরা সঞ্চারী সংগীতায়নের এ আয়োজনের ভূয়সী প্রশংসা করেন এবং ভবিষ্যতে এ ধরনের আয়োজনে সর্বাত্মক সহযোগিতার আশ্বাস দেন ।

বিকেল ৩.৩০ মিনিটে ছবি আঁকার মধ্য দিয়ে অনুষ্ঠানটির সূচনা হয়। বাঙালি ও বিভিন্ন দেশের শিশুরা এই ছবি আঁকায় অংশ গ্রহন করে। পরে ভাষা শহীদদের স্মরণে সংগীত ও নৃত্য পরিবেশন করে সঞ্চারীর শিক্ষার্থীরা । উক্ত অনুষ্ঠানে ইতালিস্থ বিভিন্ন ভাষাভাষীর ক্ষুদে ও বড় শিল্পীরাও বাংলাদেশের বাঁধন, পেরুবিয়ান, চীন, রোমানিয়া, ইতালি প্রভৃতি , সে-স্তাভসে, কুইন্তা আউমেন্তাতা, করো রোমোলো বালজানি, বাংলা ও বিভিন্ন ভাষায় সংগীত পরিবেশন করে শ্রদ্ধা জানায় ভাষা শহীদদের প্রতি।

সঞ্চারীর কর্ণধার সংগীত শিল্পী সুস্মিতা সুলতানা ও চিত্র শিল্পী ইফতেখারুল আলম কনক নানা প্রতিকূলতার মধ্যে স্কুলটি চালিয়ে যাবার চেষ্টা করছেন। তাদের বিশ্বাস সকল সামাজিক, রাজনৈতিক, আঞ্চলিক অঙ্গ সংগঠন ও অভিভাবকদের সহযোগিতা পেলে বাংলা সংস্কৃতি নতুন প্রজন্ম ও বিদেশীদের মাঝে তুলে ধরতে পারবেন।

সংবাদ সম্পর্কে আপনার মতামত দিন