আ’লীগের ক্ষমতার ৯ বছরে এত খুন এত মামলা

সময়বাংলা ডেস্ক: সরকারি দলের এমপিদের পৃষ্ঠপোষকতায় নির্যাতনের শিকার আওয়ামী লীগের কর্মীরাই ব্যবস্থা না নিলে আগামী নির্বাচনে ভয়াবহ সংকট দাঁড়াতে পারে মনে করেন বিশেষজ্ঞরা।

আওয়ামী লীগের ক্ষমতার ৯ বছরে রাজধানীর পার্শ্ববর্তী রূপগঞ্জে দলীয় নেতা-কর্মীদের বিরুদ্ধে মামলা হয়েছে দুই হাজার ৭০০-এর বেশি। এই অভিযোগ আর কারও নয়, রূপগঞ্জে উপজেলা আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক শাহজাহান ভূইয়ার। একইভাবে যশোরের এক উপজেলায় আওয়ামী লীগের শাসনকালে দলের ৪৫ জন নেতা-কর্মী খুন হয়েছেন। শুধু রূপগঞ্জ কিংবা যশোরের একটি উপজেলায় নয়, দেশের এমন চিত্র ৭০টির বেশি নির্বাচনী এলাকায়। শতাধিক আসনে এখন আওয়ামী লীগের প্রধান প্রতিপক্ষ আওয়ামী লীগ।

একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন সামনে রেখে দলের হাইকমান্ড যখন ভোট ও জনপ্রিয়তা বাড়াতে গণসম্পৃক্ততামূলক কর্মকাণ্ডের ওপর জোর দিচ্ছে, তখন বিনাভোটের নির্বাচিত কিছু এমপি অন্য দলের চেয়ে নিজ দলের নেতা-কর্মীদের শায়েস্তা করতে বেশি ব্যস্ত। সাভারের আওয়ামী লীগ নেতা-কর্মীরা স্থানীয় এমপির বিরুদ্ধে এর আগে দলের কেন্দ্রীয় সাধারণ সম্পাদকের কাছে অভিযোগ করেছিলেন। লালমনিরহাটের হাতিবান্ধা আওয়ামী লীগের নেতা-কর্মীরা স্থানীয় এমপির অনিয়ম, স্বেচ্ছাচারিতার অভিযোগ করেই আসছেন । কিন্তু কোনো প্রতিকার নেই। ঢাকার কামরাঙ্গীরচরে ছাত্রলীগের সাবেক সহসভাপতিকে ইয়াবা মামলায় জেলে পাঠানোর অভিযোগ উঠেছে স্থানীয় এমপির বিরুদ্ধে। নোয়াখালীর হাতিয়ায় আয়েশা ফেরদৌস এমপির স্বামী ও সাবেক এমপি মোহাম্মদ আলীর বাহিনীর হাতে গত দুই বছরেই আটজন দলীয় নেতা-কর্মী প্রাণ হারিয়েছেন বলে অভিযোগ স্থানীয় আওয়ামী লীগের। শুধু এমপি-মন্ত্রীরাই নয়, এ প্রতিযোগিতায় এগিয়ে রয়েছেন বিভিন্ন জেলা-উপজেলার শীর্ষ নেতা, দলীয় চেয়ারম্যান ও মেয়ররাও। এসব নেতা নিজের পদ-পদবি, আধিপত্য ধরে রাখা, ব্যবসা-বাণিজ্য, টেন্ডার ও চাঁদাবাজি নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠায় অভ্যন্তরীণ খুনোখুনিতে জড়িয়ে পড়ছেন।

রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, দলের ভিতরে থেকে দলের ক্ষতি সাধনকারীদের বিরুদ্ধে শক্ত অবস্থান না নেওয়া হলে আগামী নির্বাচনে আওয়ামী লীগের সর্বনাশ হবে আওয়ামী লীগকে দিয়েই। আওয়ামী লীগের ক্ষমতার দুই মেয়াদে ঢাকার পার্শ্ববর্তী রূপগঞ্জে দলীয় নেতা-কর্মীরাই হামলা-মামলার শিকার হয়েছেন বেশি। এ পর্যন্ত প্রায় ২ হাজার ৭০০ মামলা হয়েছে আওয়ামী লীগ, যুবলীগ, ছাত্রলীগ, স্বেচ্ছাসেবক লীগসহ দলের সহযোগী সংগঠনের নেতা-কর্মীদের নামে। এ প্রসঙ্গে রূপগঞ্জ উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও উপজেলা চেয়ারম্যান আলহাজ শাহজাহান ভূইয়া বলেন, ‘গত ৯ বছরে রূপগঞ্জে সবচেয়ে বেশি মামলা-হামলার শিকার হয়েছে আওয়ামী লীগ ও সহযোগী সংগঠনের নেতা-কর্মীরা। স্থানীয় এমপি গোলাম দস্তগীরের অন্যায়ের বিপক্ষে কথা বললেই তাদেরকে মামলায় জড়ানো হয়। এ পর্যন্ত দলীয় নেতা-কর্মীদের নামে হত্যা, বিস্ফোরক, চাঁদাবাজি, ছিনতাইসহ অসংখ্য মামলা করা হয়েছে এমপির নির্দেশে।’

গত ৮ মার্চ রূপগঞ্জে আওয়ামী লীগের দুই গ্রুপের সংঘর্ষে স্বেচ্ছাসেবক লীগ কর্মী সুমন গুলিবিদ্ধ হন। পরবর্তীতে হাসপাতালে মারা যান। এই ঘটনায় স্থানীয় এমপি নিজ দলের প্রতিপক্ষ রাজনৈতিক নেতাকে ফাঁসাতে মামলায় আসামি করেছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। স্বেচ্ছাসেবক লীগ কর্মী সুমন মিয়া হত্যা মামলার বাদী কাজলরেখা বলেছেন, রূপগঞ্জের সংসদ সদস্য গোলাম দস্তগীর গাজী আওয়ামী লীগে তার প্রতিপক্ষের রাজনীতিবিদদের ঘায়েল করতেই সুমন মিয়া হত্যা মামলা ভিন্ন খাতে প্রবাহিত করেছেন। গত ৯ বছরে রূপগঞ্জে অভ্যন্তরীণ কোন্দলে কমপক্ষে ২৫ জন নেতা-কর্মী প্রাণ হারিয়েছেন বলে জানিয়েছেন স্থানীয়রা। জানা গেছে, গত কয়েক বছরে রূপগঞ্জ উপজেলা চেয়ারম্যান ও উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আলহাজ শাহজাহান ভূইয়া, কায়েতপাড়া ইউনিয়ন চেয়ারম্যান আওয়ামী লীগ নেতা রফিকুল ইসলাম রফিক, মুড়াপাড়া ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আলিমুদ্দিন মিঞা, রূপগঞ্জ উপজেলা ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি তাবিবুল কাদির তমাল ও ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি মাছুম চৌধুরী অপু, উপজেলা ছাত্রলীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক খোকন, মুড়াপাড়া কলেজের সাবেক ভিপি মনির হোসেন ও সাবেক ভিপি শাহরিয়ার পান্না সোহেল, তারাব পৌরসভা যুবলীগের সাবেক সভাপতি আবদুল আউয়াল, গোলাকান্দাইল ইউনিয়ন ছাত্রলীগের ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক কামাল হোসেন, কায়েতপাড়া ইউনিয়ন ছাত্রলীগের সভাপতি লুত্ফর রহমান মুন্নাসহ প্রায় দুইশ নেতা-কর্মীর নামে হত্যা, ছিনতাইসহ বিভিন্ন মামলা দায়ের করা হয়েছে। ঢাকার কামরাঙ্গীরচরে স্থানীয় এমপির বিরুদ্ধে কথা বলা এবং নিজ দলের প্রতিপক্ষ শাহীন চেয়ারম্যানের গ্রুপ করায় মামলা দিয়ে জেলহাজতে পাঠানো হয়েছে ছাত্রলীগের সাবেক সহসভাপতি আলতাব হোসেন খোকনকে। একইভাবে শাহীন গ্রুপ করায় হামলা ও মামলা শিকার হয়েছেন ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি সাইফুর রহমান রতন। তিনি বলেন, ‘স্থানীয় এমপি কামরুল ইসলামের গ্রুপ না করায় আমার ওপর হামলা করা হয়েছে। শুধু হামলাই নয়, মামলা করা হয়েছে আমার নামে। বর্তমানে এমন পরিস্থিতি হয়েছে, দল ক্ষমতায় আর আমরা যেন বিরোধী দলে।’

নোয়াখালীর হাতিয়ায় চলছে সাবেক এমপি মোহাম্মদ আলীর শাসন। তার বিরুদ্ধে গেলে এলাকায় ঢুকতে বাধাসহ বিভিন্ন মামলায় জড়ানো হচ্ছে আওয়ামী লীগ নেতা-কর্মীদের। মোহাম্মদ আলীর স্ত্রী আয়েশা ফেরদৌস সংসদ সদস্য। মোহাম্মদ আলীর বাহিনীদের তাণ্ডবে গত দুই বছরে কেন্দ্রীয় যুবলীগ নেতাসহ অন্তত আওয়ামী লীগের আট নেতা-কর্মী খুন হয়েছেন। তার বাহিনীর সশস্ত্র হামলা থেকে রেহাই পায়নি সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ও। হাতিয়া পৌর আওয়ামী লীগ সভাপতি ছাইফ উদ্দিন আহমদ বলেন, ‘হাতিয়ায় মোহাম্মদ আলীর শাসন খুলনার খুনি এরশাদ শিকদারকেও হার মানায়। তার অর্ডার ছাড়া গাছের পাতাও নড়ে না। তার অন্যায়ের বিরোধিতা করলেই হামলা-মামলার শিকার হচ্ছেন দলীয় নেতা-কর্মীরা। দল মনোনীত ছয়জন ইউপি চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে হত্যাসহ ৮-১০টি করে মামলা দায়ের করেছেন তিনি। এ উপজেলায় কমপক্ষে ২০০ দলীয় নেতা-কর্মী হুলিয়া নিয়ে ঘুরছেন।’ তিনি বলেন, আয়েশা ফেরদৌস এমপি হলেও মূলত মোহাম্মদ আলীই শাসন করেন এ এলাকায়। গত চার বছর ধরে কোনো হাটবাজারের টেন্ডার হয় না। নাম মাত্র টোকেন মানি সরকারকে দেওয়া হচ্ছে, যা সরকার কোটি কোটি টাকার রাজস্ব হারাচ্ছে।

গত বছরের ৩০ মার্চ চরকিং ইউনিয়নের আফাজিয়া বাজারে কেন্দ্রীয় যুবলীগ নেতা আশরাফ উদ্দীন আহমেদ খুন হন। সেদিন মোহাম্মদ আলীর সমর্থন নিয়ে রবীন্দ্র বাহিনীর কয়েকজন প্রকাশ্যে তাকে গুলি করে বলে অভিযোগ আছে। পরে ৯ এপ্রিল ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মারা যান। গত বছরের ১৩ এপ্রিল উপজেলা আওয়ামী লীগের নেতা-কর্মীদের সঙ্গে এমপি আয়েশা ফেরদৌসের কর্মী ও সমর্থকদের ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া হয়। ঘটনাস্থলে গুলিতে নূর আলম নামের এক যুবলীগ কর্মী গুলিবিদ্ধ হয়ে মারা যান। ১৮ এপ্রিল চরকিং ইউনিয়নের স্থানীয় বাসিন্দা দক্ষিণ শুল্লকিয়া গ্রামের আলী আহাম্মদের ছেলে বাহার ডাকাতের অর্ধগলিত লাশ মেঘনা নদী থেকে উদ্ধার করা হয়। এ ঘটনায় উপজেলা আওয়ামী লীগের শত শত নেতা-কর্মীকে জড়ানো হয়েছে। একই বছরের ২১ ডিসেম্বর সন্ধ্যায় স্থানীয় আওয়ামী লীগ নেতা ও ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান আবদুল হালিম আজাদের মুক্তির দাবিতে মিছিল করলে মোহাম্মদ আলীর সমর্থকরা মিছিলে এলোপাতাড়ি গুলি করে। এতে গুলিবিদ্ধ হন চরঈশ্বর ইউনিয়নের পূর্ব গামছাখালী গ্রামের মো. ইব্রাহীমের ছেলে মো. মুরাদ উদ্দিন। উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকা মেডিকেলে আনা হলে চিকিৎসাধীন অবস্থায় চলতি বছরের ২০ জানুয়ারি তিনি মারা যান। ৩০ আগস্ট সকালে হাতিয়ার সোনাদিয়া ইউনিয়নের পূর্ব সোনাদিয়া গ্রামের বাসিন্দা ইউনিয়ন যুবলীগ নেতা ও স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যান হাজী নুরুল ইসলামের ব্যক্তিগত সহকারী রিয়াজ উদ্দীনকে প্রকাশ্যে পায়ের রগ কেটে ও গুলি করে হত্যা করে। এতে ঘটনাস্থলে তিনি নিহত হন।

জানা গেছে, উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি ও সাবেক সংসদ সদস্য ও উপজেলা চেয়ারম্যান অধ্যাপক ওয়ালী উল্যাহ, সাধারণ সম্পাদক ও চরকিং ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান আলহাজ মহিউদ্দিন আহাম্মদ, পৌর আওয়ামী লীগ সভাপতি অ্যাডভোকেট ছাইফ উদ্দিন আহমদ, ছাত্রলীগ সভাপতি নাজমুল ইসলাম রাজুসহ প্রতিটি আওয়ামী লীগের নেতার বিরুদ্ধে ২০-২৫টি করে মামলা দেওয়া হয়েছে। অন্যদিকে আওয়ামী লীগ নেতারা নির্যাতিত হয়ে থানায় মামলা করতে গেলে পুলিশ মোহাম্মদ আলীর অনুমতি ছাড়া কোনো মামলা নেন না বলে অভিযোগ উপজেলা আওয়ামী লীগের।

আওয়ামী লীগের ক্ষমতার সময়ে যশোর, কুষ্টিয়া, মাদারীপুর, শরীয়তপুরে সবচেয়ে বেশি খুনের শিকার হয়েছেন দলীয় নেতা-কর্মীরা। এ ছাড়াও সিরাজগঞ্জ, রাজশাহী, সিলেট, কুমিল্লা, সাতক্ষীরা, খুলনা, ঝালকাঠি, চট্টগ্রাম, কক্সবাজার, পিরোজপুর, টাঙ্গাইল, জামালপুর, ময়মনসিংহ, গাজীপুর, পাবনা, বগুড়া, দিনাজপুর, কুষ্টিয়া, মাগুরা, নাটোর, হবিগঞ্জ, ব্রাহ্মণবাড়িয়া, ঝিনাইদহ, চুয়াডাঙ্গাসহ কমপক্ষে ৪০টি জেলায় আওয়ামী লীগের অভ্যন্তরীণ কোন্দলে দুই শতাধিক নেতা-কর্মী হত্যাকাণ্ডের শিকার হয়েছেন গত কয়েক বছরে।

গত বছরের ২০ নভেম্বর সাতক্ষীরার আশাশুনি উপজেলার কৈখালিতে শোভনালী ইউনিয়নের ৯ নম্বর ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক সলেমান গাজীকে (৪০) গলাকেটে হত্যা করে দুর্বৃত্তরা। ২০ জানুয়ারি ফেনীর দাগনভূঞা পৌর স্বেচ্ছাসেবক লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক ফখরুলকে নিজ বাসা থেকে ডেকে নিয়ে হত্যা করা হয়। উপজেলার মাতুভূঞা বাজারের পাশের একটি ধানখেত থেকে তার মরদেহ উদ্ধার করা হয়। ১১ দিন মৃত্যুর সঙ্গে লড়ে গত ৭ মার্চ মারা যান ময়মনসিংহ জেলা ছাত্রলীগের সহসভাপতি আশফাক আল রাফী শাওন। গত ২৫ ফেব্রুয়ারি একজন ব্যবসায়ী রাজনীতিবিদের ছেলের সঙ্গে তার তর্কাতর্কি হয়। পরে সে গুলিবিদ্ধ হয় বলে জানা গেছে।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা বলছেন, জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আরও ৯ মাস সময় বর্তমান সরকারের হাতে রয়েছে। এই সময়ের মধ্যেই দলের অভ্যন্তরীণ কোন্দল নিরসন এবং ত্যাগী ও নির্যাতিত নেতা-কর্মীদের পাশে দাঁড়াতে হবে। লাগাম টানতে হবে ওইসব এমপি-মন্ত্রীদের, যারা বিনাভোটে এমপি হয়ে নিজ দলের নেতা-কর্মীদের দমন-নিপীড়নেই বেশি মনোযোগী হয়েছেন। ২০১৪ সালের নির্বাচনের মতো পরিস্থিতি পুনরায় ঘটনার সম্ভাবনা খুবই কম। এসব এমপি-মন্ত্রীর কারণে দলের চরম দুর্দিনে দলের হাল ধরে থাকা নেতা-কর্মীরা অভিমান করে বা কেউ কেউ হামলা-মামলার শিকার হয়ে দল থেকে দূরে সরে গেছে। তাদেরকে ভোটের আগে দলের সক্রিয় করতে হবে। তা না হলে নির্বাচনে ভয়াবহ সংকট সৃষ্টি হতে পারে বলে মনে করেন তারা।

সংবাদ সম্পর্কে আপনার মতামত দিন

এ বিভাগের আরো খবর