আ.লীগ সরকার ঘৃণা ও বিদ্বেষের রাজনীতি চর্চা করছে: মির্জা ফখরুল

>190215 mirja fakhrulসময় বাংলা, ঢাকা: আওয়ামী লীগ সরকার ঘৃণা ও বিদ্বেষের রাজনীতি চর্চা করছে বলে অভিযোগ করেছেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।
 
শনিবার রাজধানীর ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউশনে (আইইবি)ও সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে কাউন্সিলের স্বাগত বক্তব্য তিনি এঅভিযোগ করেন।
 
মির্জা ফখরুল বলেন, বর্তমান সরকার ক্ষমতাসীন হওয়ার পর থেকেই শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান, বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া এবং আগামীর নেতা তারেক রহমানের চরিত্র হননের জন্য এক ঘৃণ্য ষড়যন্ত্র শুরু করেছে। ক্ষমতাসীনরা ভালো করেই জানে এই তিনটি শুধু নাম নয়, বাংলাদেশের জনগণের আশা আকক্সখার প্রতীক। 
 
একারণেই আওয়ামী লীগ সরকার ঘৃণা ও বিদ্বেষের রাজনীতি চর্চা করছে। কিন্তু আমরা স্পষ্ট ভাষায় বলতে চাই বিএনপি ঘৃণার রাজনীতি করে না, বিএনপি বিশ্বাস করে ঘৃণা বিদ্বেষ মানুষের পতন ডেকে আনে,ধবংস করে দেয় সকল ওদ্ধত্যকে, যেমনটি ঘটেছে হিটলার-মুসোলিনীর ক্ষেত্রে।
 
 বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, বিএনপি একটি গণতান্ত্রিক রাজনৈতিক দল। বিএনপি হিংসা বিদ্বেষ, অগণতান্ত্রিক রাজনৈতিক কাজে বিশ্বাস করে না। বিএনপি রণাঙ্গণের মুক্তিযোদ্ধার দল। এ কারণেই মুক্তিযুদ্ধের অঙ্গীকার বাস্তবায়নে বিএনপি অনেক সংকল্পবদ্ধ, অনেক বেশি উদার রাজনৈতিক বিশ্বাসী দল।
 
তিনি বলেন, আমাদের দলের সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যান তারেক রহমান সেনা সর্মথন সরকারের আমলে কি ধরণের জুলুম অত্যাচারের শিকার হয়েছেন। শারীরিকভাবে প্রায় পঙ্গু করে দেওয়ার পরেও তিনি মাথা নত করেননি। আপোষ করেননি। একের পর এক মামলা দিয়ে তার জীবন অনিশ্চিত করে তোলা হয়েছে। ক্ষমতাসীদের জন্য চ্যালেঞ্জ বলেই তাকে দেশে ফিরতে দেওয়া হচ্ছে। কিন্তু শাসক দল জানে না, যেদিন বিজয়ীর বেশে তারেক রহমান দেশে ফিরবেন সেদিন কোটি মানুষের ভালোবাসা,সর্মথন তাকে গণতন্ত্রের এক বিজয়ী সেনাপতি হিসেবেই প্রতিষ্ঠিত করবে।
 
ফখরুল বলেন, অত্যন্ত পরিতাপের সঙ্গে আমরা লক্ষ করলাম ক্ষমতায় আসীন হয়েই বিএনপির বিরুদ্ধে প্রতিহিংসায় উন্মক্ত হয়ে উঠেছে আওয়ামী সরকার।
 
তিনি বলেন, বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া এদেশের একমাত্র নেত্রী যিনি সামরিক স্বৈরশাসক এরশাদের বিরুদ্ধে গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার লড়াইয়ে নেতৃত্ব দিয়েছেন,দেশে পার্লামেন্টারী পদ্ধতির গণতন্ত্র পুন:প্রতিষ্ঠা করেছেন, সেনা সর্মথিত সরকারের বিরুদ্ধে গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারের আন্দোলন করেছেন, এবং এখনও তিনি গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার জন্য আপোষহীন লগাই চালিয়ে যাচ্ছেন। বাংলাদেশে খালেদা জিয়া মানেই গণতন্ত্র,গণতন্ত্র মানেই খালেদা জিয়া।
 
তিনি বলেন, বর্তমান নির্বাচন কমিশনের অধীনে কোনে নির্বাচন অবাধ ওসুষ্ঠ হবে না তাই বিএনপি এই নির্বাচন কমিশন ভেঙ্গে দিয়ে জাতীয় ঐক্যমত্যের ভিত্তিতে একটি নিরপেক্ষ এবং দলীয় প্রভাব মুক্ত নর্িাচন কমিশন গঠনের আহবান জানিয়েছি।
 
ফখরুল বলেন, বাংলাদেশে মানবাধিকার আজ চরমভাবে লংঘিতবিচার বর্হিভূত হত্যাকাণ্ড,গুম,খুন এখন নিত্য নৈমিত্তিক ঘটনা।বিনা বিচারে দীর্ঘকাল আটেক রাখা এখন স্বাভাবিক ঘটনা হয়ে দাড়িয়েছে। যা এখন উদ্বেগের বিষয়।
 
তিনি বলেন, বিএনপি বিশ্বাস করে, মত প্রকাশের স্বাধীনতা ও গণতান্ত্রিক ক্ষেত্র সংকুচিত হলে সন্ত্রাসবাদ ও জঙ্গীবাদ নির্মূল করা সম্ভব হবে না।উপরন্ত তাকে উসকে দিতে সাহায্য করবে।তাই গণতান্ত্রিক পরিবেশ সৃষ্টি করে রাজনৈতিক দলগুলোকে সুস্থ রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড পরিচালনার সুযোগ দিতে হেএ।এর কোনো বিকল্প নেই।
 
ছয়বছরের অপেক্ষা শেষে কাউন্সিলের শুভ উদ্বোধন ঘোষণা করা হয়েছে।শনিবার রাজধানীর ইনস্টিটিউশন অব ইঞ্জিনিয়ার্স, বাংলাদেশ (আইইবি) প্রাঙ্গণে অনুষ্ঠিত হচ্ছে বিএনপির ষষ্ঠ জাতীয় কাউন্সিল।
 
ছয় বছর আগে ‘নানান মানুষ, নানান পথ, দেশ বাঁচাতে ঐক্যমত’- স্লোগানে পঞ্চম কাউন্সিল হলেও এবারের স্লোগান করা হয়েছে- ‘দুর্নীতি দুঃশাসন হবেই শেষ, গণতন্ত্রের বাংলাদেশ’। বেলা পৌনে ১১ টায কাউন্সিলের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন বিএনপির চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া।
 
বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ব্যারিস্টার মওদুদ আহমদ, ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন, তরিকুল ইসলাম, ব্যারিস্টার জমির উদ্দিন সরকার,  লে. জেনারেল (অব.) মাহবুবুর রহমান, ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) আ স ম হানান শাহ , ড. আব্দুল মঈন খান, নজরুল ইসলাম খান, গয়েশ্বর চন্দ্র রায়, ভাইস চেয়ারম্যান চৌধুরী কামাল ইবনে ইউসুফ, আলতাফ হোসেন চৌধুরী, হাফিজ উদ্দিন আহমেদ বীর বিক্রম,  সেলিমা রহমান, উপদেষ্টা অ্যাডভোকেট খন্দকার মাহবুব হোসেন, ড. ওসমান ফারুক, এম এ মান্নান, মেজর জেনারেল(অব.) রুহুল আলম চৌধুরী, বিএনপি নেতা তৈয়মুর আলম খন্দকার, কাজী আসাদুজ্জামান, সৈয়দ মোয়াজ্জেম হোসেন আলাল, নাজিম উদ্দিন আলম, খায়রুল কবির খোকন, ধর্ম বিষয়ক সম্পাদক মাসুদ আহমেদ তালুকদার প্রমুখ।
 
২০ দলীয় জোটের মধ্যে রয়েছেন, ড. কর্নেল অলি আহমেদ, সৈয়দ মোগাম্মাদ উবরাহিম বীর প্রতীক, মাওলানা আব্দুল হালিম, শফিউল আলম প্রধান, ফরিদুজ্জামান ফরহাদ, মোস্তাফিজুর রহমান ইরান, সাহাদৎ হোসেন সেলিম, রেদোয়ান আহমেদ, খন্দকার লুৎফর রহমান, মুফতি মোহাম্মাদ ওয়াক্কাস, খন্দকার গোলাম মোর্ত্তজা, জেবেল রহমান গানী, মহিউদ্দিন ইকরাম, হামদুল্লাহ আল মেহেদী, মোস্তফা জামাল হায়দারগোলাম মোস্তাফা ভূইয়া উপস্থিত রয়েছেন। 
 
বিদেশী অতিথিদের মধ্যে যুক্তরাজ্যের পার্লামেন্টে বিরোধী লেবার পার্টির সদস্য সিমন ডান্স জাক, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র থেকে ডেমোক্রেটিক পার্টির এমপি সাইমুন ব্যাঞ্জক, প্রতিনিধি ও ইউরোপীয় পার্লামেন্টের সাবেক সদস্য ফিল বেনিওনর , বিট্রিশ এ্যম্বসিরি পলিট্যাক্যাল প্রতিনিধি এ্যাডড্রিন উপস্থিত আছেন। 
 
এছাড়া ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক ভিসি অধ্যাপক এমাজ উদ্দিন আহমেদ, সাবেক প্রো-ভিসি আ ফ ম ইউসূফ হায়দার, সুকোমল বড়–য়া, সাংবাদিক সৈয়দ আবদাল আহমেদ, রুহুল আমিন গাজী, মাহবুবুল্লাহ, এম এ আজিজ, এম আব্দুল্লাহ প্রমুখ উপস্থিত আছেন। 
সংবাদ সম্পর্কে আপনার মতামত দিন