ইউরোপ সেরার দৌড় থেকে বাদ বার্সেলোনা, ম্যানসিটি

সময়বাংলা,খেলা: বার্সেলোনাকে বিদায় করে সেমিফাইনালে জায়গা করে নিলো রোমা। নিজেদের মাঠে লিওনেল মেসির দলকে ৩-০ গোলে হারিয়েছে ইতালিয়ান ক্লাবটি। ফলে দুই পর্ব ৪-৪ গোলের সমতায় শেষ হলেও, অ্যাওয়ে গোলে এগিয়ে থাকায় সেরা চারের টিকিট পায় রোমা। অন্যদিকে আরেক কোয়ার্টারে ম্যানচেস্টার সিটিকে ২-১ গোলে হারিয়ে এক দশক পর, চ্যাম্পিয়ন্স লিগের সেমিতে উঠেছে লিভারপুল।

প্রথম লেগে ৪-১ ব্যবধানে জয় পাওয়ায় সেমিফাইনালে বার্সার নাম লিখেই রেখেছিলেন সবাই। বিভিন্ন গবেষণা প্রতিষ্ঠানও বলছিলো রোমার সেমিতে খেলার সম্ভাবনা ২ শতাংশ। স্তাদিও অলিম্পিকো থেকে রোমের কলোসিয়ামের দূরত্ব বেশী না। এমন ম্যাচের আগে প্রেরণা খুঁজতে সেখানেই ডি রসি-জেকোরা গিয়েছিলেন কিনা তা জানা যায়নি। কিন্তু বার্সার বিপক্ষে রোমা যা করলো তা হার মানাবে রোমানদের যুদ্ধ জয়ের ইতিহাসকেও।

প্রথম লেগে বড় জয় পাওয়ায় হয়তো একটু বেশীই নির্ভার ছিলো কাতালান ক্লাবটি। সেই সুযোগটাই কাজে লাগায় রোমা। শুরু থেকেই কোনঠাসা করে বার্সা ডিফেন্সকে। রোমা অসাধ্য সাধনের ইঙ্গিতটা দেয় ম্যাচের শুরুতেই, এডিন জেকো গোল করলে।

ইনিয়েস্তা-র‌্যাকিটিচরা মাঝমাঠের নিয়ন্ত্রণ নিয়ে খেলে অভ্যস্ত। কিন্তু এদিন তারাও ব্যর্থ। রোমা স্বপ্ন দেখতে শুরু করে দ্বিতীয়ার্ধে। প্রথম লেগে আত্মঘাতী গোল করেছিলেন অধিনায়ক ড্যানিয়েল ডি রসি। তার প্রায়শ্চিত্ত করলেন ৫৮ মিনিটে পেনাল্টি থেকে গোল করে।

তখনো ম্যাচে ফেরার সুযোগ ছিলো বার্সার। ১ গোল করলেই নিশ্চিত হতো সেমিফাইনাল। কিন্তু এদিন মেসি-সুয়ারেজদের বাক্সবন্দি করে রাখে রোমার ডিফেন্স। আর অসাধ্য সাধনের গল্পের শেষটা লিখেন মানোলাস। এই গ্রিক ডিফেন্ডারের গোলে, ব্যবধান তিন শূণ্য করে রোমা। ইতালিতে লেখা হয় বার্সার রোম ট্র্যাজেডি। ৩৪ বছর পর ইউরোপিয়ান প্রতিযোগিতার সেরা চারে ওঠে রোমা। বিশ্ব ফুটবলে ইতালি ক্ষয়িষ্ণু শক্তিতে পরিণত হলেও, অন্তত দেশটির ক্লাবগুলো জানান দিচ্ছে নিজেদের অস্তিত্বের কথা।

এদিকে ইতিহাদে আরো একটি অসম্ভবকে সম্ভব করার স্বপ্নে লিভারপুলের বিপক্ষে মাঠে নামে ম্যান সিটি। সেমিতে যেতে জিততে হবে অন্তত ৪ গোলের ব্যবধানে। ২ মিনিটের মাথায় গ্যাব্রিয়েল জেসুসের গোল আশা দেখায় পেপ গার্দিওলাকে।

বিরতির আগেই লিড বাড়াতে পারতো সিটিজেনরা, যদি না বার্নাদো সিলভার শট পোস্টে লেগে ফিরে আসতো।

দ্বিতীয়ার্ধে ডাগ আউট থেকে স্বাগতিক কোচ গার্দিওলাকে রেফারি পাঠিয়ে দেন গ্যালারী। মনস্তাত্ত্বিক লড়াইয়ে সেখানেই অনেকটা হেরে যায় ম্যান সিটি। এরপর ৫৬ মিনিটে মোহাম্মদ সালাহ’র গোলে সিটির স্বপ্নের কবর রচনা হয়ে যায়। আর ৭৭ মিনিটে ফিরমিনোর গোল, লিভারপুলের ১০ বছর পর সেমিতে খেলার উপলক্ষটা করে রাখে স্মরণীয়।

 

সময়বাংলা/আইজু

সংবাদ সম্পর্কে আপনার মতামত দিন