ইসরায়েলি পরিকল্পনায় ‘বাংলাদেশও’ রয়েছে

সময়বাংলা ডেস্ক: ভারত সফরে পঞ্চম দিনের মতো সময় পার করছেন ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী বেনইয়ামিন নেতানিয়াহু। বৃহস্পতিবার দেশটির বাণিজ্যিক রাজধানী মুম্বাইতে পৌঁছেন তিনি। নেতানিয়াহুর এই সফরকে বাংলাদেশ ও জাপানের সঙ্গে ইসরায়েলের সম্পর্ক স্থাপনের একটি সুযোগ হিসেবে দেখছেন ইসরায়েলি বিশ্লেষকরা।

ভারতীয় গণমাধ্যম ইউএনআই এ সম্পর্কিত একটি প্রতিবেদন বৃহস্পতিবার প্রকাশ করেছে।

ইসরায়েলের সেন্টার ফর নেয়ার ইস্ট পলিসি রিসার্চ’র গবেষক ও ‘উইমেন অ্যান্ড জিহাদ: ডিবেটিং প্যালেস্টাইন ফিমেল সুইসাইড বোম্বিংস ইন দ্য আমেরিকান, ইসরায়েল অ্যান্ড আরব মিডিয়া’ বইয়ের লেখক র‌্যাশেল আব্রাহাম এ বিষয়ে বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির সহায়তায় ইসরায়েল সম্ভবত জাপান-ইসরায়েল সম্পর্ক প্রত্যক্ষ করার একটা সুযোগ পাবে।’ জাপানের সঙ্গে সম্পর্ক স্থাপনের জন্য ভারতের সাথে ইসরায়েলের সম্পর্কোন্নয়নকে ‘গেম চেঞ্জার’ বলেও আখ্যা দেন এই গবেষক।

ইসরায়েলি গণমাধ্যম জেরুজালেম পোস্টে তিনি লিখেন, ভারতের সঙ্গে সম্পর্ক জোরদার করার মাধ্যমে ইসরায়েল বাংলাদেশের মতো দেশের সঙ্গে সম্পর্কের দরজা খুলতে পারে। ভারতের সঙ্গে বাংলাদেশের বিলিয়ন ডলারের বাণিজ্যের কথাও তুলে ধরেন এই নারী গবেষক।

আব্রাহাম মনে করেন, মধ্যপ্রাচ্যের চতুর্থ দেশ হিসেবে ইসরায়েল বাংলাদেশের স্বাধীনতার ‘স্বীকৃতি’ দিলেও দেশ দুটির সম্পর্ক কখনোই আশাব্যঞ্জক ছিল না। এই গবেষকের ভাষায়, ‘যদিও শেখ হাসিনা সরকার এখনো ইসরায়েলের প্রতি বৈরী, তবে হিন্দু স্ট্রাগল কমিটির মতে, বাংলাদেশের হিন্দু সংখ্যালঘু ও অনেক মুসলিমও এই বৈরিতার অবসান চায়।’

নেতানিয়াহুর ভারত সফরের বিভিন্ন দিক বিশ্লেষণ করে আব্রাহাম লিখেছেন, ‘ইসরায়েলের আধুনিক প্রযুক্তি, কৃষি ইত্যাদি রয়েছে। বাংলাদেশের মতো দরিদ্র দেশগুলোর এসব দরকার। ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির সহায়তায়, যিনি ইতিমধ্যে বাংলাদেশের ভেতরে বড় ধরনের প্রভাব তৈরি করেছেন ও ঢাকার সঙ্গে দারুণ সম্পর্ক উপভোগ করছেন, একদিন সম্ভবত বাংলাদেশের জনগণ তাদের সরকারকে অবস্থান পরিবর্তনে বাধ্য করবে।’

তিনি তার নিবন্ধে আরো লিখেছেন, নেতানিয়াহু এই ভারত সফরের মধ্য দিয়ে এশিয়ার সব দেশ, এমনকি পুরো বিশ্বের সঙ্গেই সম্পর্কের নতুন মাত্রা স্থাপন করতে পারেন।

জাপানের সঙ্গে সম্পর্ক ইস্যুতে আব্রাহাম মনে করেন, বিশ্বের তৃতীয় বৃহত্তম অর্থনীতির এই দেশটির সঙ্গে ইসরায়েলের সম্পর্ক দিন দিন উন্নয়ন হচ্ছে। অতীতের চেয়ে ইসরায়েল ইস্যুতে জাপান অনেকটা নমনীয় হয়েছে। যদিও সম্প্রতি জেরুজালেম ইস্যুতে ট্রাম্পের সিদ্ধান্তের বিপক্ষে ভোট দিয়েছে দেশটি।

এছাড়া ভারতীয় উপমহাদেশে প্রভাব বিস্তারের ক্ষেত্রে বলিউডের সাংস্কৃতিক ভূমিকার প্রসঙ্গ উঠে এসেছে তার নিবন্ধে। মুম্বাই সফরে বলিউডের তারকাদের সঙ্গে সাক্ষাৎ করে তাদের ইসরায়েলি চলচ্চিত্রে অভিনয়ের আহ্বান জানাবেন ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী। অনেক বিশ্লেষকের ধারণা, বলিউডে প্রভাব তৈরি করতে চায় ইসরায়েল।

আব্রাহামের নিবন্ধে বলা হয়েছে, ‘এশিয়ার দেশগুলোতে বলিউডের প্রভাব ব্যাপক। বিপুল হিন্দু জনগোষ্ঠীর ওপরও এর প্রভাব রয়েছে।’

সংবাদ সম্পর্কে আপনার মতামত দিন