এইচএসসি ২০১৭ এর রেজাল্টের পর আত্মহত্যার হিড়িক ”কুমিল্লা বোর্ডে”

এড. মোঃ সলীমুল্লাহ খান: পত্রিকায় চোখ পড়তেই দেখলাম আমাদের মাননীয় শিক্ষামন্ত্রী নুরুল ইসলাম নাহিদ “ওয়ার্ল্ড এডুকেশন কংগ্রেস গ্লোবাল অ্যাওয়ার্ড-২০১৭” পাচ্ছেন। পাশের হার বাড়িয়ে শিক্ষার মান নিম্নমূখীকরণ এবং ঘন ঘন পাঠ্য বইতে কুপাঠ প্রবেশকরণ ইত্যাদির দরুণ তিনি এই পুরষ্কারের জন্য মনোনিত হয়েছেন বলে স্বদেশপ্রেমিকদের বরাত দিয়ে জানা গেছে। আগামী ২৩ ও ২৪ নভেম্বর মুম্বাইয়ে ষষ্ঠ ওয়ার্ল্ড এডুকেশন কংগ্রেস সম্মেলনে তাকে এ পুরস্কার দেওয়া হবে।আমার আশংকা হল এহেন পুরষ্কার কি অন্যান্য পুরষ্কারের মত লেমেন্টিস(টাকা) দিয়ে খরিদ করা নয় তো।

অবদান, ব্যাপক প্রশ্ন পত্র ফাঁস, একবার শুধুই পাশ করানো বা পাশের হার বাড়ানোর অর্ডার, আবার এখন কমানোর অর্ডার, আবার পাঠ্য পুস্তকে ভুলের সমাহার। ভারত থেকে বই ছাপিয়ে আনবেন ভালো কথা কিন্তু ভারতীয় বাংলা ভাষা প্রয়োগ করলেন কেন আর কিভাবে ভালো নৈতিক লেখা গল্প কবিতা বাদ দিয়ে অলিক হাস্যকর বিষয় ঢুকানোর জন্য দায়ভাগ নিলেন না, বড় বড় ভুল আঁঠা দিয়ে শুদ্ধ করার হাস্যকর পদ্ধতির উদ্ভাবক।

উত্তর পত্রের সঠিক মূল্যায়ণ পদ্ধতিই কুমিল্লা বোর্ডের ফলাফল বিপর্যয়ের কারণ। শিক্ষামন্ত্রী আপনার নিকট আমার দুটি প্রশ্ন
১)এই পদ্ধতি কি শুধুই কুমিল্লা বোর্ডের জন্য নাকি?
২)তাহলে বিগত বছর গুলোতে উত্তর পত্রের সঠিক মূল্যায়ণ পদ্ধতির প্রয়োগ হয়নি কেন? না করার দায়ভাগ কা’র?

সাদামনের মানুষ খেতাবধারী আমাদের সবার প্রিয় অশোক বড়ুয়ার একমাত্র ছেলে ”অরিন্দম সৈকত” ফেসবুকে স্ট্যাটাস যাকে সুইসাইড নোট-ও বলা যায় যা পড়ে যে কেউ চোখের জল ধরে রাখতে পারেন নাই, সে আত্মহত্যা করেছে। যার স্ট্যাটাসে দেখলাম ২০০০ এর উপরে লাইক এমন একটা স্টুডেন্ট যে হিসাবে মেধা তালিকায় থাকার কথা তাকে ফিজিক্স-এ ফেল দেখানো হলো, আর এই কষ্ট নিয়ে চলে গেলেন সকলকে ছেড়ে ওপাড়ে।

কুমিল্লার একটি দৈনিকে দেখা গেছে ”এ পর্যন্ত ১১ জনের আত্মহত্যার কথা নিশ্চিত করেছে” এখন গতকাল গেল একজন তাহলে ১২জন।
মাননীয় শিক্ষামন্ত্রী আপনি নিজের কথার ব্যাখ্যা দিবেন আশা করি, তারপর আবার যারা এই দূর্নীতি বা বিপর্যয়ের সাথে জড়িত বলা যায় বা যারা দায়িত্বশীল তাদেরকে দিয়েই তদন্ত কমিটি করেছেন। উদুর পিন্ডি বুদুর ঘারে চাপানোর প্রচেষ্টাই করেছেন যেমন ২০১ টি কলেজে চিঠি দিয়েছেন। যেখানে উত্তর পত্র সঠিক মূল্যায়ণ পদ্ধতির কথা বলেছেন এটার সাথে কলেজের কি সম্পর্ক আমার বুঝে আসেনা, যাদের বিরোদ্ধে অভিযোগ তারাই করবেন তদন্ত, আসলেই মগের মুল্লুক বলে কথা।

আপনি পুরস্কার পাচ্ছেন শতাব্দীর সেরা কেলেংকারীর পর এটাও অনেক প্রশ্ন তৈরী করে কিন্তু উত্তর দিবে কে? উত্তর পাবো কোথায়?

কুমিল্লা কি নষ্ট বস্তাপঁচা রাজনীতির শীকার, ভাবতেও খারাপ লাগে তাই এ প্রসঙ্গে কথা বলছিনা, শুধু বলবো আমাদের পথিকৃত কুমিল্লার শিক্ষিতের হার নিয়ে আমরা গৌরবান্বিত আমাদেরকে ঈর্সনীয় ফলাফল ও জাতি গঠণে ভূমিকা কি কারো পাকনা ক্ষেতের ধান নষ্ট করেছে? করলেও করতে পারে তাই বলে প্রতিশোধের মাত্রা এরকম হতে পারেনা। মানতে পারলামনা আপনাদের এই অপকৌশল অপকীর্তি”
ছাত্র/ছাত্রীদের লাশের উপর দিয়ে গিয়ে আপনি পুরস্কার আনলেও আনতে পারেন এটা আপনার রুচির ব্যাপার, তবে মনে রাখবেন কোন রকমের আত্মত্যাগই বৃথা যায়নি কুমিল্লার সোনামণিদের আত্মত্যাগও বৃথা যাবেনা, সকল অপমুন্ডুকতার পন্ডিতদের পাকরাও হবে দুয়া এবং আখেরাতের আদালতেও”

তাই বলে কুমিল্লার সূর্য সন্তান তোমরা, মিনতী জানাই তোমরা এসব ব্যাপারে মনকে ছোট করোনা, আত্মহনন এটার প্রতিবাদ নয়, আর একজনও যাতে এ ধরনের কাপুরুষতার সিদ্ধান্ত না নিতে পারে সবার সজাগ দৃষ্টি রাখতে হবে, এ ক্ষেত্রে শিক্ষক, শিক্ষিকা, অভিভাবক, সমাজপতি সকলের ঐক্যবদ্ধ ভূমিকা আশা করছি”

সূত্রঃ
প্রথম আলো
এবং কুমিল্লার স্থানীয় দৈনিক পত্রিকার নিবন্ধ অবলম্বনে”

লেখক এড. সলিমুল্লাহ খান
হাইকোর্ট, কুমিল্লা

সংবাদ সম্পর্কে আপনার মতামত দিন