একজন অদম্য সাহসী আলী আহমেদ…

মাসুদুর রহমান মাসুদ,ঢাকা :

ali ahmadবড় হয়ে ডাক্তার কিংবা ইঞ্জিনিয়ার হওয়ার ইচ্ছে তার মনে জাগেনি কখনও। সব সময় চেয়েছেন বড় হয়ে এমন কিছু করবেন যা দেশের মানুষের কল্যাণে আসবে। পেশাগত জীবনে খুব বড় কিছু করার দাবী তিনি না করলেও তার হাত ধরে আসা সাফল্যের পরিমান কিন্তু কম নয়। পেশায় একজন সাংবাদিক। দুর্দান্ত সাহসের সাথে সত্য প্রকাশ করেছেন সবসময়। পরিবর্তনের অঙ্গীকার নিয়ে দীর্ঘ চার বছরেরও অধিক সময় ধরে কাজ করে চলেছেন একুশে টেলিভিশনের সাথে।

সাংবাদিকতাকে পেশা হিসেবে নয় নিয়েছেন নেশা হিসেবে। দূর্বার স্বপ্নবাজ এ মানুষটি এগিয়ে যাওয়ার প্রত্যয় ব্যক্ত করে বলেন সাংবাদিকতা কোন জাতির বিবেক। আর বিবেককে সদা জাগ্রত থাকতে হয় অন্যায়ের বিরুদ্ধে। শিক্ষা জীবনের শুরুটা তার নিজ জেলা মানিকগঞ্জ থেকে শুরু করলেও রাজধানী শহর ঢাকাতেই বেশ বড় একটা সময় কেটেছে তার। এসএসসি পাশ করেছেন নবগ্রাম ইউনিয়ন উচ্চ বিদ্যালয় থেকে। আর দেবেন্দ্র কলেজ মানিকগঞ্জ থেকে এইচএসসি।

জীবনের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ন সময়টাতে নিজেকে তৈরী করেছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে। গনসংযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগ থেকে অনার্স এবং মাষ্টার্স শেষ করেছেন। তখন থেকেই বেশ কয়েকটি পত্রিকার সাথে যুক্ত ছিলেন। নিজেকে তৈরী করেছেন নতুন নতুন পরিবেশে। পেশাগত দক্ষতার সবটুকু যোগ করতে সর্বোচ্চ চেষ্টা করেছেন এই মানুষটি।

২০১২ সাল। একুশে টেলিভিশনের সাথে পথ চলার শুরু আর সেই সাথে দেশ ও মানুষের কল্যানে তার আরও একধাপ এগিয়ে যাওয়া। তখন থেকেই সমাজের নানা অসংগতি প্রকাশ করতে বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ন বিষয়ের ওপর প্রতিবেদনের শুরু। তার সাফল্যের পাল্লায় যোগ হতে থাকে নতুন নতুন প্রাপ্তি। সম্প্রতি প্রচারিত তার দুই পর্বের বিশেষ রিপোর্ট- সিএনজি ষ্টেশনের মিটার টেম্পারিং করে জাতীয় সম্পদ গ্যাস চুরি করছে অসাধু চক্র। সেই সাথে পরিবেশ সহ নানা জনস্বার্থ সংশ্লিষ্ট বিষয় নিয়েও বেশকিছু বিশেষ রিপোর্ট করেছেন। অনিয়ম ও অন্যায়ের বিশেষ চিত্র নিয়ে একুশে টেলিভিশনের সাপ্তাহিক প্রচারিত অনুষ্ঠান একুশের চোখে এ কাজ করেছেন। হাই কোর্টের নির্দেশনা থাকলেও হাসপাতালের ইউজার ফি এর কোটি কোটি টাকার ভাগ-বাটোয়ারার অনিয়ম করা নিয়ে রিপোর্টে শেষ পর্যন্ত সফলতার মুখ দেখে। উন্নয়ন সাংবাদিকতায়ও পিছিয়ে ছিলেন না তিনি। তার করা কয়েকটি বিশেষ রিপোর্ট এর লিংক https://www.youtube.com/watch?v=t_TjoWf6Xz8
https://www.youtube.com/watch?v=Tu1mzAXqgO0
https://www.youtube.com/watch?v=6tszd2HePQU

সম্মানজনক এ পেশা সম্পর্কে তার কাছ থেকে জানতে চেয়েছিলাম। জানতে চেয়েছিলাম যারা এ পেশায় আসতে চান তাদের করনীয় সম্পর্কেও।

সাংবাদিকতা পেশাটি সৎ সাহসীকতার পেশা। এ পেশার সাথে যুক্ত হয়ে দেশের জন্য কাজ করাটা খুব সহজ। যারা সাংবাদিকতায় আসতে চান তারা এইচএসসি শেষ করে বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের গনসংযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগে ভর্তি হয়ে সুযোগ গ্রহন করতে পারেন। এখন বেশ কিছু বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়েও এ বিষয়ের ওপর পড়াশুনার সুযোগ তৈরী হয়েছে। আবার বিশ্ববিদ্যালয় থেকে এ বিষয়ে পড়াশুনা না করেও এ পেশায় আসার আসার সুযোগ তৈরী হয়েছে বর্তমানে।

এ পেশায় যারা আসতে চান তাদের জন্য জবস এ ওয়ান, বিজেম সহ বেশ কিছু প্রতিষ্ঠান সাংবাদিকতার ওপর তিন মাসের কোর্স পরিচালনা করছে। আপনি যে কান বিষয়ে অনার্স, মাষ্টার্স কিংবা ডিগ্রী পাশ করেও এ ধরনের কোর্স করে সুযোগ নিতে পারেন এ পেশায় আসার। যাদের মধ্যে উদ্দ্যম খেলা করে, লেখালেখিতে বেশ পারদর্শী এবং সাহসী তারা এ পেশায় আসলে ভাল করতে পারবেন। সত্য প্রকাশে নির্ভীক মানুষেরাই এ পেশাকে দিনকে দিন সমৃদ্ধ করতে পারে বলে জানান তিনি। সেই সাথে আরো বলেন এ দেশ তো আপনার আমার সকলের। দেশকে যদি কিছু দিতেই চান তাহলে এ পেশায় অংশগ্রহন করে সুযোগ নিন।

সময় বাংলা ডটকম এবং উদ্যোক্তার খোঁজে পেইজের  পরিবারের উদ্যেশ্যে তিনি বলেন আমার বিশ্বাস আপনাদের এ উদ্যোগ তরুনদের এগিয়ে নিয়ে যাবে অনেকদূর। সেই সাথে নুতন নতুন উদ্যোক্তা তৈরী হবে আপনাদের হাতেই। পেশাগত দক্ষতার দিক থেকেও প্রেরনা ও পথ দেখাতে পারবেন আপনারা। আপনাদের মত তরুনেরা এগিয়ে আসলেই এ দেশ সমৃদ্ধ হবে। শুভকামনা রইল আপনাদের জন্য।

সংবাদ সম্পর্কে আপনার মতামত দিন