একজন সফল রাষ্ট্রনায়ক ইরানী সাবেক প্রেসিডেন্ট মাহমুদ আহমেদিনিজাদ

সময়বাংলা, অান্তর্জাতিক: জেনে নেওয়া যাক তাঁর কিছু বিশেষ গুণ…

১. এই লোকটি প্রেসিডেন্ট থাকা অবস্থায় তার ছেলে মাহাদির বিয়েতে মাত্র ৪৫ জন অতিথিকে(২৫ জন নারী এবং ২০ জন পুরুষ)নিমন্ত্রন করেন। তাকে যখন NBC নিউজ চ্যানেলের সাংবাদিক এর কারন জিজ্ঞাসা করেন তখন তিনি অত্যন্ত হাসিমুখে বিনয়ের সাথে বলেন, এর চাইতে বেশি মানুষকে দাওয়াত দেওয়ার সামর্থ্য আমার নেই।
ভাবুন, পৃথিবীর একটা উন্নত দেশের প্রেসিডেন্ট বলছে এই কথা। তাও সেই বিয়েতে কোন ভোজের ব্যাবস্থা ছিলনা। প্রত্যেক অতিথি কে একটি কমলা,একটি কলা,একটি আপেল আর ছোট্ট এক টুকরো কেক দিয়ে আপ্যায়ন করা হয়েছিল।

২. সবার আগে সকাল ৭ টায় অফিসে যেতেন।

৩. এই লোকটি আজও সকালে বেরিয়ে যাওয়ার সময় নিজের স্ত্রীর হাতের বানানো সকালের নাস্তা এবং দুপুরের খাবার একটি ছোট্ট কালো ব্যাগে করে সাথে নিয়ে যেতেন। অফিসের কার্পেটের ফ্লোরে বসে তৃপ্তির সাথে সবার সামনে তিনি তার খাবার খান।

৪. দিনের একটা উল্লেখযোগ্য সময় তিনি বাসার দারোয়ান, পথচারী ও সাধারন মানুষের সাথে কথা বলে তাদের সুখ দুঃখ শেয়ার করেন।

৫. তিনি যখন কোন মন্ত্রীকে তার অফিসে ডাকেন তাকে একটা মন্ত্রণালয় চালানোর একটা দিক নির্দেশনা দিয়ে দেন। পাশাপাশি তিনি তাদের বলে দেন, রাষ্ট্রের পক্ষ থেকে তাদের ব্যাক্তিগত হিসাব নিকাশ ও তাদের নিকট আত্মীয়-স্বজনের কার্যকলাপ কঠিনভাবে মনিটর করা হচ্ছে।

৬. ভাবতে আরো অবাক লাগবে তার ব্যাক্তিগত সম্পত্তি বলতে তেহরানের বস্তিতে অবস্থিত ছোট্ট একটি বাড়ি, যা ৪০ বছর আগে তিনি তার বাবার কাছ থেকে উত্তরাধিকার সূত্রে পেয়েছিলের। বাড়িটির নাম Peugeot 504. শুনে আরও অবাক হবেন যে, তার ব্যাংক একাউন্টে বেতনের জমানো কিছু টাকা ছাড়া আর কিছু নেই। তেহরান ইউনিভার্সিটিতে তার বেতন মাত্র ২৫০ ইউ এস ডলার।

৭. আপনি শুনলে অবাক হবেন, তিনি রাষ্ট্র পরিচালনার জন্য রাষ্ট্র থেকে কোন টাকা নেন না। তিনি ইউনিভার্সিটি থেকে প্রাপ্ত বেতনের টাকা দিয়ে চলেন। BBC সাংবাদিক তাকে এই নিয়ে প্রশ্ন করলে তিনি বলেন, “সব সম্পত্তি হল রাষ্ট্রের আর তার কাজ হল সেগুলো পাহারা দেওয়া”।

৮. আপনি শুনলে অবাক হবেন, এই লোকটি এত বেশি পরিশ্রম করেন যে, তিনি সারাদিন ৩ ঘণ্টার বেশি ঘুমানোর সময় পান না। তিনি প্রতিদিন সকাল ৫ টায় ফযরের নামাজ পড়ে কাজ শুরু করেন আর রাত ২ টায় ব্যাক্তিগত স্টাডি ও এশার নামাজজ পড়ে ঘুমাতে যান।

৯. তিনি কখনও নামাজ বাদ দেন না। নামাজের সময় হলে রাস্তায় ছোট্ট কাপড় বিছিয়ে নামাজ আদায় করেন। রাষ্ট্রীয় সব বড় বড় নামাজের জামাতে তিনি সব সময় পিছনের সারিতে সাধারন মানুষের সাথে বসতেই ভালবাসেন।

সময়বাংলা/ আইজু

সংবাদ সম্পর্কে আপনার মতামত দিন