এক-এগারোর হিসাব নিকাশ পরে নেয়া হবে: প্রধানমন্ত্রী

সময়বাংলা, রাজনীতি: সেনা সমর্থিত তত্ত্বাবধায়ক সরকারের আমলে যিনি বা যারা গ্রেপ্তার করিয়েছিলেন, তাদের হিসাব নিকাশ পরে নেয়া হবে বলে ঘোষণা দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। তিনি বলেছেন, এক-এগারোর ষড়যন্ত্রকারীদের নাম তিনি এখন জানেন।

বিএনপি-জামাত জোটের আমলের কথা উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, চাইলেই কেউ ইতিহাসকে মুছে ফেলতে পারবে না। ইতিহাস মোছা যায় না। তিনি বলেন, ২০০১ সালে ষড়যন্ত্রের কারণে ভোট বেশি পেয়েও ক্ষমতায় আসতে পারিনি। ওই সময় বিএনপি-জামায়ত জোট ক্ষমতায় এসে শুরু করলো জুলুম-অত্যাচার। পাকিস্তানি হানাদার বাহিনীর মতো তারা গ্রামের পর গ্রাম নির্যাতন চালিয়েছে। মানুষকে নির্মমভাবে হত্যা করেছে, হাত-পা ভেঙে দিয়েছে, ক্ষেতের ফসল নষ্ট করেছে, ঘর পুড়িয়ে দিয়েছে, আগুন দিয়ে পুড়িয়ে মানুষ মেরেছে। আওয়ামী লীগকে ভোট দেয়ার অপরাধে এমন কোনো অত্যাচার নেই, তারা করেনি। ছয় বছরের শিশুকে পর্যন্ত ধর্ষণ করেছে।

মঙ্গলবার রাজধানীর কৃষিবিদ ইনস্টিটিউশনে আওয়ামী লীগ আয়োজিত স্বাধীনতা দিবসের আলোচনায় দলীয় সভাপতি ও প্রধানমন্ত্রী এসব কথা বলেন।

২০০৮ সালের নির্বাচনেও যেন আওয়ামী লীগের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র হয়েছে উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, সব ষড়যন্ত্রকে নস্যাৎ করেই আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় এসেছে। আমাদের লক্ষ্য ছিল, দেশকে মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় গড়ে তোলা। যে মুক্তিযোদ্ধারা জীবনের ঝুঁকি নিয়ে যুদ্ধ করে দেশকে স্বাধীন করলেন, তারা ভিক্ষা করবে বা রিকশা চালাবে, এটা অপমানজনক। তাদের সন্তানরা পড়াশোনার সুযোগ পাবে না, তা হতে পারে না। তাই আমরা ক্ষমতায় এসে তাদের জন্য কোটার ব্যবস্থা করেছি। সবার মধ্যে ইতিহাসকে ছড়িয়ে দিতে তার সরকার চেষ্টা করছে বলেও জানান শেখ হাসিনা।

প্রধানমন্ত্রী আরও বলেন, বিএনপি-জামাত বাংলা ভাই সৃষ্টি করেছে। বাংলাদেশকে সন্ত্রাসের দেশে পরিণত করেছে। গ্রেনেড হামলা তো ছিলোই। এভাবে অত্যাচার করে আওয়ামী লীগকে নিশ্চিহ্ন করে দেয়ার চেষ্টা করেছে তারা, ইতিহাসকে মুছে ফেলার চেষ্টা করেছে।

২০০৮ সালে তার দল সরকার গঠনের পর বিএনপি’র কর্মকাণ্ড তুলে ধরে শেখ হাসিনা বলেন, ২০১৩ সালে তারা দুর্বিষহ অবস্থার সৃষ্টি করে। সেই অবস্থা আমরা সামাল দিয়েছি। ২০১৪ সালে আবার নির্বাচন হয়, মানুষের ভোটে ক্ষমতায় আসি। কিন্তু তারা ২০১৫ সালে অগ্নিসন্ত্রাস করে। তারা ক্ষমতায় থেকেও মানুষকে হত্যা করেছে, এখনও তাই করতে চায়। দেশের কোনো উন্নয়ন তাদের নজরে আসে না।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, আমরা ক্ষমতায় আসার পর দেশ এগিয়ে যাচ্ছে দ্রুত গতিতে। জাতির পিতা মাত্র সাড়ে ৩ বছরে যুদ্ধবিধ্বস্ত বাংলাদেশকে স্বল্পোন্নত দেশে রূপ দেন। এর ৪৩ বছর পর আজ দেশ উন্নয়নশীল হয়েছে। আমরা জনগণের কল্যাণে কাজ করেছি। আমরা বাজেট বাড়িয়েছি, দেশের জনগণের মাথাপিছু আয় বাড়িয়েছি।

তিনি আরও বলেন, আমরা কমিউনিটি ক্লিনিকের মাধ্যমে জনগণের কাছে স্বাস্থ্যসেবা পৌঁছে দিচ্ছি। আমরা ডিজিটাল বাংলাদেশের ঘোষণা দিয়েছি। মানুষ এখন সেবা পাচ্ছে, কর্মসংস্থানের সুযোগ পাচ্ছে। বাংলাদেশ এখন স্যাটেলাইট উৎক্ষেপণ করতে যাচ্ছে। এই স্যাটেলাইটের পর পর্যায়ক্রমে আরও স্যাটেলাইট উৎক্ষেপণ করা হবে। আমরা মেট্রোরেল নির্মাণ করছি।

সময়বাংলা/আইজু

সংবাদ সম্পর্কে আপনার মতামত দিন

এ বিভাগের আরো খবর