এফবিআইর যে তদন্তে বিএনপির অভিযোগ প্রমাণ পেলো!

সময়বাংলা, ঢাকা: বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী বলেছেন, রাষ্ট্রীয় পৃষ্ঠপোষকতায় বাংলাদেশ ব্যাংকের রিজার্ভ চুরি হয়েছে। এফবিআইর তদন্ত রিপোর্টে তা উঠে এসেছে, বিএনপির অভিযোগ প্রমাণিত।

শনিবার (৩১ মার্চ) নয়াপল্টনে দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এসব কথা বলেন।

রুহুল কবির রিজভী বলেন, নিউইয়র্ক ফেডারেল রিজার্ভ থেকে বাংলাদেশ ব্যাংকের ৮১ মিলিয়ন ডলার চুরি হওয়ার ঘটনা রাষ্ট্রীয় পৃষ্ঠপোষকতায় হয়েছে বলে এফবিআই নিশ্চিত করেছে। বিশ্বের সর্ববৃহৎ রিজার্ভ চুরির ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের নাম প্রকাশের কাছাকাছি পৌঁছেছে বলে এফবিআই জানিয়েছে। দলের পক্ষ থেকে আমরা যে অভিযোগ করেছিলাম সেটিও এখন সত্য হয়ে দাঁড়িয়েছে।

তিনি বলেন, বিশ্বের ইতিহাসে এত বড় ব্যাংক ডাকাতির ঘটনাটির তদন্ত প্রতিবেদন অর্থমন্ত্রী কেন এত বছর ধরে আটকিয়ে রেখেছেন এফবিআই এর রিপোর্টে সেটি এখন পরিস্কার। আওয়ামী ক্ষমতাসীনরা সাধারণ মানুষের টাকা চুরির উন্নয়ন ছাড়া আর কোন উন্নয়নই করেনি। এত বড় একটা চুরি হলো অথচ সরকারের কোন অনুশোচনা নেই বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

বিএনপির এই নেতা বলেন, মানবাধিকার পরিস্থিতি নিয়ে, গুমকে ফৌজদারি অপরাধ গণ্য করতে এবং বিরোধী দলের নেতাকর্মীদের গণহারে গ্রেফতার ও তাদের ওপর ধারাবাহিক নির্যাতন বন্ধ করতে সরকারের প্রতি আহবান জানিয়েছে সলিডারিটি গ্রুপ ফর বাংলাদেশ।

এদিকে মানবধিকার সংগঠন এশিয়ান হিউম্যান রাইটস কমিশন এক বিবৃতিতে বলেছে, বাংলাদেশের ক্ষমতাসীন সরকার সাধারণ নির্বাচনের আগে বিরোধী দলের ওপর দমননীতি বৃদ্ধি করেছে। ২০১৮ সালের ডিসেম্বরে এ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে বলে আশা করা যাচ্ছে। দেশের আইনশৃঙ্খলা প্রয়োগকারী সংস্থাসমূহ প্রতিনিয়ত বিরোধী দলের নেতাকর্মীদের ওপর সহিংস মনোভাব দেখাচ্ছে। পক্ষান্তরে দুর্বল মানবাধিকার পরিস্থিতি চরমভাবে আতঙ্কজনক। বর্তমান সরকারের আওতায় ব্যাপক মানবাধিকার লঙ্ঘনের সুস্পষ্ট প্রকাশ ঘটছে।

মানবধিকার সংগঠনগুলোর বিবৃতিতে বাংলাদেশের মানবধিকার পরিস্থিতির যে ভয়াবহতা তুলে ধরা হয়েছে বাস্তবে ভয়াবহতা আরও ব্যাপক। শুধুমাত্র রাজনৈতিক প্রতিপক্ষ হওয়ায় আগামী নির্বাচনকে সামনে রেখে বিএনপি চেয়ারপারসন সাবেক তিনবারের প্রধানমন্ত্রী দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়াকে জাল নথি তৈরি করে মিথ্যা সাজানো মামলায় যেভাবে কারাগারে বন্দী রাখা হয়েছে, যেভাবে সরকারি নির্দেশে জামিন স্থগিত করে রাখা হয়েছে তা মানবধিকারের চূড়ান্ত লঙ্ঘন। শুধুমাত্র শেখ হাসিনার ক্ষমতাকে দীর্ঘায়িত করতেই সরকারি সহিংসতার ব্যাপক রুপ ধারণ করেছে।

সুতরাং, মত প্রকাশের স্বাধীনতা কেড়ে নিয়ে গণতন্ত্রকে লোহার শিকলে বন্দী করে বাংলাদেশকে অন্ধকার থেকে মুক্ত করতে সরকারের রোষানলের শিকার জনগণের অধিকার আদায়ে অবিচল ও প্রত্যয়দৃঢ় নেত্রী কারাবন্দী দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার মুক্তির দাবিতে সারা দেশে প্রতিরোধ গড়ে তুলতে হবে বলেও জানিয়েছেন তিনি।

সময়বাংলা/আইসা

সংবাদ সম্পর্কে আপনার মতামত দিন

এ বিভাগের আরো খবর