এমপি লিটন হত্যায় জামায়াত-শিবিরকে নিয়ে বিভিন্ন মহলের বক্তব্য: যা বললেন ড. তুহিন মালিক

সময় বাংলা ডেস্ক: গতকাল দেশ জুড়ে সকল পত্রিকার প্রধান সংবাদ ছিল গাইবান্ধা-১ আসনের সংসদ সদস্য (এমপি) মঞ্জুরুল ইসলাম লিটনের হত্যাকারীকে নিয়ে, অবশেষে থলের বিড়াল বেরিয়ে এলো বলে মনে করেন ড. তুহিন মলিক। তার দেয়া ফেসবুক স্টাটাস থেকে জানা যায়, আওয়ামী লীগে, পুলিশ প্রশাসন, এমপি মন্ত্রী সকলেই রায় দিয়েই ফেলেছিলেন এমপি লিটন হত্যায় জামায়াত শিবির জড়িত। আর গতকালের প্রধান খবর ‌’জাতীয় পার্টির সাবেক সংসদ সদস্য কাদের খানের অর্থ, পরিকল্পনা ও নির্দেশনায় এমপি লিটনকে হত্যা করা হয়েছে।’ তাকে এই অভিযোগে গ্রেফতারও করা হয়েছে।

ড. তুহিম মালিক ফেসবুক স্টাটাসে বলেন,
১. আইজিপি বলেছিলেন, ‘এলাকার সাধারণ লোক ও আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা বলছেন, খুনের সাথে জামায়াত-শিবির জড়িত থাকতে পারে। সংসদ সদস্য লিটন জামায়াত-শিবিরের বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়েছিলেন।’ ( ৩১ ডিসেম্বর)
২. জাহাঙ্গীর কবির নানক বলেছিলেন, ‘জামায়াত-শিবির আবারো দেশকে অস্থিতিশীল করার জন্য পরিকল্পিতভাবে তাণ্ডব চালাচ্ছে। এমপি লিটন হত্যাকাণ্ডের মাধ্যমে প্রমাণিত হয়েছে জামায়াত-শিবির এখনো তৎপর। তাদের রুখে দিতে হবে।’ (১ জানুয়ারি)
৩. আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক মোজাম্মেল হক এমপি বলেছিলেন, ‘তাকে তারাই হত্যা করেছে যারা ধর্মের নামে ধর্মের অপব্যাখ্যা দিয়েছে।’ (১ জানুয়ারি)
৪. উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক গোলাম মোস্তফা সুন্দরগঞ্জের প্রতিবাদ সভায় বলেছিলেন, ‘জামায়াত-শিবিরের লোকজনই এ হত্যাকাণ্ড ঘটিয়েছে। তিনি সুন্দরগঞ্জ থানার ওসিকে জামায়াত-শিবিরের দোষর বলেও মন্তব্য করেন।’ (১ জানুয়ারি)
৫. রংপুর রেঞ্জের ডিআইজি খন্দকার গোলাম ফারুখ বলেছিলেন, ‘এমপি লিটন হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় জামায়াত-শিবিরের দিকে ইঙ্গিত করেই মামলা করেছে পরিবার। ওই বিষয় নিয়ে তদন্তকার্যক্রম এগিয়ে চলছে।’ (২ জানুয়ারি)
৬. ওবায়দুল কাদের বলেছিলেন, ‘সংসদ সদস্য মনজুরুল ইসলাম বছরের প্রথম সাম্প্রদায়িক হামলার শিকার।’ (৩ জানুয়ারি)
৭. হাছান মাহমুদ বলেছিলেন, ‘সাম্প্রদায়িক শক্তি ও জামায়াত এ হত্যাকাণ্ড ঘটিয়েছে। আর এ অপশক্তির পৃষ্ঠপোষক বিএনপি।’ (৩ জানুয়ারি)
৮. পৌর আওয়ামী লীগের সভাপতি আহসানুল করিম চাঁদ বলেছিলেন, ‘জামায়াত-শিবিরের লোক পুলিশ হত্যা মামলায় জামিনে এসে মোটরসাইকেলে ঘুরে বেরিয়ে আবারো এমপি লিটনকে হত্যা করেছে। পুলিশ ব্যর্থ হলে আমরা আওয়ামী লীগের লোকজন এমপির খুনি জামায়াত-শিবিরদের চিহ্নিত করব।’ (৩ জানুয়ারি)
৯. উপজেলা ছাত্রলীগ আহ্বায়ক ছামিউল ইসলাম ছামু বলেছিলেন, ‘সংসদ সদস্য লিটনের হত্যাকাণ্ডের তদন্ত করে যদি পুলিশ খুনি জামায়াত-শিবিরকে বের করতে না পারে, তাহলে আমাদের ওপর ছেড়ে দেয়া হোক। আমরা সেই খুনি জামায়াত-শিবিরদের বের করে দেবো।’ (৩ জানুয়ারি)
১০. প্রধানমন্ত্রী বলেছিলেন, ‘মনজুরুল ইসলাম লিটনের ওপর জামায়াতের ক্ষোভ ছিল। তিনি সব সময় জামায়াতের বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়েছিলেন। গাইবান্ধায় গোলাম আযমের সমাবেশ করতে বাধা দিয়েছিলেন। সেটাই কি তার হত্যার কারণ? স্বাধীনতার পক্ষশক্তির পক্ষে থাকার কারণেই তাকে জীবন দিতে হয়েছে। লিটনের ওপর বারবার হামলা হয়েছে। মাঝে একটা ঘটনা ঘটার পর তার কাছ থেকে লাইসেন্সকৃত অস্ত্র নিয়ে নেয়া হয়। তার পর থেকে তিনি আতঙ্কে থাকতেন সবসময় কখন তার ওপর হামলা হয়। শেষ পর্যন্ত তা-ই হলো, তাকে হত্যা করা হলো।’ (৪ জানুয়ারি)
১১. গতকালের প্রধান খবর :- ‌’জাতীয় পার্টির সাবেক সংসদ সদস্য কাদের খানের অর্থ, পরিকল্পনা ও নির্দেশনায় এমপি লিটনকে হত্যা করা হয়েছে।’

সংবাদ সম্পর্কে আপনার মতামত দিন