কন্ঠশিল্পী মমতাজ বেগম এমপির ভাইয়ের বাড়ি থেকে স্কুল ছাত্রীর লাশ উদ্ধার

মো: মোবারক হোসেন (মানিকগঞ্জ) প্রতিনিধি:

মানিকগঞ্জ-২ আসনের সংসদ সদস্য কন্ঠশিল্পী মমতাজ বেগমের ভাই ইবারত হোসেনের বাড়ি থেকে ঝুমা আক্তার (১৪) নামে এক স্কুল ছাত্রীর লাশ উদ্ধার করেছে পুলিশ। বৃহস্পতিবার (৭ ডিসেম্বর) ইবারত হোসেনের কলেজ পড়–য়া ছেলের শয়ন কক্ষ থেকে ঝুলন্ত অবস্থায় তাঁর লাশ উদ্ধার করা হয়।

ঝুমা আক্তার সিঙ্গাইর উপজেলার জয়মন্টপ গ্রামের এমপির ভাইয়ের বাড়িতে থেকে পড়াশুনার পাশাপাশি গানের তালিম নিতো। খবর পেয়ে নিহত ছাত্রীর লাশ উদ্ধার করে ময়না তদন্তের জন্য জেলা সদর হাসপাতালে পাঠিয়েছে থানা পুলিশ। মেয়েটি হত্যার শিকার না নিজেই আত্মহত্যা করেছে সে বিষয়ে এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি। এঘটনায় থানায় একটি অপমৃত্যু মামলা হয়েছে।

পারিবারিক ও থানা পুলিশ সূত্রে জানা যায়, সিঙ্গাইর উপজেলার ধল্লা ইউনিয়নের মেদুলিয়া গ্রামের দিনমজুর রিয়াজুল হকের মেয়ে ঝুমা আক্তার। তাঁর মা কা ন মালা দোবাই থাকেন। বাবা দ্বিতীয় বিয়ে করায় ঝুমা আক্তার সাড়ে তিন বছর ধরে সংসদ সদস্য মমতাজ বেগমের বড় ভাই ইবারত হোসেনের বাসায় আশ্রিত হিসেবে ছিলেন। গৃহস্থালী কাজের কাজের ফাকে ওই বাড়িতে থেকে সে স্কুলে পড়াশোনা ও ইবারত হোসেনের কাছে গানের তালিম নিতো।

ঝুমা স্থানীয় ভাকুম সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় থেকে এবারের সদ্য সমাপ্ত পিএসসি পরীক্ষায় অংশ নেয়। ঝুমা ইবারতের মেয়ে এনাতাজের সহপাঠী ছিল। আর ছেলে ফিরোজ সিঙ্গাইর ডিগ্রি কলেজের একাদশ শ্রেণির ছাত্র।

ইবারত হোসেন বলেন, বৃহস্পতিবার সকালে ঝুমা রান্নাবান্নাসহ বাড়ির কাজকর্ম করে। সকালের খাবার খেয়ে তাঁর স্ত্রী ফরিদা বেগম ও মেয়ে এনাতাজ বাড়ির উঠানে রোদ পোহাচ্ছিলেন। আর ছেলে ফিরোজকে নিয়ে পাশ্ববর্তী দূর্গাপুর গ্রামে আমার আরেকটি বাড়িতে যাই। সকাল ১০টার দিকে ছেলে ফিরোজ বাড়িতে এসে দেখেন তাঁর শয়ন কক্ষের দরজা ভিতর থেকে ছিটকারি লাগানো। ধাক্কা দিয়ে দরজা খুলে দেখতে পান ঝুমা বৈদ্যুতিক পাখার সাথে ঝুলছে।

ইবারত বলেন, ঝুমা গলায় ফাঁস নিয়ে আত্মহত্যা করেছে। তবে ঝুমা কি কারণে আত্মহত্যা করেছে সে সম্পর্কে তিনি কিছু বলতে পারেননি।
এদিকে ইবারত হোসেনের স্ত্রী ফরিদা বেগমও কলেজ পড়োয়া ছেলে ফিরোজ ঘটনার পর ওই বাড়ি থেকে অন্যত্র চলে যায়। অনেক চেষ্টা করেও তাঁদের সাথে কথা বলা যায়নি।

নিহত ঝুমা আক্তারের মামা আবু সাইদ বলেন, ঝুমা সাড়ে তিন বছর ধরে ইবারতের বাসায় থাকেন। সেখানে থেকে সে পড়াশোনার পাশাপশি গান শিখতো। সকাল ১১ টার দিকে জানতে পারি ভাগ্নি ঝুমা ফাঁস নিয়ে আত্নহত্যা করেছে। তবে ঠিক কি কারণে, কিভাবে সে মারাগেছে তা তিনি নিশ্চিত করে কিছু বলতে পারেনি।

থানার উপপরিদর্শক (এসআই) জিয়াউদ্দিন উজ্জ্বল জানান, খবর পেয়ে ঝুমার লাশ ইবারতের ছেলের শয়ন কক্ষের বৈদ্যুতিক পাখার সাথে ঝুলন্ত অবস্থায় পাওয়া যায়। পরে লাশ নামিয়ে সুরতহাল রিপোর্ট করা হয়। দুপুরের দিকে ময়না তদন্তের জন্য লাশ মানিকগঞ্জ জেলা সদর হাসপাতালে পাঠানো হয়।

কিভাবে ঝুমার মৃত্যু হয়েছে তা জানতে চাইলে তিনি জানান, মুত্যুর কারণ এই মুহুর্তে বলা সম্ভব নয়, ময়নাতদন্তের পর মৃত্যুর আসল রহস্য জানা যাবে। এ ঘটনায় থানায় একটি অপমৃত্যু মামলা হয়েছে বলে জানান তিনি।

ঢাকা, ডিসেম্বর ০৮(সময় বাংলা)/এএইচ

সংবাদ সম্পর্কে আপনার মতামত দিন