কাতারের বিরুদ্ধে এখনো অনড় অবস্থানে সৌদি আরব

মোঃ মিজানুর রহমান,সময় বাংলা,সৌদি আরব: কাতারের সঙ্গে কূটনৈতিক সম্পর্ক ছিন্ন করার এক দিন পর দেশটিকে আরও কোণঠাসা করার ইঙ্গিত দিয়েছে সৌদি আরব। গতকাল মঙ্গলবার রিয়াদে বিদেশি কূটনীতিকদের সঙ্গে এক ব্রিফিংয়ে সৌদি আরব স্পষ্ট করে বলেছে, সন্ত্রাসীদের অর্থায়ন বন্ধসহ বেশ কিছু বিষয়ে শর্ত মেনেই ১৯৯৫ সালে উপসাগরীয় সহযোগিতা সংস্থার (জিসিসি) সদস্য হিসেবে কাতার চুক্তি সই করেছিল। চুক্তির শর্ত মেনে আগের অবস্থানে ফিরলে কাতারের সঙ্গে সম্পর্ক স্বাভাবিক হবে, না হলে নয়।

গতকাল রিয়াদের একটি কূটনৈতিক সূত্র জানা যায় সৌদি পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে এশিয়ার দেশগুলোর কূটনীতিকদের ব্রিফিংয়ে অংশ নেন বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত গোলাম মসিহ।

কাতারের সঙ্গে সৌদি আরবসহ মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলোর স্বাভাবিক সম্পর্ক ফিরিয়ে আনতে সৌদি বাদশাহ সালমান বিন আবদুল আজিজ আল-সৌদের সঙ্গে আলোচনার জন্য কুয়েতের আমির শেখ সাবাহ আল আহমাদ আল জাবের আল সাবাহ গতকাল রিয়াদে গেছেন। মধ্যপ্রাচ্য পরিস্থিতিতে কুয়েতের মধ্যস্থতা প্রসঙ্গে জানতে চাইলে সৌদি আরব এ নিয়ে কিছু জানে না বলে মন্তব্য করেছে সৌদি পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। কার্যত কূটনীতিকদের ব্রিফিংয়ে এই বক্তব্য থেকে স্পষ্ট, কাতারকে কেন্দ্র করে তৈরি হওয়া মধ্যপ্রাচ্য সংকট খুব শিগগির মিটছে না।

সৌদি আরবের পাশাপাশি কাতারের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ও নিজেদের অবস্থান ব্যাখ্যা করে দোহায় বিদেশি কূটনীতিকদের অবহিত করেছে। কাতারের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মহাসচিব (পররাষ্ট্রসচিব) আহমাদ হাসান আল-হামাদি গতকাল সেখানে কূটনীতিকদের কাছে অভিযোগ করেছেন, সৌদি আরবসহ কয়েকটি আরব ও আরবের বাইরের দেশ অনাহূতভাবে কাতারের অভ্যন্তরীণ বিষয়ে হস্তক্ষেপ করছে, সার্বভৌমত্ব খর্ব করতে চাইছে।

কুয়েতের আমির বর্তমানে সৌদি আরবসহ অন্যান্য দেশের সঙ্গে বিষয়টি মধ্যস্থতা করতে চাইছেন। কাতার আশা করে, বর্তমান মতবিরোধ দ্রুত সমাধান হবে। দোহায় কূটনীতিকদের গতকালের ব্রিফিংয়ে উপস্থিত ছিলেন কাতারে বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত আসুদ আহমেদ। মধ্যপ্রাচ্য পরিস্থিতিতে বাংলাদেশের অবস্থান জানতে চাইলে ঢাকায় সরকারের দায়িত্বশীল এক কর্মকর্তা গতকাল সন্ধ্যায় জানান, বাংলাদেশ পরিস্থিতির ওপর নজর রাখছে। মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলোর সাম্প্রতিক বিরোধে বাংলাদেশ কারও পক্ষে অবস্থান নেবে না। তবে সেখানকার পরিস্থিতি বাংলাদেশের সঙ্গে দেশগুলোর সম্পর্কের ওপর কোনো নেতিবাচক প্রভাব ফেলবে না বলে ওই কর্মকর্তার প্রত্যাশা।

বাংলাদেশের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা আশা করেন, মধ্যপ্রাচ্যের বর্তমান পরিস্থিতিতে বাংলাদেশের শ্রমবাজারের কোনো প্রভাব পড়বে না। কাতারের পাশাপাশি দেশটির সঙ্গে কূটনৈতিক সম্পর্ক ছিন্ন করা সৌদি আরব, বাহরাইন, সংযুক্ত আরব আমিরাত ও মিসরে এখন বিপুলসংখ্যক বাংলাদেশি কাজ করছেন। সৌদি পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের ব্রিফিং সম্পর্কে জানতে চাইলে বাংলাদেশের এক কূটনীতিক এই প্রতিবেদককে বলেন, সৌদি কর্তৃপক্ষ নিজেদের অবস্থান ব্যাখ্যা করতে গিয়ে ১৯৯৫ সালে উপসাগরীয় সহযোগিতা সংস্থার চুক্তির উল্লেখ করে। ওই চুক্তি অনুযায়ী সন্ত্রাসীদের অর্থায়ন না করতে এবং অন্য দেশের অভ্যন্তরীণ বিষয়ে নাক না গলানোর বিষয়ে কাতার প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। সৌদি আরবের অভিযোগ, কাতার একাধিকবার চুক্তির মূল দুই শর্ত লঙ্ঘন করেছে। তাই দেশটির সঙ্গে কূটনৈতিক সম্পর্ক ছিন্ন করেছে সৌদি আরব।

পরিস্থিতি কোন পথে যাবে, কূটনীতিকদের এমন প্রশ্নের উত্তরে সৌদি আরব বলেছে, কাতারের জনগণের সঙ্গে সৌদি আরবের কোনো বৈরিতা নেই, অভিযোগ কাতারের সরকারের ব্যাপারে। সহযোগিতার মনোভাব দেখিয়ে কাতার যদি নিজেদের দেওয়া প্রতিশ্রুতি, অর্থাৎ ১৯৯৫ সালের চুক্তির শর্ত পূরণ করে, তবে সম্পর্ক আবার স্বাভাবিক হয়ে উঠবে।

বাংলাদেশের ওই কূটনীতিক বলেন, ২০১৪ সালে সৌদি আরব তাদের রাষ্ট্রদূতকে কাতার থেকে প্রত্যাহার করছিল, সম্পর্ক ছিন্ন করেনি। তাই এবারের পরিস্থিতিটা গতবারের চেয়ে আলাদা।

সংবাদ সম্পর্কে আপনার মতামত দিন