কানাডার ইউনিভাসিটি অব ম্যানিটোবায় নবীন বরণ অনুষ্ঠিত

সময় বাংলা কানাডা: 10658911_822614774527543_9092320867067566230_oপ্রায় ১৩৭ বছরের পুরনো ঐতিহ্যবাহী, কানাডার প্রাণকেন্দ্রে অবস্থিত ওয়েস্টার্ন কানাডার প্রথম বিশ্ববিদ্যালয় “ ইউনিভাসিটি অব ম্যানিটোবা”। অপরূপ প্রাকিৃতিক সৌন্দর্য, সুনিপুন স্থাপত্যশৈলী, নয়নাভিরাম ক্যাম্পাস প্রথম দর্শন এই মন কেরে নেই যে কারও।  ম্যানিটোবা প্রভিন্সের প্রধান শহর উইনিপেগ এর এ বিশ্ববিদ্যালয় টি স্নাতক ও স্নাতকোত্তর কোর্স  মিলিয়ে বিভিন্ন দেশের প্রায় ৩০০০০ শিক্ষার্থীর পদচারনায় মুখর। এর মধ্যে আমাদের প্রিয় মাতৃভূমি বাংলাদেশ এর শিক্ষার্থী নেহায়েত কম নয়। বিজ্ঞান, ব্যবসা শিক্ষা, চিকিৎসা, ইঙ্নিনিয়ারিং প্রতিটি ক্ষেত্রেই সময় উপযোগী গবেষনার মাধ্যমে দেশের নাম প্রতিনিয়ত উজ্জ্বল করছে বাংলাদেশের প্রায় ৪০০ শিক্ষার্থী । পরিবার, পরিজন সবাইকে ছেড়ে প্রায় ১১০০০ কিমি দূরে থাকলেও নিজস্ব সংস্কৃতি দেশের প্রতি ভালবাসা যেন ভুলতে পারে নি কেউ। বিজয় দিবস, ২১ শে ফেব্রুয়ারী, স্বাধীনতা দিবস, পহেলা বৈশাখ প্রতিটি প্রোগ্রাম সগৌরবে পালন করছে ইউনিভাসিটি অব ম্যানিটোবা বাংলাদেশী স্টুডেন্টস অ্যাসোসিয়েশন। তার ই ধারাবাহিকতায় গত ১৫ জানুয়ারী, শুক্রবার নতুনদের শুভেচছা ও পুরনোদের বিদায় জানাতে হয়ে গেল বছরের সেরা আয়োজন নবীনবরণ এবং বিদায়ী সংবর্ধনা অনুষ্ঠান।

সেদিন তাপমাত্রা ছিল মাইনাস ২০, প্রচণ্ড ঠাণ্ডার মধ্যেও ইউনিভাসিটি সেন্টার এড় মাল্টি পারপাস রুম ছিল কানায় কানায় পূর্ণ। অনুষ্ঠান শুরু হয় সন্ধ্যা ৭.৩০ টায়, বাঙালি সহ অন্যান্য দেশের প্রায় ৩৫০ জন নাগরিক এর উপস্থিতিতে অনুষ্ঠানে যোগ হয় এক ভিন্ন মাত্রা, মুহূর্তেই পরিণত হয় অন্য রকম মিলন মেলায়। দুই দেশের জাতীয় সংগীত পরিবেশনার মাধ্যমে শুরু হয় মূল অনুষ্ঠান। অথিতিদের মধ্যে বক্তব্য রাখেন বিশ্ববিদ্যালয় এর প্রাকিৃতিক সম্পদ বিভাগের অধ্যাপক ডঃ এমদাদূল হক এবং কানাডা বাংলাদেশ অ্যাসোসিয়েশন এর সভাপতি রহীদূল মন্ডল। তারা শিক্ষার্থীদের কে মেধার সঠিক প্রয়োগের মাধ্যমে  দেশপ্রেম বুকে ধারণ করে নিজ নিজ ক্ষেত্রে অবদান রেখে দেশের সুনাম অক্ষুণ্ণ রাখার আহবাণ জানান এবং সর্বাত্মক সহযোগিতার আশ্বাস দেন।

নতুন শিক্ষার্থী এবং সদ্য পাস করা শিক্ষার্থীদের হাতে গিফট বক্স তুলে দেন আমন্ত্রিত অথিতি বৃন্দ। সারাহ-আরিফ এবং সায়েমা-রিফাত এর অসাধারণ বাচনভঙ্গি এবং পালাক্রমে ব্যতিক্রমী উপস্থাপনা দর্শকদের হৃদয় ছূয়ে যায়। একের পর এক মনোমুগ্ধকর পরিবেশনায় জমে ঊঠে সাংস্কৃতিক সন্ধ্যা। বাংলা সিনেমার ৯০ এর দশক থেকে শুরু করে সম সাময়িক গান (মেডলী) নিয়ে মঞ্চ কাপাতে আসেন শাতিল, আহমেদ, রোমান, সারাহ এবং অন্তরা। এরপর ওয়ালীঊল্লাহ এর নির্দেশনায় রোমান্টিক কমেডি ঘরনার নাটক “ কেমনে কি” পরিবেশিত হয়। মুখ্য চরিত্রে ছিলেন সোমাইয়া, শাতিল, ওয়ালী, জয় ও সাবিত।

সুনীলের বিখ্যাত কবিতা “কেউ কথা রাখে নি” আবৃতি করেন আরিফ।  এরপর দেশপ্রেম এর বহিঃপ্রকাশ স্বরূপ ২১ শে ফেব্রুয়ারী উৎযাপন সম্পর্কিত একটি প্রামান্য চিত্র দেখান হয়। প্রধান চরিত্রে ছিলেন আরমান এবং ফয়সাল শিবলী। দেখতে দেখতে অনেক সময় গড়ালে রাত ১০ টার দিকে দেয়া হয় খাবার বিরতি এবং পরিবেশন করা হয় দেশীয় বিভিন্ন মুখ রুচকর খাবার ।

বিরতির পর আবারও শুরু হয় সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের অন্যতম আকর্ষণ ফ্যাশন শো। বাংলাদেশের ষড়ঋতুর আদলে পোশাক পরিধান করে মন মাতান পরিবেশনা নিয়ে আসে দিগন্ত- সোমাইয়া, জায়েব-নুসরাত, আরমান-সায়েমা, ইমতিয়ায-শতাব্দি, গাজি-আফসানা এবং সাকিব-ইশরাত জুটি। এরপর পরিবেশিত হয় নদীর মঞ্ছ কাঁপানো নাচ। সবারই বিশ্ববিদ্যালয় এর প্রথম দিন প্রথম ক্লাস এর  সাথে নানান স্মৃতি জড়িয়ে থাকে। তেমনি একটি ভিডিও চিত্র দেখান হয় নবাগত ছাত্র মীর এর প্রথম দিন এর অভিজ্ঞতা কে কেন্দ্র করে।  সকল ভিডিও ধারন এবং এডিটিং এর দায়িত্বে ছিলেন ইফতেখার।

অনুষ্ঠান এর শেষ পর্যায়ে সোলো গান পরিবেশন করে সবাই কে মাতিয়ে তুলেন পরিচিত মুখ শাতিল।  পুরো অনুষ্ঠান এর সঙ্গীত আয়জনে ছিলেন ছোটন এবং রোমান (গীটার), সাদ (ড্রাম), সাবিত (কীবোর্ড)। বাংলাদেশি স্টুডেন্টস অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি সাকিব রহমান সবাইকে ধন্যবাদ জ্ঞাপনের মাধ্যমে অনুষ্ঠানের সমাপ্তি ঘোষণা করেন।

 

মোঃ আরিফুল ইসলাম

 

সংবাদ সম্পর্কে আপনার মতামত দিন