কি কারনে এখনো বিচার হয়নি তনু ধর্ষণ ও হত্যার?

প্রসেনজীৎ কুমার রায়, সময়বাংলা: ২বছরেও বিচার হয় নি তনু হত্যার, ধর্ষণ ও হত্যার বিচার বাংলাদেশে হয় কি? বাংলাদেশে ২০১৬ সালে এক হাজারেরও বেশি নারী ও কন্যা শিশু ধর্ষণের শিকার হয়েছে।
বাংলাদেশ মহিলা পরিষদ নারীদের উপর নির্যাতনের ‘নির্মম ও নিষ্ঠুর’ ধরণকে ‘উদ্বেগজনক’ বলে বর্ণনা করেছে।
বাংলাদেশের ১৪ টি দৈনিক পত্রিকার খবর বিশ্লেষণ করে সংগঠনটি বলছে ২০১৬ সালে ১০৫০ জন ধর্ষণের শিকার হয়েছে। এই সকল ধর্ষণ ও হত্যার মধ্যে ক্যান্টনমেন্টে তনুকে ধর্ষণের পর হত্যার দৃষ্টান্ত বাংলাদেশে নজিরবিহীন।

১৯ বছর বয়সী তনু কুমিল্লা সরকারি ভিক্টোরিয়া কলেজের শিক্ষার্থী ছিলেন। তনুর বাবা কুমিল্লা ক্যান্টনমেন্ট বোর্ডে চাকরিরত ছিলেন।২০১৬ সালের ২০শে মার্চ তনুর মৃতদেহ কুমিল্লা ক্যান্টনমেন্টের ভিতরে পাওয়া যায়। প্রাইভেট টিউটরের কাছে এক বাসায় পড়তে গিয়ে তিনি নিখোঁজ হয়েছিলেন।

তদন্তঃ কুমিল্লা শহরের কোতোয়ালী মডেল থানায় অজ্ঞাত আসামীর বিরূদ্ধের তনুর বাবা ইয়ার হোসেন একটি মামলা দায়ের করেন। পুলিশ মামলাটি গোয়েন্দাদের কাছে হস্তান্তর করে। ২০১৬ সালের পহেলা এপ্রিল মামলাটি সিআইডির কাছে হস্তান্তরিত করা হয়। ৪ই এপ্রিলে প্রকাশিত ময়নাতদন্তে বলা হয়, তনুকে ধর্ষণ কিংবা হত্যার কোন আলামত পাওয়া যায় নি। উক্ত ময়নাতদন্তে বিতর্কের সৃষ্টি করলে, বাংলাদেশের উচ্চ আদালত পুনরায় ময়নাতদন্তের রায় দেন। প্রাথমিকভাবে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজে তনুর মৃতদেহের ময়নাতদন্ত করা হয়। কুমিল্লার মির্জাপুরে তনুর লাশ দাফন করা হয়।

আদালতের রায়ে দ্বিতীয় ময়নাতদন্তঃ কুমিল্লা মেডিকেল কলেজে পুনতদন্ত করা হলে ধর্ষনের আলামত পাওয়া যায়। ২০১৬ সালের মে মাসে সিআইডির তত্ত্বাবধানে তনুর পরিহিত অন্তর্বাসে প্রাপ্ত বীর্যের ডিএনএ পরীক্ষা করা হয়। সিআইডি নিজস্ব গবেষণাগারে তিনজন পুরুষের বীর্যের অস্তিত্ব তনুর অন্তর্বাসে পাওয়া যায়।

প্রতিবাদঃ ” তনু হত্যাকাণ্ড ” সমগ্র বাংলাদেশে আলোড়ন তুলে এবং সামাজিক মাধ্যমে এ নিয়ে প্রচন্ড আলোচনা হয়। সমগ্র বাংলাদেশে শিক্ষার্থীরা নিজেদের ক্যাম্পাসে বিচারের দাবীতে আন্দোলন করে এবং ছাত্র ইউনিয়নের নেতৃত্বে শিক্ষার্থীদের একটি দল প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের সামনে প্রতিবাদ মিছিল করে এবং সারা বাংলাদেশে ছাত্র ধর্মঘট পালন করে।

কিন্ত কি কারনে এখনো বিচার হয়নি তনু ধর্ষণ ও হত্যার?
ক্যান্টনমেন্টের ভিতরে তনুর মৃতদেহ পাওয়া যায়! ক্যান্টনমেন্টে সাধারণ মানুষ ঢুকতে পারে না। তাহলে এই কান্ড কে করেছে? ক্যান্টনমেন্টের ভিতরের মানুষ গুলো। তারা কারা? তারা হল বাংলাদেশ সেনাবাহিনী। যদি সেনাবাহিনী ধর্ষণ ও হত্যা করে তার বিচার হবে না? কি করে হবে? কেন যে দেশে সরকারি দলের সধারণ কর্মীরা ধর্ষণ হত্যা করলে তার বিচার হয় না! সেখানে সেনাবাহিনী বিচার! এটা ভাবা যায়। তবুও আমরা কিছু মানুষ বিচার চাইছি, চাইবো সারা জীবন। এই সকল অপকর্মকে বন্ধ করতে হলে নারী পুরুষ ভেদাভেদ ভুলে এক কাতারে এসে যুদ্ধো করতে হবে অন্যায়ের বিরুদ্ধে। জয় আমাদের হবে এক দিন! তনু সহ সকল ধর্ষণ ও হত্যার বিচার চাই, করতে হবে!

লেখক সাধারণ সম্পাদক, বাংলাদেশ ছাত্র ইউনিয়ন রাজবাড়ী জেলা সংসদ

সময়বাংলা/আইসা

সংবাদ সম্পর্কে আপনার মতামত দিন

এ বিভাগের আরো খবর