কুমিল্লার ব্যবসায়ী ফারুকের মৃত্যু রহস্য নিয়ে ধুম্রজাল

বারী উদ্দিন আহমেদ বাবর, সময় বাংলা, কুমিল্লা: মোহাম্মদ ওমর ফারুক। তরুন উদ্যেক্তা ও ব্যবসায়ী। ৪ বোন ও ৭ ভাইয়ের মাঝে সবার ছোট সে। তাঁকে বিয়ে দেয়ার জন্য পাত্রীর সন্ধান করছে পরিবার। পেশায় জনশক্তি রপ্তানী ব্যবসায়ী ছিলেন। একজন সৎ ও সদালাপী ব্যক্তি হিসেবে এলাকায় যথেষ্ট সুনাম রয়েছে তাঁর। নিজ গ্রামের পাশেই ভূশ্চি বাজারে নিজাম উদ্দিন নামের এলাকার এক পরিচিত যুবককে সাথে নিয়ে ‘ট্রাস্ট স্টাডি এন্ড ইমিগ্রেশন’ নামের একটি ব্যবসা প্রতিষ্ঠান পরিচালনা করতেন তিনি। ব্যবসায় সফল ও পারিবারিকভাবে সুখীও ছিলেন। কিন্তু আকস্মিক একটি দুর্ঘটনা তার সব কিছু থামিয়ে দেয়। তার অকাল মৃত্যুতে পরিবারে নেমে আসে এক অনামিশা অন্ধকার। বলছিলাম গত শুক্রবার (১৯ মে) গভীর রাতে রেল দুর্ঘটনায় নিহত এক সফল ব্যবসায়ীর কথা। তার মৃত্যুতে পুরো এলাকা জুড়ে শোকের আবহ তৈরী হয়েছে।

জানা গেছে, কুমিল্লা জেলার সদর দক্ষিণ উপজেলার চেঙ্গাহাটা গ্রামের আবদুল হালিমের সর্বকনিষ্ঠ ছেলে ওমর ফারুক। গত শুক্রবার রাত ১১টার সময় তাঁর প্রতিষ্ঠানের কর্মচারী নিজাম উদ্দিনকে সঙ্গে নিয়ে একই উপজেলার হরিশ্চর এলাকায় যায়। সেখানে নাস্তা সেরে ফেরার পথে ভুশ্চি ও হরিশ্চর এলাকার মাঝামাঝি শিমুলগাছতলা নামক স্থানে দাঁড়ায়। এসময় সেখানে নিজাম উদ্দিনকে বসিয়ে মুঠোফোনে কথা বলতে বলতে রেল সড়কে যায় সে। অনেকক্ষন বসে থাকার পর ফারুক ফিরে না আসায় তাঁর মুঠোফোনে কল দিলে তা বন্ধ পাওয়ায় তাঁকে খুঁজতে থাকে নিজাম। কিন্তু তাকে কোথাও খুঁজে না পেয়ে মোটরবাইকটি নিয়ে ফিরে আসে নিজাম। পরদিন শনিবার (২০ মে) সকালে রেল দুর্ঘটনায় নিহত ফারুকের কাটা লাশের খবর পায় লাকসাম রেলওয়ে পুলিশ। এরপর সকাল সাড়ে ১০টায় রেল পুলিশ তার লাশ উদ্ধার করে ময়না তদন্তের জন্য কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল মর্গে পাঠায়। ময়না তদন্ত শেষে ওইদিন সন্ধ্যায় তার লাশ পারিবারিক গোরস্থানে দাফন করা হয়। এ ঘটনায় লাকসাম রেলওয়ে থানায় একটি অপমৃত্যুর মামলা দায়ের করা হয়েছে।

এদিকে, ফারুকের মৃত্যু নিয়ে ধুম্রজাল সৃষ্টি হয়েছে। কেউ বলছে এটা হত্যা নয় আত্মহত্যা আবার কারো খোঁড়া তর্ক তাঁকে নিজাম পরিকল্পিতভাবে হত্যা করেছে। তাঁর মৃত্যু রহস্য খুঁজছে পুলিশও। পুলিশের প্রাথমিক তদন্তে এটি একটি আত্মহত্যা বা দুর্ঘটনার সম্ভাবনার কথা বলা হচ্ছে। তবে কারো কারো মতে ফারুক ইদানিংকালে ঋণগ্রস্থ হয়ে পড়াড় ফারুক বিষাদগ্রস্থ ছিল। যেকারনে সে আত্মহত্যা করে থাকতে পারে।

ঘটনার রহস্য জানতে চাইলে মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা লাকসাম রেলওয়ে থানার সহকারী উপপরিদর্শক (এএসআই) নজরুল ইসলাম আজ মঙ্গলবার (২৩ মে) বলেন, এটি কোন হত্যা নয় আত্মহত্যা কিংবা দূর্ঘটনা। কেননা লাশের গায়ে কোন আঘাতের আলামত দেখতে পাওয়া যায় নাই। অতএব এটি দুর্ঘটনা ছাড়া আর কিছুই না।

এ ব্যাপারে সন্দেহভাজন নিজাম উদ্দিন বলেন, শুক্রবার রাত ১১টা থেকে সাড়ে ১১টার মধ্যে ফারুক আমার মুঠোফোনে কল দিয়ে বলে নিজাম ভাই আপনি কোথায়? আমি বাচ্ছাদের নিয়ে ঘুমানোর প্রস্তুতি নিচ্ছি বলে জানালে ফারুক বলেন, ভাই আপনী আপনার বাড়ীর পাশের দোকানের দিকে আসেন। পরে আমি লুঙ্গি পরে আমাদের বাড়ীর পাশে দোকানে গিয়ে বসার কিছু সময়ের মধ্যে নিহত ফারুক একটি পালসার মোটরবাইক নিয়ে এসে আমাকে বলে ভাই আসেন। আমি তার পিছনে বসার পর প্রথমে লাকসাম রেলওয়ে জংশনে আসে সেখানে একটু সময় বসার পর আবার আমাকে নিয়ে হরিশ্চর নামক বাজারের হোটেল তাজে পেরুল উত্তর ইউনিয়নের ছাত্রলীগ সভাপতি শিমুলের পিতাসহ নাস্তা খেয়ে সিগারেট কিনে আবার ভুশ্চি বাজারে ফেরার পথে তুলাগাছ তলায় আসার পর মোটর সাইকেলটি দাঁড় করিয়ে সড়কের পাশে পড়ে থাকা একটি বৈদ্যুতিক খঁটির উপর আমাকে বসিয়ে ফারুক মোবাইল ফোনে কথা বলতে বলতে উত্তর দিকে যান। সেদিকে রেল সড়ক নির্মানকারী প্রতিষ্ঠান ম্যাক্স কোম্পানীর একটি ভিলা ও এর পাহাদার ছিল। প্রায় আধা ঘন্টা পর আমি তাকে না দেখে তার মুঠোফোনে কল দেই। কিন্তু তার ফোন বন্ধ পাই। এরপর প্রায় রাত ৩টা পর্যন্ত আমি তাকে খোঁজাখুঁজি করি। আমার সঙ্গে ম্যাক্সের নৈশ প্রহরীও তাঁকে খোঁজেন। একপর্যায়ে ফারুককে না পেয়ে আমি বাড়ীতে ফিরে আসি।

নিহত ফারুকের পিতা আবদুল হালিম বলেন, আল্লাহ দেখেছে আমার ছেলের কি হয়েছে। তবে ফারুকের মৃত্যু কিভাবে হয়েছে সুষ্ঠ তদন্তের মাধ্যমে এর সঠিক কারণ নির্ণয় করে যথাযথ ব্যবস্থা নিতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর প্রতি আমার অনুরোধ রইল। একইভাবে ফারুকের মৃত্যুর কারণ নির্ণয় করতে নিজামও জোরালো দাবী জানান।

সংবাদ সম্পর্কে আপনার মতামত দিন