কুমিল্লায় ভুল চিকিৎসায় প্রসূূতির মৃত্যু

কুমিল্লা প্রতিনিধি: কুমিল্লার দাউদকান্দি উপজেলার গৌরীপুর সিটি হাসপাতালে ভুল চিকিৎসায় এক প্রসূূতি মায়ের মৃত্যুর অভিযোগ উঠেছে। মঙ্গলবার (২ জানুয়ারি) সন্ধ্যায় ওই হাসপাতালে বসেই লাখ টাকায় রফাদফা করেন প্রভাবশালী মহল। নিহতের নাম ফাতেমা বেগম (২৭)। সে উপজেলার গোয়ালী গ্রামের প্রতিবন্ধি নজরুল ইসলামের স্ত্রী এবং তিতাস উপজেলার শিবপুর গ্রামের আব্দুল খালেক মিয়ার মেয়ে।

নিহতের স্বজনরা জানান, গত ২৬ ডিসেম্বর সকালে প্রসব ব্যথা উঠলে মালিগাও ৫০ শয্যা হাসপাতালে নিয়ে যান। কর্মরত চিকিৎসক ফারজান আক্তার প্রাথমিক চিকিৎসা দিয়ে গৌরীপুর সিটি হাসপাতালে নিয়ে যেতে বলেন। সেখানে কিছু পরীক্ষা নিরীক্ষা করার পর প্রসূূতীর রক্ত শুন্যতা দেখা যায়, তখন কর্তৃপক্ষ স্বজনদের অতিরিক্ত রক্তের চাহিদার কথা জানালে তারা রক্তের যোগানের জন্য আত্মীয় স্বজনদের নিকট খোঁজ শুরু করেন।

পরে রক্তের ব্যবস্থা না করেই সিজারিয়ান অপারেশন শুরু করেন চিকিৎসক ফারজানা আক্তার। এসময় একটি কন্যা সন্তান ভুমিষ্ট হলেও প্রসূূতি ফাতেমার অবস্থা খারাপ বলে দ্রুত ঢাকা মেডিকেল নিয়ে যেতে বলেন ডাঃ ফারজানা।

পরে ফাতেমাকে ঢাকা মেডিকেলে নিয়ে যাওয়া হলে অবস্থা গুরুত্বর হওয়ায় রাজধানীর গ্রীন রোডে একটি বেসরকারি হাসপাতলে পাঠানো হয়। ১ জানুয়ারি সোমবার রাত সাড়ে ১১টায় সেখানে মারা যায় ফাতেমা। নিহত ফাতেমার ৮ ও ১০ বছর বয়সী দুই ছেলে রয়েছে এবং সদ্যজাত কন্যা সন্তানটি বর্তমানে তার নানা-নানীর তত্ত্বাবধানে রয়েছে।

নিহতের প্রতিবন্ধী স্বামী নজরুল অভিযোগ করে আরও জানান, ডাক্তার ফারজানা তার স্ত্রীকে সরকারি হাসপাতালে না রেখে প্রাইভেট হাসপাতালে নিয়ে তড়িঘড়ি করে অস্ত্রপচার করার কারণইে তার স্ত্রীর মৃত্যু হয়েছে।

ভাই মামুন মিয়া জানান, সরকারি হাসপাতালে থাকলে আমার বোনকে হয়তো মরতে হতো না। ওই মহিলা ডাক্তারের কথায় এখানে (সিটি হাসপাতাল) আনার কারণেই তাদের অবহেলায় বোনকে হারিয়েছি। আমাদেরকে মামলা না করার জন্য ১লাখ টাকা দেয়ার কথা বলে আশি হাজার টাকা দেয়া হয়েছে।

এ বিষয়ে কুমিল্লা জেলা সিভিল সার্জন ডাঃ মুজিবুর রহমান বলেন, রোগীর পরিবারের পক্ষ থেকে অভিযোগ পেলে তদন্ত সাপেক্ষে হসপিটাল ও চিকিৎসকের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া হবে।

সময় বাংলা/এএইচ

সংবাদ সম্পর্কে আপনার মতামত দিন

এ বিভাগের আরো খবর