কেন ব্যবসা করতে পারছেন না ছোট ব্যবসায়ীরা?

সময় বাংলা,ঢাকাঃব্যবসায় এগিয়ে হকার আর নামী মার্কেটগুলো, ভালো করতে পারছে না মাঝারি শপিংমলগুলো।
নিত্যব্যবহার্য জিনিষপত্র,জামাকাপড়,পোশাকআশাকের জন্য শপিং মল,কেনাকাটার দোকানে ক্রেতাদের ভিড় থাকে সারাবছরই।ইদ,পূজার সময়ে সে ভিড় বেড়ে যায় বহুগুনে।
সারাবছর কমবেশি ব্যবসা হওয়ায় জেলা শহর,উপজেলা শহর,মফস্বল কেন্দ্রীক গড়ে উঠেছে বহু শপিংমল, একই সাথে রাস্তার পাশে টঙ দোকান,ভ্যান,বাক্সে করে কমদামে জিনিষপত্র বিক্রির জন্যে পশরা বসায় হকাররা।
তবে সারাবছর মোটামুটি জমজমাট ব্যবসা করতে পারছে বড়ো নামকরা শপিংমল এবং ফুটপাথের হকাররাই।
মফস্বল বা ছোটশহর কেন্দ্রীক শপিংমলগুলোতে তেমন ব্যবসা হচ্ছে না বলে জানান ঢাকার কয়েকটি শপিং মলের মালিক সমিতির নেতারা।
তারা বলেন, ফুটপাথে কমদামে জামাকাপড় পাওয়া যাবার কারণে ক্রেতারা প্রসাধনী আর মোবাইল ফোনের বাইরে জামাকাপড়ের দোকানগুলোতে কম আসছে, ফলে এসব দোকানিরা ভালো ব্যবসা করতে পারছেনা।

উত্তরবাড্ডা সুভাস্ত মার্কেটের সামনে ভ্যানে করে প্যান্ট শার্ট বিক্রি করা হকার জুয়েল মাহফুজ জানান, বিকেল থেকে রাত ১০-১১ টা পর্যন্ত যে ব্যবসা হয় তা একেবারে খারাপ না।
সারাদিন গার্মেন্টসে অপারেটরের কাজ করে সন্ধ্যায় ভ্যানে এসব বিক্রি করে ভালোই লাভ করা যায় বলে জানান তিনি।

ফুটপাথ থেকে শার্ট কেনা জুলহাস জানান, নিয়মিত ফুটপাথ থেকেই জিনিষপত্র কিনি, দামেও কম আর দেখে নিলে মানসম্মত কাপড়চোপড় কেনা যায়, যেখানে একটু বড়ো মার্কেট থেকে কিনলে দ্বিগুন বাজেটে যেতে হয়।

যমুনা ফিউচার পার্কের ইনফিনিটি হাউজের সেলসম্যান ফারহান বলেন, একদামে পন্য বিক্রির কারণে ক্রেতা নিজের পছন্দসই জামাকাপড় কিনতে পারেণ দেখেশুনে, আমাদের দোকাগুলোতে সারাবছরই কমবেশি বেচাকেনা চলতে থাকে।
তিনি বলেন, তবে ইদানিংকালে অনলাইনভিত্তিক কোম্পানিগুলোও ভালো ব্যবসা করছে,আমরাও অনলাইন ভিত্তিক প্রচারনা করে ব্যবসা করছি,আবার দোকানও করছি।
যারা দেখে শুনে জামাকাপড় কেনেন তারা শপিংমল গুলোতে এসেই কেনে,ফলে ব্যবসা হয়।

ব্যবসা করতে পারছে না মাঝারি মানের শপিংমলগুলো, দোকানভাড়া,কর্মচারী খরচ সবমিলিয়ে গড়ে যে ব্যবসা হয় তাতে লসের ভাগই বেশী থাকে, আবার ফুটপাথের আর এসব দোকানের জিনিষপত্রের ফারাকও খুব বেশি থাকেনা বলে একটু কম সামর্থ্যবানরা ফুটপাথ থেকে পন্য কেনায় বেশী আগ্রহ দেখাচ্ছে বলে জানান বাড্ডার কনফিডেন্স শপিং মলের নূর বস্রালয়ের ম্যানেজার শরীফুল ইসলাম মিয়া।
তিনি বলেন, আমাদের পন্যের দাম নির্ধারণে সবকিছু হিসেব করে ধরতে হয়,দোকান ভাড়া, কর্মচারীসহ নানা হিসেব করতে হয়, আবার দামবেশি হবার কারণে ক্রেতারা আগ্রহ হারাচ্ছে, বেচাকেনা কম হবার কারণে ব্যবসায় লস হচ্ছে।

/আসা

সংবাদ সম্পর্কে আপনার মতামত দিন