কোচিং সেন্টার বন্ধ হলেই কি প্রশ্নফাঁস বন্ধ হবে?

আরিফুল ইসলাম সাব্বির: শিক্ষামন্ত্রী ২৬জানুয়ারি থেকে দেশের সকল কোচিং সেন্টার বন্ধের নির্দেশ দিয়েছেন। প্রশ্নফাঁস হলে প্রোয়োজনে ১০বার পরীক্ষা নেওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন। আওয়ামীলীগ সরকার গঠন করার পর থেকেই নিয়মিত প্রশ্নফাঁসের ঘটনা ঘটেছে, স্কুল,কলেজ,বিশ্ববিদ্যালয়, ভর্তি পরীক্ষা, মেডিকেল কলেজ, চাকরির নিয়োগ পরীক্ষাসহ সকল জায়গাতেই প্রশ্নফাঁসের ঘটনা ঘটেছে। সেসব প্রশ্নফাঁসের ঘটনায় দায়ী হিসেবে বেরিয়ে এসেছে বোর্ড কর্মকর্তা,ছাত্রলীগ নেতা,কোচিং সেন্টার,প্রাইভেট টিউটর,শিক্ষক, প্রেসসহ পরীক্ষা সংশ্লিষ্ট নানা কর্মকর্তা, কর্মচারীদের নাম। নানাসময় আটকও করা হয়েছে নানাজনকে।

কিন্ত প্রশ্নফাঁস বন্ধ করা গেছে কি?
সেই প্রশ্নের উত্তরতো প্রথম লাইনেই আছে, যায়নি। বরং শিক্ষামন্ত্রীর উদ্ভট সব বক্তব্য, শিক্ষামন্ত্রীর এপিএস এর ফুলেফেঁপে ওঠার নানা সংবাদ দেখা গিয়েছে সংবাদমাধ্যমগুলোতে। এপিএসকে গ্রেফতার করা হয়েছে কিন্ত অজানা কোন জুজুর কারণে তাকে বিচারের মুখোমুখি করা হয়নি! বরং শেষতক শিক্ষামন্ত্রী বলেছেন, প্রশ্নফাঁস হলে প্রয়োজনে ১০বার নেয়া হবে পরীক্ষা। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম বন্ধের সুপারিশ করেছেন মাননীয় শিক্ষামন্ত্রী।

ফেসবুক,হোয়াটসএপপ,মেসেঞ্জারসহ নানা সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম হয়ে একরাতের মধ্যেই পরেরদিনের পরীক্ষার প্রশ্ন আগেরাতে ছড়িয়ে গেছে সারাদেশে।সেসব প্রশ্ন কোচিং, প্রাইভেট হয়ে শিক্ষার্থীর হাতে। প্রশ্নফাঁসের ঘটনায় বেসরকারি মাধ্যমের গবেষণায় দেখা গেছে- প্রশ্নপত্র প্রণয়নের সাথে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা,এবং প্রেস হলো প্রশ্নপত্র ফাঁস এর প্রথম মাধ্যম এবং শেষতক তা কোচিং, প্রাইভেট হয়ে শিক্ষার্থীর হাত পর্যন্ত পৌঁছায়, পরীক্ষার স্তর অনুযায়ী এই প্রশ্নপত্রের দাম নির্ধারিত হয়, সেই সংখ্যা ‘লাখ’ থেকে শুরু হয়ে ‘শ’ পর্যন্ত বিকোয়।
বোর্ড পরীক্ষা, ভর্তি পরীক্ষা, নিয়োগ পরীক্ষায় যখন যেকোন উপায়ে সর্বোচ্চ পরিমাণ নাম্বার পাওয়ার প্রতিযোগীতায় রুপ নেয় তখন অসুস্থভাবে পরীক্ষায় অংশগ্রহণ বাড়বে সেটাই স্বাভাবিক। আর সামাজিক যোগাযোগের এপপ এখানে শুধুই একটা প্রচার মাধ্যম হিসেবে কাজ করে। প্রচারের মাধ্যমের অভাবও যে এখন আর নেই সেটা কি শিক্ষামন্ত্রীর লোকজন রাখেন?

কিভাবে বন্ধ হবে প্রশ্ন ফাঁস?
প্রথমত প্রশ্ন করতে হবে,শিক্ষার্থীরা কেনো ফাঁস হওয়া প্রশ্নে আস্থা রাখছে?
ঢাবির ইংরেজি বিভাগের ফল বিপর্যয়ের ঘটনা পত্রপত্রিকা মারফত জানা গিয়েছিলো, শিক্ষার মান কমে যাওয়া, ক্লাসের পড়াশোনা ঠিকমত না হওয়া, মানহীন শিক্ষক দ্বারা শিক্ষা প্রতিষ্ঠান পরিচালনা, পর্যাপ্ত শিক্ষক না থাকা, পড়াশোনাকে শিক্ষার্থী বান্ধব করে তুলতে না পারার কারণেই শিক্ষার্থীরা পড়াশোনা বিমুখ হয়ে পড়েছে। অথচ তাদের মাথায় ভালো রেজাল্ট করার ভূতও আমরাই চাপিয়েছি। যে শিক্ষার্থী ঠিকমত পড়াশোনাটা না করে,তার কাছে ফাঁস হওযা প্রশ্নপত্রটা খুবই জরুরি, এজন্যে টাকা পয়শা যাই লাগুক সেটা অসাদুপায় মনে করে না, ফলে মানসিক বিকাশ ঘটার আগেই সে প্রশ্নফাঁসের মত অপরাধে জড়িয়ে পড়ে, দূর্নীতি করে অংশ নেয় পরীক্ষায়। সাথে প্রশ্নফাঁস করে অর্থনৈতিক লাভ করে দূর্নীতিবাজ কর্মকর্তা, টাকার বিনিময়ে প্রশ্ন ফাঁস করে মুদ্রন কার্যালয় আর সেসব থেকেই কোচিং প্রাইভেটের শিক্ষকরা সেসব ফাঁস হওয়া প্রশ্নপত্র শিক্ষার্থীর হাতে পৌঁছে দেন। দূর্নীতির এক চক্র গড়ে উঠেছে ঠিক এভাবেই।

প্রশ্নফাঁসের সাথে জড়িতে হিসেবে এ পর্যন্ত যাদের নাম এসেছে তারা কোন না কোন ভাবে প্রশ্নপত্র বিতরণ, মুদ্রনের সাথে জড়িত,কেউ কেউ আবার ক্ষমতাসীন দলের ক্ষমতাবান নেতা, কোচিং প্রাইভেট তো কাষ্টমার পর্যায়ের লোক। দায়ীদের খুঁজে বের করে শাস্তির আওতায় আনা গেলে কিছুটা হলেও প্রশ্ন ফাঁসে প্রশাসনিক কর্মকর্তাদের জড়িত থাকার বিষয়টি রোধ করা যেতো। সাথে পড়াশোনার মান, শিক্ষকের মান,পর্যাপ্ত শিক্ষক বাড়ানো গেলে শিক্ষার মান বৃদ্ধি হলে তখন প্রশ্নফাঁস হলেও সেসবে শিক্ষার্থীরা আকৃষ্ট হবে না। শিক্ষার গুনগত মান বাড়ানো এখন সময়ের দাবি।

আরিফুল ইসলাম সাব্বির, ছাত্র অধিকার কর্মী

সংবাদ সম্পর্কে আপনার মতামত দিন