কোনো কোটাই থাকবে না: প্রধানমন্ত্রী

সময় বাংলা, ঢাকা:
সরকারি চাকরিতে কোনো ধরনের কোটা থাকবে না বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। বুধবার জাতীয় সংসদের ২০তম অধিবেশনে তিনি এ ঘোষণা দেন। জাহাঙ্গীর কবির নানকের সম্পূরক এক প্রশ্নের উত্তরে তিনি এ কথা বলেন।

এর আগে প্রধানমন্ত্রী সরকারি চাকরির সব কোটা তুলে দিচ্ছেন এবং সন্ধ্যায় সংসদে এ বিষয়ে ঘোষণা আসতে পারে বলে ছাত্রলীগ নেতাদের পক্ষ থেকে ফেসবুকে বার্তা দেয়া হলেও ক্যাম্পাসে শিক্ষার্থীদের বিক্ষোভ, অবস্থান চলতে থাকে। এই আন্দোলন সারা দেশে ছড়িয়ে পড়ে।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসির বাড়ি পাকিস্তানী হানাদার বাহিনীর মত ভাঙচুর করা হয়েছে। তিনি এর তীব্র নিন্দা জানান।

শেখ হাসিনা বলেন, হলের মেয়েরা রাতে রাস্তায় নেমে এলো। দুর্ঘটনার আশঙ্কায় সারা রাত ঘুমোতে পারেনি।
বিসিএসে যারা পরীক্ষা দেয় সবাই মেধাবী উল্লেখ করে তিনি বলেন, কোটা থেকে যারা আসে তারাও তো এক সাথে পরীক্ষা দেয়। পরীক্ষায় পাস করলেই তো সরকারি চাকরিতে সুযোগ পায়।

তিনি আরো বলেন, তারপরেও ছাত্ররা এই রোদের মধ্যে বসে আন্দোলন করছে। আমি বলি এর চেয়ে ভালো কোনো কোটাই থাকবে না।

গত রোববার ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে রাতভর কোটা সংস্কার দাবিতে আন্দোলনকারীদের সঙ্গে পুলিশ ও ছাত্রলীগের সংঘর্ষ হয়। পর সোমবার সচিবালয়ে সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের আন্দোলনকারীদের নিয়ে বৈঠক করেন। বৈঠকে ৭ মের মধ্যে কোটা ব্যবস্থা পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে সিদ্ধান্ত জানানোর প্রতিশ্রুতি দেন সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের। ওই প্রতিশ্রুতিতে শিক্ষার্থী প্রতিনিধিরা ৭ মে পর্যন্ত আন্দোলন স্থগিতের ঘোষণা দেয়।

পরে কয়েকজন মন্ত্রীর কোটা সংস্কার নিয়ে বক্তব্যে আন্দোলনকারীরা ওই বৈঠকে নেয়া সিদ্ধান্তরে প্রতি আস্থা হারিয়ে ফেলেন। এরপর মঙ্গলবার সন্ধ্যায় আন্দোলনকারীদের প্ল্যাটফরম ছাত্র অধিকার সংরক্ষণ পরিষদ আবারও একসঙ্গে আন্দোলন চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণা দেয়।

সে অনুযায়ী বুধবার সকাল থেকে সারা দেশে উচ্চ শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীরা ক্লাস-পরীক্ষা বর্জন করে রাস্তায় নামে। বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় ও বিভিন্ন কলেজ আন্দোলনকারীদের অবরোধে অচল হয়ে যায় রাজধানীর রাজপথ। তারা প্রধানমন্ত্রীর কাছ থেকে এ বিষয়ে সুনির্দিষ্ট বক্তব্য দাবি করেন।

এসএস

সংবাদ সম্পর্কে আপনার মতামত দিন