খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধে দেশদ্রোহিতার মামলা : অস্ট্রেলিয়া বিএনপির প্রতিবাদ

সময় বাংলা, অস্ট্রেলিয়া:

12 astrelia bnpবিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধে সাজানো দেশদ্রোহিতার মামলার প্রতিবাদে এক প্রতিবাদ সমাবেশ বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদীদল বিএনপি অঙ্গ সহযোগী সংগঠন অস্ট্রেলিয়ার উদ্যোগে সিডনির রকডেল্লাহ কস্তুরী ফাংশন সেন্টারে অনুষ্ঠিত হয়েছে।

রোববার এ সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়।

পবিত্র কোরআন তেলোওয়াতের মাধ্যমে অনুষ্ঠান শুরুর পরপরই বাংলাদেশ স্বাধীনতা সংগ্রাম ও মুক্তিযুদ্ধে শহীদদের প্রতি মাগফেরাত কামনা করেন। এরপর বাংলাদেশে গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারের স্বপ্নপুরুষ শহীদ রাষ্ট্রপতি মহান স্বাধীনতার ঘোষক জিয়াউর রহমান এবং আরাফাত রহমানের আত্মার মাগফেরাত কামনা করা হয়।

বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী স্বেচ্ছাসেবকদল কেন্দ্রীয় কমিটির আন্তর্জাতিক বিষয়ক সম্পাদক এবং বিএনপি অস্ট্রেলিয়ার সাবেক যুগ্ম আহ্বায়ক মো. মোসলেহউদ্দিন হাওলাদার আরিফের সভাপতিত্বে সভায় প্রধান অতিথি হিসাবে বক্তব্য রাখেন বিএনপি অস্ট্রেলিয়ার সাবেক আহ্বায়ক মো. দেলোয়ার হোসেন এবং বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন বিএনপি অস্ট্রেলিয়ার সাবেক উপদেষ্টা ড. জহিরুল হক মোল্লা।

এছাড়া আরো বক্তব্য রাখেন জিয়া পরিষদ অস্ট্রেলিয়ার সভাপতি মো. নাসিম উদ্দিন আহমেদ, স্বেচ্ছাসেবকদল অস্ট্রেলিয়ার সাধারণ সম্পাদক এ এন এম মাসুম, জাসাস অস্ট্রেলিয়া শাখার সভাপতি আবদুস সামাদ শিবলু, নিউ সাউথ ওয়েলস বিএনপির সভাপতি কামরুল হাসান শামীম, সাংগঠনিক সম্পাদক মোহাম্মদ দিলোয়ার হোসেন, স্বেচ্ছাসেবকদল সাংগঠনিক সম্পাদক মৌয়াইমেন খান মিশু, আরাফাত রহমান কোকো স্মৃতি সংসদের সভাপতি আবদুল্যাহ আল মামুন , সাধারণ সম্পাদক জেবেল হক জাবেদ, যুবদল অস্ট্রেলিয়া সাংগঠনিক সম্পাদক মো. আবুল কাশেম, নিউ সাউথ ওয়েলস স্বেচ্ছাসেবকদল সভাপতি খায়রুল কবির পিন্টু, সাধারণ সম্পাদক সাইমুন বিন শামস।

বিএনপির নেতৃবৃন্দের মধ্যে আরও উপস্থিত ছিলেন- আবুল কালাম আজাদ, রিপন মিয়া, শফিকুর রহমান ভূইয়া, মো. আবদুল ওয়াদুদ, মো. মিজানুর রহমান, মো. আনিসুর রহমান, এম এ কাশেম, মো. রাসেল মিয়া, আসিফ ইকবাল, মোহাম্মদ ইসলাম, আসিকুল ইসলাম, ফয়সাল আহমেদ, মোহাম্মদ জুলফিকার আলী, সিরাজুল ইসলাম, মো. রফিকুল ইসলাম, আবদুল মোতালেব, সাইয়েদ রহমান, মো. কামাল হোসেন, মাসুদ রানা, মো. লিটন, মো. সুমন, মো. আলমগীর হোসন, মির্জা সিদ্দিক, মো. রাসেল, রবিউল ইসলাম প্রমুখ।

মো. দেলোয়ার হোসেন বলেন, শুধু রাজনৈতিক উদ্দেশেই খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধে একের পর এক মামলা দায়ের করা হচ্ছে। খালেদা জিয়া রাজনীতির মাঠে থাকলে ক্ষমতাসীনদের টনক নড়ে যায়। আর তাই তাঁকে রাজনীতি থেকে সরাতেই এসব মিথ্যা মামলা দায়ের করা হচ্ছে। তারা মামলাবাজ সরকার। এভাবে মিথ্যা মামলা দিয়ে সরকার জনগণকে বিভ্রান্ত করার অপচেষ্টা করছে। দেশনেত্রীর বিরুদ্ধে এরকম মিথ্যা মামলা দিয়ে তারা (সরকার) তাদের কফিনে শেষ পেরেক দিয়েছে।

বিএনপির চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধে রাষ্ট্রদ্রোহের মামলা দেয়াকে অমার্জনীয় অপরাধ আখ্যা দিয়ে ড. জহিরুল হক মোল্লা বলেন, খালেদা জিয়া মুক্তিযুদ্ধ নিয়ে যে কথা বলেছেন তাতে রাষ্ট্রদ্রোহিতার কিছুই নেই। ১৯৭১ সালে মহান মুক্তিযুদ্ধে কয়জন শহীদ হয়েছিল তার সঠিক হিসেব না করে তার বিরুদ্ধে রাষ্ট্রদ্রোহিতার যে মামলা দেয়া হয়েছে তা অমার্জনীয় এবং কিছুতেই গ্রহণযোগ্য নয়।

সভাপতির বক্তব্যে মো. মোসলেহউদ্দিন হাওলাদার আরিফ বলেন, খালেদা জিয়া মুক্তিযুদ্ধে শহিদের সংখ্যা বলেননি। তার বক্তব্যে দেশদ্রোহিতার কোনো উপাদান নেই। সরকার খালেদা জিয়াকে রাজনীতি করতে দিতে চায় না, তাই মিথ্যা মামলা হয়েছে। রাজনৈতিক মামলা হতে পারে। কিন্তু একজন রাজনীতিবিদের বিরুদ্ধে রাষ্ট্রদ্রোহ মামলা অপমানজনক ও অসম্মানজনক। সরকারের প্রতি হুঁশিয়ারি দিয়ে তিনি বলেন, “দেশনেত্রীকে সরকার ভয় পায়। তাই তার বিরুদ্ধে রাষ্ট্রদ্রোহ মামলা জনগণ মেনে নেবে না। যত অত্যাচার করুন না কেন, জনগণের বিচার হবে শেষ বিচার। মানুষ জেগে উঠলে এ সরকারের পতন অনিবার্য।”

অনুষ্ঠানটি সার্বিকভাবে পরিচালনা করেন বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী যুবদল অস্ট্রেলিয়ার সাধারণ সম্পাদক এ এস এম আবু সায়েম।

সংবাদ সম্পর্কে আপনার মতামত দিন