খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধে সাজা বাড়াতে কেন নির্দেশ নয়: হাইকোর্ট

সময়বাংলা, রাজনীতি: জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট মামলায় বিএনপির চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার সাজা বাড়াতে কেন নির্দেশ দেওয়া হবে না জানতে চেয়ে রুল জারি করেছে হাইকোর্ট।

বুধবার বেলা সাড়ে ৩টার দিকে বিচারপতি এম. ইনায়েতুর রহিম ও বিচারপতি একেএম সহিদুল করিমের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ এ আদেশ দেয়। রাষ্ট্রপক্ষে ঢাকা জেলা প্রশাসক ও খালেদা জিয়াকে চার সপ্তাহের মধ্যে ওই রুলের জবাব দিতে বলা হয়েছে বলে জানা গেছে।

রিভিশন আবেদনে দুদক খালেদা জিয়া ও রাষ্ট্রপক্ষকে বিবাদী করেছে।

পরে খালেদা জিয়ার আইনজীবী জয়নুল আবেদীন আদেশের বিষয়টি নিশ্চিত করে সাংবাদিকদের বলেন, ‘দুদক এ রকম আবেদন করতে পারে না। দুর্নীতি দমন কমিশন একটি স্বাধীন প্রতিষ্ঠান। একটি স্বাধীন প্রতিষ্ঠান এ রকম আবেদন করতে পারে না।’

এর আগে ২৭ মার্চ মঙ্গলবার দুপুরে খালেদা জিয়ার সাজা বাড়ানোর আবেদনের বিষয়টি শুনানির জন্য আদালতে উপস্থাপন করেন দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) পক্ষে আইনজীবী খুরশিদ আলম খান। বিষয়টির গ্রহণযোগ্যতার বিষয়ে শুনানির জন্য বুধবার দিন ঠিক করেন আদালত।

এ মামলার অপর আসামি বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানসহ পাঁচ আসামিকে ১০ বছর করে কারাদণ্ড দেয় আদালত। রায় ঘোষণার পর থেকেই পুরান ঢাকার নাজিমউদ্দিন রোডের কারাগারে রয়েছেন খালেদা জিয়া।

রায়ের বিরুদ্ধে গত ২০ ফেব্রুয়ারি হাইকোর্টে আপিল করেন খালেদা জিয়া। একইসঙ্গে জামিনও চান বিএনপির চেয়ারপারসন। পরে খালেদা জিয়ার আপিল শুনানির জন্য গ্রহণ করে বিচারপতি এম. ইনায়েতুর রহিম ও বিচারপতি শহিদুল করিমের হাইকোর্ট বেঞ্চ। শুনানি শেষে আদালত ১২ মার্চ খালেদা জিয়াকে এ মামলায় চার মাসের জন্য অন্তর্বর্তীকালীন জামিন দেয়।

১৩ মার্চ, খালেদার জামিন স্থগিত চেয়ে চেম্বারে আবেদন করে দুদক ও রাষ্ট্রপক্ষ। শুনানি শেষে ১৪ মার্চ পর্যন্ত খালেদা জিয়াকে হাইকোর্টের দেওয়া জামিন আদেশ স্থগিত করেন চেম্বার বিচারপতি হাসান ফয়েজ সিদ্দিকী এবং আপিল বিভাগের পূর্ণাঙ্গ বেঞ্চে শুনানির জন্য ১৪ মার্চ দিন নির্ধারণ করেন।

এরপর ১৪ মার্চ, প্রধান বিচারপতি সৈয়দ মাহমুদ হোসেনের নেতৃত্বাধীন চার বিচারপতির আপিল বেঞ্চ ১৮ মার্চ পর্যন্ত খালেদা জিয়ার জামিন স্থগিত করে দুদক ও রাষ্ট্রপক্ষকে লিভ টু আপিল করতে আদেশ দেয়।

১৮ মার্চ, সোমবার এ মামলার শুনানি করে দুদক ও রাষ্ট্রপক্ষের লিভ টু আপিল গ্রহণ করে আপিল বিভাগ। পাশাপাশি ৮ মে পর্যন্ত খালেদা জিয়ার জামিন স্থগিত করে আদালত।

সময়বাংলা/আইজু

সংবাদ সম্পর্কে আপনার মতামত দিন