ঘষামাঝা করে মিথ্যা ডকুমেন্টের মামলায় ‘খালেদাকে সাজা দেয়া যাবে না’

সময় বাংলা, ঢাকা: জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট দুর্নীতি মামলায় বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া বেকসুর খালাস পাবেন বলে মন্তব্য করেছেন তার দলের স্থায়ী কমিটির সদস্য ব্যারিস্টার মওদুদ আহমদ। জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট দুর্নীতি মামলার যুক্তিতর্ক উপস্থাপন শেষে বকশীবাজার আলিয়া মাদ্রাসায় স্থাপিত বিশেষ আদালত-৫ এ প্রাঙ্গণে উপস্থিত সাংবাদিকদের কাছে এ মন্তব্য করেন তিনি। মওদুদ আহমদ বলেন, এ মামলায় খালেদা জিয়াকে সাজা দেয়া যাবে না। ঘষামাঝা করে মিথ্যা ডকুমেন্ট তৈরি করে এ মামলা তৈরি করা হয়েছে।

তিনি বলেন, তারা (তদন্তকর্মকর্তা) মামলার মূল নথি না পাওয়ায় সিজন করে কাগজপত্র তৈরি করা হয়েছে। মামলটি যে ভুয়া আমরা আদালতে তা উপস্থাপন করেনি।

মওদুদ বলেন, যারা মিথ্যা তথ্য দিয়েছে তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়ার জন্য আবেদন করব।

মওদুদ আহমেদের বক্তব্যের প্রতিক্রিয়ায় দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) পক্ষে আইনজীবী মোশাররফ হোসেন কাজল আদালত প্রাঙ্গণে সাংবাদিকদের বলেন, ৩২ জন সাক্ষির মাধ্যমে আমরা মামলা প্রমাণ করতে পেরেছি। এখন আসামি পক্ষের আইনজীবীরা বিভিন্ন কৌশল অবলম্বন করছেন। আগে তারা বলতো মামলার নথি ছিল না। এখন বলছে নথি ঘষামাঝা করা হয়েছে।

তিনি বলেন, যুক্তিতর্ক শেষ হলে আমরা এর জবাব দেব।

বুধবার পৌনে ১২টায় পুরানো ঢাকার বকশীবাজার আলিয়া মাদ্রাসায় স্থাপিত বিশেষ আদালত-৫ এ যুক্তিতর্ক উপস্থাপন শেষ হয়েছে।

আগামিকাল বৃহস্পতিবারও যুক্তিতর্কের জন্য দিন নির্ধারণ রয়েছে।

এ কারণে ওইদিনও খালেদা জিয়াকে আদালতে হাজির হতে হবে।

এর আগে জিয়া অরফানেজ ও জিয়া চ্যারিটেবল ট্রাস্ট দুর্নীতির দুই মামলায় হাজিরা দিতে বেলা ১১টা ৩৮ মিনিটে আদালতে পৌঁছান খালেদা জিয়া। আদালতের উদ্দেশে তিনি বেলা ১১টায় গুলশানের বাসভবন ‘ফিরোজা’ থেকে রওনা হন বলে জানিয়েছিলেন বিএনপি চেয়ারপারসনের প্রেস উইংয়ের সদস্য শামসুদ্দিন দিদার।

বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধে দায়ের করা জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট মামলার পরবর্তী যুক্তিতর্ক উপস্থাপনের জন্য আজ বুধবার (৩ জানুয়ারি) ও ৪ জানুয়ারি নির্ধারিত রয়েছে। গত বছর ২৮ ডিসেম্বর বকশীবাজার আলিয়া মাদ্রাসায় স্থাপিত বিশেষ আদালত-৫ এর বিচারক ড. আখতারুজ্জামান এ দিন ধার্য করেন। এর আগে আদালতে ২৬, ২৭ ও ২৮ ডিসেম্বর মামলার যুক্তিতর্ক দিন ধার্য ছিল।

ওই দিন খালেদা জিয়ার পক্ষে তার আইনজীবী খন্দকার মাহবুব হোসেন ও এজে মোহাম্মদ আলী যুক্তিতর্ক উপস্থাপন করেন। আজ (৩ জানুয়ারি) ও আগামীকাল বৃহস্পতিবার (৪ জানুয়ারি) তিনি যুক্তিতর্ক উপস্থাপন করবেন।

১৯ ডিসেম্বর এ মামলার যুক্তি উপস্থাপন শুরু হয়। রাষ্ট্রপক্ষ ১৯ ডিসেম্বর তাদের যুক্তি উপস্থাপন শেষ করে খালেদার সর্বোচ্চ শাস্তির আবেদন করেন। ২০ ডিসেম্বর খালেদার পক্ষে যুক্তি উপস্থাপন শুরু করেন তার আইনজীবী আব্দুর রেজাক খান। এদিন শেষ না হওয়ায় ২১ ডিসেম্বর পরবর্তী যুক্তি উপস্থাপনের দিন ধার্য করেন আদালত। ২১ ডিসেম্বর খালেদার পক্ষে যুক্তি উপস্থাপন শেষ না হওয়ায় ২৬, ২৭ ও ২৮ ডিসেম্বর পরবর্তী যুক্তি উপস্থাপনের জন্য দিন ধার্য করেন আদালত। ওইদিনও শেষ না হওয়ায় ৩ ও ৪ জানুয়ারি পরবর্তী দিন ধার্য করেন আদালত।

আরো পড়ুন: তাহলে এমামলা চলছে কি করে?

আজ বুধবার খালেদা জিয়ার আইনজীবী এজে মোহাম্মদ আলী দ্বিতীয় দিনের মত যুক্তিতর্ক উপস্থাপন করবেন।

এছাড়া জিয়া চ্যারিটেবল ট্রাস্ট দুর্নীতি মামলাও কার্যক্রমের দিন ধার্য রয়েছে।

খালেদা জিয়ার হাজিরা ঘিরে আদালত ও এর আশপাশের এলাকায় বাড়তি নিরাপত্তা নেওয়া হয়েছে। বিপুল সংখ্যক পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। এছাড়া আদালতের প্রধান ফটকে স্ক্যানার বসিয়ে তল্লাশি করে ভেতরে ঢোকানো হচ্ছে।

মামলার এজাহার থেকে জানা গেছে, জিয়া চ্যারিটেবল ট্রাস্টের নামে অবৈধভাবে তিন কোটি ১৫ লাখ ৪৩ হাজার টাকা লেনদেনের অভিযোগ এনে খালেদা জিয়াসহ চারজনের বিরুদ্ধে ২০১০ সালের ৮ আগস্ট তেজগাঁও থানায় মামলা করে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)।

পরে ২০১২ সালের ১৬ জানুয়ারি মামলার তদন্ত কর্মকর্তা দুদকের উপ-পরিচালক হারুন-অর-রশীদ বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়াসহ চারজনের বিরুদ্ধে আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করেন। ২০১৪ সালের ১৯ মার্চ আসামিদের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করেন ঢাকার তৃতীয় বিশেষ জজ আদালতের বিচারক বাসুদেব রায়।

এ মামলার অন্য আসামিরা হলেন— খালেদা জিয়ার সাবেক রাজনৈতিক সচিব হারিছ চৌধুরী (পলাতক), হারিছের তখনকার সহকারী একান্ত সচিব ও বিআইডব্লিউটিএর সাবেক নৌ-নিরাপত্তা ও ট্রাফিক বিভাগের ভারপ্রাপ্ত পরিচালক জিয়াউল ইসলাম মুন্না এবং ঢাকার সাবেক মেয়র সাদেক হোসেন খোকার একান্ত সচিব মনিরুল ইসলাম খান।

এ ছাড়া জিয়া অরফানেজ ট্রাস্টের দুই কোটি ১০ লাখ ৭১ হাজার ৬৪৩ টাকা আত্মসাতের অভিযোগ এনে খালেদা জিয়া ও তারেক রহমানসহ ছয়জনের বিরুদ্ধে ২০০৮ সালের ৩ জুলাই রমনা থানায় অপর একটি মামলা করে দুদক।

২০১০ সালের ৫ আগস্ট তাদের বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র দাখিল করেন দুদকের উপ-পরিচালক হারুন-অর-রশীদ। ২০১৪ সালের ১৯ মার্চ তাদের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করেন ঢাকার তৃতীয় বিশেষ জজ আদালতের বিচারক বাসুদেব রায়।

মামলায় খালেদা জিয়া ও তারেক রহমান ছাড়া বাকি আসামিরা হলেন— মাগুরার সাবেক এমপি কাজী সালিমুল হক কামাল, ব্যবসায়ী শরফুদ্দিন আহমেদ, প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের সাবেক সচিব কামাল উদ্দিন সিদ্দিকী ও বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা জিয়াউর রহমানের ভাগ্নে মমিনুর রহমান।

সংবাদ সম্পর্কে আপনার মতামত দিন