চিরকাল খ্যাতি থাকে না, এটাই বাস্তবতা: আরিফিন ‍শুভ

সময়বাংলা, বিনোদন: ‘দেখিয়ে দাও অদেখা তোমায়’ থিমকে সামনে রেখে চলছে চ্যানেল আই প্রেজেন্টস লাক্স সুন্দরী প্রতিযোগিতা। সুপারস্টার হওয়ার স্বপ্ন নিয়ে প্রতিযোগীরা যোগ দিয়েছেন এ প্রতিযোগিতায়। রাজধানীর তেজগাঁওয়ের একটি স্টুডিওতে চলছে শুটিং। এ আয়োজনের বিচারক হিসেবে রয়েছেন এই সময়ের জনপ্রিয় অভিনেতা আরিফিন শুভ। আয়োজনটির বিভিন্ন দিক নিয়ে তার সঙ্গে যে কথা।

প্রশ্ন: আপনার স্টাইল, ফ্যাশন সেন্স আর অভিনয় সবই ইউনিক। এসবের বাইরে কোন অদেখা বিষয়টি আপনাকে আজকের আরিফিন শুভ করেছে?

আরিফিন শুভ: সবই দেখা, অদেখা এমন কিছু নেই। কারণ আমি সব সময় তো ট্রান্সপারেন্ট। আমার লাইফের কোনো কিছুই লুকানো নেই। তবে আমার যেটা মনে হয় যে জীবনবোধ, আমি জীবনকে এভাবে দেখি–এখন যা আছি, সেটা একটা ফেইজ, এটা চিরকাল থাকবে না। সে কারণে বোধহয় আমার ভেতরে ইনসিকিউরিটি কম। ফলে আমি আমার মতো করে বাঁচি, ভাবি। এজন্য কাজগুলোও সেরকমই হয়।

 

প্রশ্ন: আপনার ফ্যান ফলোয়ারদের কেউ জানে না, এমন তিনটি অদেখা দিক বলুন…

আরিফিন শুভ: আমি খুব ভালো রান্না করতে পারি। ভালো ম্যাসাজ করতে পারি। যারা আমার কাছের বন্ধু তাদের খুব জ্বালাই। তারা আমাকে দুই চোখে দেখতে পারে না। তারা আমাকে এত ভালোবাসে, যে কারণে তারা আমার সাথে এখনও আছে।

 

প্রশ্ন: খ্যাতিকে আপনি কীভাবে উপভোগ করেন?

আরিফিন শুভ: উপভোগ করি, ওই যে বললাম এটি প্রথম প্রশ্নের সঙ্গে কানেক্টেড। এই খ্যাতিটাকে খুব একটা কাউন্ট করি না। কেন কাউন্ট করি না, কারণ এটাকে যদি কাউন্ট করি, আমার মধ্যে এক ধরনের বিষয় চলে আসবে যে, আমি একটা সময় গিয়ে ভয় পাওয়া শুরু করব। একটা সময় এই খ্যাতি না থাকলে কি হবে। চিরকাল তো এই খ্যাতি থাকবে না, এটা তো বাস্তবতাও। তাই খ্যাতিকে এনজয় করি, কিন্তু মাথায় তুলি না।

 

প্রশ্ন: একজন তারকা হিসেবে নিজের কাছে আপনার নিজের কমিটমেন্ট কী?

আরিফিন শুভ: সততা, সতর্কতাবোধ, সময়জ্ঞান–এই বিষয়গুলোর প্রতিই আমি সবসময় খেয়াল রাখি। আমি জানি যদি ভালো কিছু করতে হয় এই দিকগুলোর প্রতি হার্ডলি খেয়াল রাখতে হবে।

 

প্রশ্ন: এবারই প্রথম আপনি লাক্স সুপারস্টারের বিচারক হয়েছেন…

আরিফিন শুভ: খুবই এক্সসাইটেড, আমি নিজেও এখনো শিখছি। সেই ১৯৯৬ সাল থেকে লাক্স সুপারস্টার হচ্ছে, আমার মনে হয় এখন পর্যন্ত আমিই সবচাইতে তরুণ বিচারক বয়সের দিক থেকে। আমি বিচার করার সাথে সাথে নিজেও কিছু কিছু বিষয় শিখছি।

 

প্রশ্ন:বিচারকের দায়িত্ব পালন করাটা কতটা কঠিন বলে মনে করছেন?

আরিফিন শুভ: এটা একটা টাফ জব। এখানে আপনি চাইলেও নরম হতে পারবেন না। এই জায়গাতে খুব অসুবিধা হচ্ছে। যদি আমি কাজের প্রতি সৎ থাকি, তাইলে আমাকে সততার সাথে বিচার করতে হবে। সে কাজটি করাতেই অনেকে কষ্ট পান। এটা যেহেতু আমার দায়িত্ব, তাই সততার সাথেই কাজটি করছি।

 

প্রশ্ন: ‘অদেখা সৌন্দর্যের খোঁজ’ করায় কোন বিষয়গুলোকে বেশি গুরুত্ব দিচ্ছেন?

আরিফিন শুভ: ইনার বিউটি (ভিতরের সৌন্দর্য)।

 

প্রশ্ন: লাক্স সুপার স্টার প্রতিযোগিতায় এখন পর্যন্ত টিকে থাকা মেয়েদের উদ্দেশ্যে কী?

আরিফিন শুভ: এখন পর্যন্ত যারা টিকে আছে, তাদের প্রত্যেকের জন্যই ‍শুভ কামনা। কারণ তারা এতগুলোর মেয়ের মধ্য থেকে নিজের যোগ্যতা গুণেই টিকে আছে। একটাই অনুরোধ করব–এটাকে তারা যেন টেকেন ফর গ্রান্টেড করে না নেয়। তারা যাতে মনে না করে যে, এই পর্যন্ত এসেছি, ওকে। মাথায় রাখতে হবে, আরও বহুদূর যেতে হবে।

 

প্রশ্ন: প্রাক্তন লাক্স সুপারস্টারদের সঙ্গে কাজ করার অভিজ্ঞতা কেমন?

আরিফিন শুভ: খুব ভালো, প্রত্যেকেই আমার খুব ভালো বন্ধু–জাকিয়া বারী মম, বিদ্যা সিনহা মিম। আরও অনেকেই রয়েছে। কাজ কিংবা কাজের বাইরে তাদের সঙ্গে বিভিন্ন সময়ে আমার কথা কিংবা যোগাযোগ হয়। ফরমাল রিলেশনের বাইরে গিয়েও নানান বিষয়ে আলাপ হয়।

 

 

প্রশ্ন: ‘দেখিয়ে দাও অদেখা তোমায়’ থিম সম্পর্কে আপনার মতামত কী?

আরিফিন শুভ: আমার মনে হয়, এখনকার সময়ে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ একটা বিষয়–গতানুগতিক সৌন্দর্যের বাইরে গিয়ে ভেতরের সৌন্দর্যটাকে প্রাধান্য দেওয়া। বাহ্যিক সৌন্দর্যটা গুরুত্বপূর্ণ, কিন্তু সেটাই সবকিছু নয়।

 

প্রশ্ন: এবারের আয়োজনের উল্লেখযোগ্য দিকগুলো কী কী?

আরিফিন শুভ: সবাই তরুণ, এটা খুব ইউথফুল একটা বিষয় হচ্ছে। নতুনের জয়গান। শুধু বিচারক কেন, প্রতিযোগীরাও ইয়াং, যারা শোটি বানাচ্ছে তারাও ইয়াং।

 

সময়বাংলা/আইজু

সংবাদ সম্পর্কে আপনার মতামত দিন

এ বিভাগের আরো খবর