চড়ুইটা আজ কেমন আছে?

আসমা সাদাত চৌধুরি: এই যে, দেখো দেখো,ওদিকে দেখো,এ শহরের নর্দমার কাদায় মিশে যাচ্ছে আমাদের স্বপ্নগুলো।
সেই কালো কাদায় মিশে আছে আমাদের রক্ত।কালো আর লাল মিলে যে রঙ হয়,সে রঙ দেখে রক্তকে আমরা ঠাওর করতে পারিনা।আমরা বুঝতেও পারছিনা ওখানে মিশে যেসব মিশে যাচ্ছে,সেসব আমাদেরই রক্ত!!
ফলত খুব নির্লিপ্ত,নির্বিকার হয়ে আমরা তাকিয়ে আছি,যেনো এমন ঘটনায় শোক প্রকাশের কিছু নেই!
পাথুরে দেয়ালের মত দাঁড়িয়ে আছে আমাদের জেদ,ইগো!!

দেয়ালের ওপাশ থেকে এপাশে কারোর আর্তনাদ আর ভেসে আসেনা।শুনতে পাচ্ছিনা কেউ কাউকে।

এ দেয়ালটা সম্ভবত সীমান্তের কাঁটাতারের মত সব আলাদা করে দিচ্ছে,আর খুব সুন্দর করেই সীমানা নির্ধারণ করে দিচ্ছে।
অতঃপর, পালটে যাচ্ছে ভাষা, সংবিধাণ।এরপর বিনা পাসপোর্টে আর ওপারে যাওয়া যাবেনা বলে কোন দুঃখ কারোর হচ্ছেনা!
সকলেই সকলের খবর পাবোনা বলেও কোন দুঃখ নেই।স্যাটেলাইট চ্যানেলে ব্রেকিং নিউজে পেয়ে যাচ্ছি সব দেশের খবরাখবর, ঠিক সেভাবেই নিউজফিড স্ক্রল করলেই পেয়ে যাচ্ছি সকলের খবর।
খবর না পেলেও অবশ্যই খুব একটা যায় আসতোনা কিছু!!

কষ্ট শুধু একটাই, ওপারের সবুজ,কৃষ্ণচূড়া আর দেখা হবেনা।
অমন যত্নে বড় করা শিউলি ফুলগাছটার দখল চলে গেলো অন্যের কাছে।

আর চিলেকোঠায় যে চড়ুইটা বাসা বেঁধে থাকতো সেই আমার একমাত্র বন্ধু ছিলো।চড়ুইটার কাছে আমার পুরো গল্পটা শেষ করা হলোনা।চড়ুইটাকে আমি জীবন বদলের প্রস্তাব দিয়েছিলাম।ছোট্ট চড়ুইটার ছানাপোনা হয়েছে,কিন্তু চড়ুইটার মা-পনাটা আমার চোখে দেখা হলোনা।

চড়ুইটা আজ কেমন আছে???
আকাশের তো সীমান্ত নেই,কাঁটাতার নেই।চড়ুইটা হয়তো আসবে আমার কাছে??
যেহেতু সে আমাদের মত পাথরের মানুষ নয়,তাই চড়ুইটা আসবে আমার কাছে।অবশ্যই আসবে।

সে স্বপ্ন নিয়েই বিতাড়িত আমি বেঁচে আছি,বেঁচে থাকবো।

সংবাদ সম্পর্কে আপনার মতামত দিন