ছাত্রদল নেতা নুরু হত্যা: “পুলিশ কর্মকর্তাসহ ১৩ জনের বিরুদ্ধে মামলা”

বিশেষ প্রতিনিধি: ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় সহ-সাধারণ সম্পাদক নুরুল আলম নুরু হত্যার ঘটনায় আদালতে মামলা দায়ের করেছেন তার স্ত্রী।

মামলায় রাউজান নোয়াপাড়া পুলিশ ক্যাম্পের ইনচার্জ এসআই শেখ মোহাম্মদ জাবেদ এবং বাগোয়ান ইউপি চেয়ারম্যান ভূপেষ বড়ুয়াসহ ১৩ জনকে আসামি করা হয়েছে।

অন্য আসামিরা হলেন- বাবুল মেম্বার, খালেক মেম্বার, জসিম, সেকান্দর, নাসের ওরফে টাইগার নাসের, এমরান, মো. হাসান, নুরুল ইসলাম, লিটন, মেহেদি ও রব্বান। বুধবার চট্টগ্রাম মহানগর হাকিম মাসুদ পারভেজের আদালতে নিহত নুরুর স্ত্রী সুমি আক্তার বাদী হয়ে এই মামলা দায়ের করেন।

আদালত মামলা গ্রহণ করে চট্টগ্রাম মহানগর ও জেলায় নুরুর মৃত্যুর ঘটনায় অন্য কোনো মামলা হয়েছে কিনা তা জানিয়ে ২০ এপ্রিলের মধ্যে প্রতিবেদন দিতে চট্টগ্রাম রেঞ্জের ডিআইজি, নগর পুলিশ কমিশনার ও পুলিশ সুপারকে আদেশ দিয়েছেন। পাশাপাশি সংশ্লিষ্ট থানাগুলোর ওসিদের প্রতিবেদন তৈরিতে সহযোগিতার নির্দেশ দেন।

গত ২৯ মার্চ রাতে চট্টগ্রামের চন্দনপুরার বাসা থেকে পুলিশ পরিচয়ে নুরুকে ধরে নিয়ে যাওয়া হয়। পরদিন রাউজানে তার মরদেহ উদ্ধার হয়। এর ১২ দিন পর বুধবার নুরুর স্ত্রী মামলা করলেন।

আদালতে মামলা দায়েরের খবরের সত্যতা নিশ্চিত করেছে বাদী পক্ষের আইনজীবী সাবেক মহানগর পিপি আবদুস সত্তার।

তিনি যুগান্তরকে বলেন, ‘২৯ মার্চ রাতে চন্দনপুরার বাসা থেকে হাতকড়া পরিয়ে তুলে নিয়ে যাওয়া হয় ছাত্রদল নেতা নুরুল আলম নুরুকে। তাকে নিয়ে যাওয়ার সময় দুটি সাদা রঙের মাইক্রোবাস আনা হয়। এগুলো হচ্ছে- চট্টমেট্রো চ- ১১-৩১৭৭ ও চট্টমেট্রো-চ-১১-২৪৩৩। তিনি বলেন, নুরুকে তুলে নেয়ার সময় রাউজান নোয়াপাড়া পুলিশ ক্যাম্পের ইনচার্জ এসআই শেখ মোহাম্মদ জাবেদও ছিলেন। পরিবারের লোকজন তাকে চিনতে পেরেছিল। এ দুই মাইক্রোবাসের নম্বরও তারা মনে রেখেছিল।

আইনজীবী বলেন, পরদিন ৩০ মার্চ দুপুরে রাউজান উপজেলার বাগোয়ান ইউনিয়নের খেলারঘাট এলাকায় কর্ণফুলী নদীর তীরে হাত-পা ও চোখ বাঁধা অবস্থায় নুরুর গুলিবিদ্ধ মৃতদেহ পাওয়া যায়। তিনি জানান, ভিকটিমের পরিবার যদি কোনো মামলা না করে সেক্ষেত্রে পুলিশ বাদী হয়ে অপমৃত্যু মামলা করতে পারে। কিন্তু পুলিশ আরেকটি মামলা করেছে। এতে অজ্ঞাত ব্যক্তিদের আসামি করা হয়েছে।

তবে পুলিশ সুপার মামলা তদন্ত করবেন না বলায় নুরু হত্যার তদন্তে পুলিশের ভূমিকা গ্রহণযোগ্য মনে হচ্ছে না বলে মন্তব্য করেন বাদী পক্ষের আইনজীবী আবদুস সত্তার। এ অবস্থায় পরিবারের পক্ষ থেকে আদালতে মামলা দায়ের করা হয়েছে বলে জানান তিনি।

মামলার এজাহারে বলা হয়, এসআই জাবেদের মোবাইল ‎(০১৬২০৪৫৩৮৯১) ফোন করে জাহিদ এফ সরদার সাদী নামে এক প্রবাসী বিএনপি নেতা ফোন করে নুরুকে আদালতে সোপর্দ করার অনুরোধ করেছিলেন। তখন এসআই জাবেদ বলেন, ‘হ্যা’, এ ব্যাপারে আরও কয়েকজন ফোন করেছেন। এ ব্যাপারে ওসি স্যারকে বলেছি নুরুকে ধরা হয়েছে।’ এটিই এখন পর্যন্ত পুলিশের বিরুদ্ধে নুরু হত্যায় জড়িত থাকার সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ প্রমাণ।

এদিকে বিআরটিএ সূত্র জানায়, এরমধ্যে চট্টমেট্রো চ-১১-৩১৭৭ নম্বরের মাইক্রোবাসের মালিক পূবালী ব্যাংক টেরিবাজার শাখা। এ ব্যাংক শাখা থেকে লোন নিয়ে গাড়িটি কিনেছেন একাউন্ট হোল্ডার শাহানুর। অপর মাইক্রোবাস চট্টমেট্রো-চ-১১-২৪৩৩ নম্বরের মালিক ১২৭, মুরাদপুর সিডিএ এভিনিউ এলাকার হাজী আবুল কাসেমের ছেলে মো. আবদুল মান্নান।

নুরু হত্যার ঘটনায় গত ৩০ মার্চ রাউজান থানার এসআই মো. কামাল হোসেন বাদী হয়ে অজ্ঞাতনামা আসামিদের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করেছিলেন। পুলিশের দায়ের করা মামলাটি তদন্ত করছেন পূর্বগুজরা পুলিশ ক্যাম্পের ইনচার্জ এসআই মহসিন। তদন্তে এখন পর্যন্ত নুরু হত্যাকাণ্ডের কোনো ক্লু উদঘাটন করা যায়নি বলে জানান তিনি।

এদিকে পুলিশের বিরুদ্ধে নিহতের পরিবার অভিযোগ করায় এ মামলার তদন্ত অন্য কোনো নিরপেক্ষ সংস্থা ‘পিবিআই কিংবা সিআইডিকে’ দিয়ে করানোর জন্য পুলিশ সদর দফতের চিঠি পাঠান জেলা পুলিশ সুপার। তবে এখন পর্যন্ত এ চিঠির জবাব আসেনি বলে জানা গেছে।

সময়বাংলা/ডেস্ক

নুরু হত্যার দলিল ভিডিও

সংবাদ সম্পর্কে আপনার মতামত দিন