ছাত্রলীগ নেতা পেলেন বিএনপির শ্রম বিষয়ক সম্পাদকের পদ

mamunসময় বাংলা ডেস্ক: ফিরোজ-উজ-জামান মামুন । এয়ারপোর্টে চাকরী করছেন বর্তমানে। একই সঙ্গে তিনি  বর্তমানে শেখ রাসেল স্মৃতি সংসদ বরগুনা জেলা শাখার যুগ্ম সম্পাদক। তার আগে বরগুনা জেলা ছাত্রলীগের সাবেক সম্পাদকমন্ডলীর সদস্য ছিলেন। বিএনপির রাজনীতির সঙ্গে তার কোন রকম সর্ম্পক নেই। তবুও তিনি ঠাই পেলেন বিএনপির মতো বৃহত্তর একটি রাজনৈতিক দলের কমান্ডিং পর্যায়ের নির্বাহী কমিটিতে !

বিএনপির নব গঠিত নির্বাহী কমিটির শ্রম বিষয়ক সম্পাদক নির্বাচিত হয়েছেন।

যেখানে বিএনপির বর্তমানে হাজার হাজার নেতাকর্মী এখনো কারাবন্দী, গুম-খুনের শিকার, পঙ্গুত্ব বরন করে মানবেতর জীবন-যাপন করছেন। এখনো অনেক শীর্ষ নেতা-মধ্যম সাড়িরর নেতারা ঘরে ফিরতে পারছেন না। সেখানে বর্তমানে আওয়ামীলীগের রাজনীতিতে যুক্ত এবং পদ-পদবীতে থাকা নেতা কিভাবে বিএনপির নির্বাহী কমিটিতে ঠাই পেলেন তা নিয়ে চলছে তুমুল হই হট্টগোল।
আওয়ামীলেগের বর্তমান পদে থাকা এই নেতা বিএনপির রাজনীতিতে কোনভাবে যুক্ত না থাকায় তিনি নিষ্কলুষ। তার বিরুদ্ধে কোন ধরনের কোন গাড়ি পোড়ানো বা ভাংচুরের মামলা নেই।

এতো বড় পদে নির্বাচিত হওয়া এই নেতার পেছনে কে বা কারা তা নিয়েও চলছে ব্যাপক সমালোচনা ,বির্তক।

এ ঘটনায় ক্ষুদ্ধ হয়ে  ক্ষুদ্ধ হয়ে ২৪ জনেরও বেশি  প্রভাবশালী শীর্ষ নেতা বিএনপির রাজনীতিকে বিদায় জানাচ্ছেন। বিএনপির দায়িত্বশীল একাধিক সূত্র এই ইঙ্গিত দিয়েছে।
বিএনপির দু:সময়ে অনেক নিলুফার চৌধুরী মনি, সাম্মি আখতার,  হেলেন জেরিন খান , আশরাফিয়া জাহান পাপিয়াসহ প্রায় ১০জন নারী রয়েছেন যাদেরকে দল মূল্যায়ন করে ভালো অবস্থানে রাখেন নি। সে নিয়েও ব্যাপক সমালোচনা চলছে বিভিন্ন গণমাধ্যম এবং সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমগুলোতে। অথচ এসব নেত্রীরা রাজপথে রক্তাক্ত হয়েছিলেন। এমনকি গুলশান চেয়াপার্সনের কার্যালয়েও সরকারের রোষানলে পিষ্ঠ হতে হয়েছিল তাদের।
মধ্যম সাড়ির অনেক নেতা যারা গুম-খুনে শিকার তারাও রাজনীতি থেকে দূরে সরে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নিচ্ছে।

ষষ্ঠ কাউন্সিলের প্রায় সাড়ে চার মাস পর দলের সর্বোচ্চ নীতিনির্ধারণী ফোরাম জাতীয় স্থায়ী কমিটিসহ পূর্ণাঙ্গ জাতীয় নির্বাহী কমিটি ঘোষণা করেছে বিএনপি। বহুল প্রত্যাশিত এই কমিটি গঠনের পর উচ্ছ্বাস প্রকাশের পরিবর্তে ক্ষোভের বিস্ফোরণ ঘটেই চলেছে। সামাজিক যোগাযোগের মাধ্যমসহ সব পর্যায়ে চলছে কমিটি সম্পর্কে নেতিবাচক পর্যালোচনা।mamun2

বিতর্কিত এই কমিটি দিয়ে ভবিষ্যতে সরকারবিরোধী আন্দোলন চালানো কঠিন হবে বলেও মনে করছেন তারা। এমনকি খালেদা জিয়ার ঘোষিত রূপকল্প ২০৩০-এর বাস্তবায়ন মুখ থুবড়ে পড়বে এই কমিটির জন্য।

কমিটির সমালোচনা করে বিএনপির দায়িত্বশীল একাধিক নেতা বলেছেন, তাদের শঙ্কা কমিটি গঠনের ক্ষেত্রে বিএনপি নেত্রী খালেদা জিয়ার হাতে একক ক্ষমতা দেওয়া হলেও তাকে প্রভাবিত করে কমিটি গঠনের কাজ হয়েছে। কমিটি গঠনের আগ পর্যন্ত বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্যদের কাছেও এ বিষয়ে তেমন তথ্য ছিলো না। তারা সবচেয়ে যে বিষয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন সেটি হচ্ছে, কমিটিতে জ্যেষ্ঠতা লঙ্ঘন করা হয়েছে। অনেক জুনিয়র নেতা সিনিয়রের চেয়ে উপরের পদ পেয়েছেন। অনেকে আগের কমিটিতে যে পদে দায়িত্ব পালন করেছেন নতুন কমিটিতে তার চেয়ে নিচের পদ পেয়েছেন। এতে অনেকেই অপমান বোধ করছেন।

সংবাদ সম্পর্কে আপনার মতামত দিন