ছোট দলের বড় নেতাদের নিয়ে আ.লীগে অস্বস্তি

সময়বাংলা, ঢাকা: আগামী সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে ছোট ছোট কয়েকটি রাজনৈতিক দলের প্রধানদের ভূমিকা ও অবস্থান নিয়ে অস্বস্তি দেখা দিয়েছে আওয়ামী লীগে। দল ছোট হলেও এসব নেতাদের ব্যক্তিগত ভাবমূর্তি, বিদেশি যোগাযোগ কিংবা সরকারবিরোধী অবস্থান ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করার কাজে ব্যবহার হতে পারে বলে মনে করছে দলটি। সে কারণেই বিএনপি এখন রাজনৈতিকভাবে কিছুটা দুর্বল থাকায় ছোট দলগুলোর নেতাদের দিকেই কড়া নজর রাখছে আওয়ামী লীগের হাইকমান্ড।

ছোট দলগুলোর যেসব নেতারা ক্ষমতাসীন দলটির পর্যবেক্ষণে রয়েছেন, তাদের মধ্যে রয়েছেন— গণফোরামের সভাপতি ড. কামাল হোসেন, কৃষক শ্রমিক জনতা লীগের সভাপতি কাদের সিদ্দিকী, বিকল্পধারার সভাপতি অধ্যাপক এ কিউ এম বদরুদ্দৌজা চৌধুরী, নাগরিক ঐক্যের সভাপতি মাহামুদুর রহমান মান্না ও লিবারেল ডেমোক্রেটিক পার্টির প্রধান অলি আহমেদের মতো নেতারা।

আওয়ামী লীগের বেশ কয়েকজন কেন্দ্রীয় নেতা জানিয়েছেন, ওইসব নেতারা কী করছেন, কার সঙ্গে যোগাযোগ রক্ষা করছেন— এখন থেকে এসব বিষয় নজরে রাখার চেষ্টা করছে আওয়ামী লীগের হাইকমান্ড। আওয়ামী লীগের নীতিনির্ধারণী সূত্রগুলো বলছে, এরই মধ্যে বিভিন্ন সময়ে সভা-সমাবেশ ও গণমাধ্যমে তাদের দেওয়া বক্তব্য ‘মনিটরিং’ করা হচ্ছে।

এ প্রসঙ্গে জানতে চাইলে আওয়ামী লীগের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য ড. আবদুর রাজ্জাক বলেন, ‘নির্বাচন যত এগিয়ে আসছে ষড়যন্ত্র তত বাড়ছে। দেশি-বিদেশি নানামুখী ষড়যন্ত্রই চলছে। এসবের সঙ্গে অনেকেই জড়িত হতে শুরু করেছেন। আমরা তাদের ব্যাপারে একটু সতর্ক থাকতে চাই।’
নীতিনির্ধারকরা জানিয়েছেন, আওয়ামী লীগ নেতারা এই মুহূর্তে বিএনপি বা খালেদা জিয়াকে নিয়ে বেশি ভাবছে না। বিএনপি রাজনৈতিকভাবে দুর্বল হয়ে আছে। তাই এখন বিভিন্ন ছোট দলগুলোর বড় নেতাদের কর্মকাণ্ড কড়া নজরে রাখছে দলের হাইকমান্ড।

ক্ষমতাসীন দলের নেতাদের দাবি, নির্বাচনকে সামনে রেখে ছোট দলগুলোর বড় নেতারা সরকারের বিরুদ্ধে এরই মধ্যে খোঁচাখুঁচিতে নেমে পড়েছেন। তাদের বক্তব্য-বিবৃতির মাত্রা যেমন বেড়েছে, তেমনি কোনও কোনও নেতা বিদেশি সম্পর্ক-যোগাযোগ রক্ষা করার কাজ শুরু করেছেন। তারা দেশ-বিদেশে সরকারের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করার কাজেও পা বাড়াচ্ছেন বলে অভিযোগ করেছেন ক্ষমতাসীন দলের নেতারা। এ পরিস্থিতিতে আওয়ামী লীগও এসব নেতাদের বিষয়ে একটু নড়েচড়ে বসতে শুরু করেছে।

জানা গেছে, বিএনপিকে সামাল দিতে সক্ষম হওয়ায় এখন ছোট দলের বড় নেতাদের বিষয়টিকেই আমলে নিয়েছে আওয়ামী লীগ। দলের নীতিনির্ধারণী পর্যায়ের নেতারা স্বীকার করে নিয়েছেন, এসব নেতাদের মধ্যে কোনও কোনও নেতার দেশে তেমন ইমেজ না থাকলেও আন্তর্জাতিক ভাবমূর্তি রয়েছে। এই ভাবমূর্তি কাজে লাগিয়ে নির্বাচনের আগে তারা আওয়ামী লীগের বিরুদ্ধে মাঠে নামতে পারে বলে শঙ্কা রয়েছে ক্ষমতাসীন দলটির ভেতরে। তবে সেই সুযোগ যেন তারা না পান, তাই আগে থেকেই তাদের প্রতি সজাগ দৃষ্টি রাখতে শুরু করেছে ক্ষমতাসীনরা।

আওয়ামী লীগের সভাপতিমণ্ডলীর কয়েকজন নেতা জানিয়েছেন, ওইসব নেতাদের নিজেদের পক্ষে রাখার কৌশলও নিয়ে রেখেছে ক্ষমতাসীনরা। এ নিয়ে আওয়ামী লীগের সিনিয়র নেতারা তাদের সঙ্গে যোগাযোগ রক্ষা করবেন। এর জন্য ওইসব নেতাদের নেতৃত্বাধীন রাজনৈতিক সংগঠনগুলোকে নির্বাচনে আনার জন্য যোগাযোগ শুরু করে পরে বিভিন্ন সুযোগ-সুবিধা দেওয়ার প্রস্তাবও দেওয়া হতে পারে। ক্ষমতাসীনদের একমাত্র লক্ষ্য— আগামী নির্বাচনের আগে যেকোনও মূল্যে এসব নেতাদের সরকারবিরোধী কর্মকাণ্ড থেকে বিরত রাখা। তাতে করে বিএনপিকে মোকাবেলা করার পর্যাপ্ত সুযোগ পাবে সরকারি দল।

আওয়ামী লীগ নেতারা বলেন, দল ছোট হলেও এসব দলের কয়েকজন নেতা রয়েছেন যারা কথা বললেই নিউজ হয়। তারা কথা বললেও তার মধ্যে যেন সরকারের সমালোচনা যতটা সম্ভব কম থাকে, তা নিশ্চিত করতে চায় আওয়ামী লীগ। এই প্রশ্নে তাদের ব্যাপারে আপাতত কিছুটা সহনশীল আচরণও আওয়ামী লীগ করবে বলে দলীয় বিভিন্ন সূত্র জানিয়েছে। শুধু তাই নয়, ওইসব নেতাদের সঙ্গে লিয়াজোঁ রক্ষা করতেও চায় ক্ষমতাসীনরা, যেন তারা কেউই সরকারের সমালোচনার দিকে না ঝুঁকে পড়েন। তবে তাদের ঘিরে অন্য একটি কৌশলও রয়েছে। তা হলো— আওয়ামী লীগের রাজনৈতিক সভা-সমাবেশে ওইসব নেতাদের প্রসঙ্গ টেনে এমনভাবে সমালোচনা করা হবে যেন তারা সরকারের সমালোচনার সাহস হারিয়ে ফেলেন।

সময়বাংলা/আইসা

সংবাদ সম্পর্কে আপনার মতামত দিন

এ বিভাগের আরো খবর