জঙ্গিকে সহায়তা করিলে আপনিও কি অপারধী?

সময় বাংলা: আমরা জেনে না বুঝে বিভিন্ন ভাবে অপরাধী বা জঙ্গিদের আশ্রয়, প্রশ্রয় ও  অর্থ দিয়ে অপরাধ সংঘটনে নিজের অজান্তে সহযোগিতা করি। সম্প্রতিক সময়ে এর প্রবণতা বৃদ্ধি পেয়েছে।  অপরাধে সহায়তা করা আইনের চোখে অপরাধ।  আইনের পরিভাষায় “সহায়তা’’ শব্দটি দ্বারা বুঝানো হয়েছে ‘‘সাহায্য” ‘‘প্ররোচনা” ‘‘উস্কানি” ‘‘আশ্রয়’’ ‘‘প্রশ্রয়’’ ‘‘অর্থায়ন’’ ‘‘অভিপ্রায়” ‘‘অংশ নেওয়া” ‘‘পোষন করা” ইত্যাদি।

আপনি যদি বাংলাদেশের জননিরাপত্তা বা সার্বভৌমত্ব বিপন্ন করার জন্য জনসাধারণ বা জনসাধারণের কোন অংশের মধ্যে আতঙ্ক সৃষ্টির মাধ্যমে সরকার বা কোন সত্তা বা কোন ব্যক্তিকে কোন কাজ করতে বা করা হতে বিরত রাখতে বাধ্য করার উদ্দেশ্যে কোন ব্যক্তিকে হত্যা, গুরুতর জখম, আটক বা অপহরণ করার জন্য অপর কোন ব্যক্তিকে সহায়তা বা প্ররোচিত করেন; অথবা অন্য কোন ব্যক্তি, সত্তা বা রাষ্ট্রীয় কোন সম্পত্তির ক্ষতি সাধন করার উদ্দেশ্যে সহায়তা বা প্ররোচিত করেন; তাহলে আপনি সন্ত্রাস বিরোধী আইনের ২০০৯ এর ৬ ধারা মোতাবেক মৃত্যুদন্ড বা যাবজ্জীবন কারাদণ্ড বা অনূর্ধ্ব ১৪ (চৌদ্দ) বৎসর ও অন্যূন ৪ (চার) বৎসরের সশ্রম কারাদণ্ড এবং অর্থদণ্ডে দণ্ডিত হবেন।

আপনি জঙ্গি কর্মকান্ডে অর্থায়ন করেন তাহলে সন্ত্রাস বিরোধী আইনের ২০০৯ এর ৭ ধারা মোতাবেক আপনি অনূর্ধ্ব ২০ (বিশ) বৎসর ও অন্যূন ৪ (চার) বৎসরের সশ্রম কারাদণ্ডে দণ্ডিত হতে পারেন।  আপনি যদি জঙ্গি কর্মকান্ড সংক্রান্ত অপরাধ সংঘটনের ষড়যন্ত্র করেন বা অপরাধ সংঘটনে সাহায্য বা সহায়তা করেন কিংবা জঙ্গি কর্মকাণ্ড সংক্রান্ত কোন প্রচারপত্র/লিফলেট প্রস্তুত বা বিতরণ অথবা মুদ্রণে সহায়তা করেন বা ইলেকট্রনিক (ফেইস বুক, ভাইবার, ইউটিউব ইত্যাদি) বা অন্য যে কোন মাধ্যমে কোন তথ্য সম্প্রচারে সহায়তা করেন বা প্রযুক্তি বা প্রশিক্ষণ প্রদানের মাধ্যমে কোন ব্যক্তি বা সত্তাকে সহায়তা করেন তাহলে সন্ত্রাস বিরোধী আইনের ২০০৯ এর ১০/১২/১৩ ধারা মোতাবেক সংশ্লিষ্ট অপরাধের জন্য নির্ধারিত সর্বোচ্চ শাস্তির দুই তৃতীয়াংশ মেয়াদের কারাদণ্ডে, অথবা অর্থদণ্ডে, অথবা উভয় দণ্ডে আপনাকে দণ্ডিত করা যাবে; এবং যদি উক্ত অপরাধের জন্য নির্ধারিত শাস্তি মৃত্যুদণ্ড হয়, তাহলে আপনি যাবজ্জীবন কারাদণ্ড অথবা অনূর্ধ্ব চৌদ্দ বৎসরের কারাদণ্ড হতে পারেন।

আপনি জঙ্গি কর্মকান্ডের সহিত জড়িত কোন ব্যক্তিকে বাসা ভাড়া দেন বা আশ্রয়দান করেন বা লুকিয়ে রাখেন তাহলে সন্ত্রাস বিরোধী আইনের ২০০৯ এর ১৪ ধারা মোতাবেক উক্ত অপরাধের শাস্তি মৃত্যুদণ্ড হলে আপনি অনধিক পাঁচ বৎসরের কারাদণ্ডে দণ্ডিত হবেন, এবং ইহার অতিরিক্ত অর্থদণ্ডও আপনাকে আরোপ করা যাবে; অথবা উক্ত অপরাধের শাস্তি যাবজ্জীবন কারাদণ্ড বা যে কোন মেয়াদের কারাদণ্ড হলে আপনি অনধিক তিন বৎসরের কারাদণ্ডে দণ্ডিত হবেন, এবং ইহার অতিরিক্ত অর্থদণ্ডও আরোপ করা যাবে।

সাধারণ অপরাধে সহায়তা করাও আইনের চোখে অপরাধ। পেনাল কোডে বলা হয়েছে আপনি যদি মৃত্যুদন্ড অথবা যাবজ্জীবন দন্ডের এমন কোন অপরাধের অপরাধীকে সহায়তা দান করেন তাহলে পেনাল কোড ১১৫ ধারার অধিনে যদি অপরাধটি সংগঠিত না হয়; তাহলে ৭বছর সশ্রম বা বিনাশ্রম কারদন্ডে এবং অর্থদন্ডেও দন্ডিত হবেন।  আর যদি অপরাধটি সংগঠিত হয় বা কেউ আঘাত প্রাপ্ত হয়; তাহলে ১৪ বছরের পর্যন্ত যেকোন প্রকার কারাদন্ডে দন্ডিত হবেন এবং অর্থদন্ডও হবে।  এই রকম অপরাধ ছাড়া বাকী অন্য যে কোন অপরাধে পেনাল কোড ১০৯ ধারার অধিনে সহায়তা করলে আপনাকে ঐ  অপরাধের জন্য যে শাস্তি রয়েছে তাই দেওয়া হবে, যদি না পেনাল কোডে আলাদা কোন শাস্তির বিধান এমন অপরাধে সহায়তাদানকারীর জন্য রাখা হয়েছে।

আপনি যদি কোন অপরাধে সহায়তা করেন এবং সে অপরাধ সংঘটন কালে আপনার সহায়তার সময়ে অন্য কোন একটি নতুন অপরাধ ঘটে তাহলে আপনিও পেনাল কোড ১১১ ধারা অনুসারে ঐ ঘটিত ভিন্ন অপরাধে সহায়তা করলে যে শাস্তি হত ঐ একই শাস্তি অপনাকে দেওয়া হবে; যদিও আপনি এই অপরাধে সহায়তা করেনি। আপনি যদি কোন অপরাধে সহায়তা করেন এবং অপরাধটি ঘটানোর সময় ঐ ঘটনা স্থলে উপস্থিত ছিলেন তাহলে আপনি পেনাল কোড ১১৪ ধারা অনুসারে ঐ অপরাধের অপরাধী বলে অভিযুক্ত হবেন সহায়তাদানকারী হিসেবে নয়।

জনসচেতনায়- মোঃ সাব্বির রহমান, পুলিশ পরিদর্শক (তদন্ত), বাঞ্ছারামপুর মডেল থানা, ব্রাহ্মণবাড়িয়া।

সংবাদ সম্পর্কে আপনার মতামত দিন