”জালিমদের পতন হবে এটাই ইতিহাস” –

এড. মোঃ সলীমুল্লাহ খান: গুম, খুন, মিথ্যা মামলা জেল হাজতে বন্দি, এবং নিখোজ হয়েছেন যেসব তরুন ছেলেরা তাদের মায়েদের চোখের পানি শুকিয়ে কেমন দাগ পড়েছে, এদের মধ্যে যেসব ছেলেরা বিবাহিত ছিলেন তাদের স্ত্রী সন্তানদের আহাজারীতে বাংলাদেশের আকাশ বাতাস আজ ভারী হয়ে গেছে। যেখানে স্বয়ং গনতন্ত্রের অতন্দ্র প্রহরী ”মাদার অব ডেমোক্রেসী” নামে খ্যাত আপোষহীন জননেত্রী বেগম খালেদা জিয়াকেই সম্পূর্ণ একটি বানোয়াট মিথ্যা এবং ভিত্তিহীন মামলায় সাজা প্রদান করে পরিত্যাক্ত একটি কারাগারের অন্ধকার প্রোকষ্ঠে অন্তরীণ করে রাখা হয়েছে, সেই অবৈধ জালিম শাসক, লুটেরাদের দল, যারা ১৬৫ কোটি টাকার মামলার আসামীকে সাড়ে তিন ঘন্টায় জামিন দিয়ে দেন, ৯ হাজার টাকা চুরি হয়ে যাবার পর কুখ্যাত রাবিশ নামে খ্যাত অর্থমন্ত্রী মহান সংসদে বলেন ঘাটতি।

ভোট বিহীন একতরফা ভাবে ক্ষমতায় আরোহন করে এই সরকার সমাজের আবহমান কালের রীতিনীতিকে ধ্বংস করে দিয়েছেন। রাজনীতিকে টাকা হাতিয়ে নেয়ার কৌশল হিসাবে ব্যবহার করেছেন যা আজ ভয়াবহ রূপ লাভ করেছে। তাই সমাজের ভদ্র লোকদের সাথে এই সব পান্ডারা বেয়াদপি করে যাচ্ছে, আর ফকিন্নির বাচ্চারা টাকার গরম দেখাচ্ছে। একটি সমাজকে আর বেশীদিন এভাবে দাবিয়ে রাখা যাবেনা।

জলভেঁজা মায়ের চোখের শপথ করে বলতে চাই, আমার নববিবাহিতা স্বামীহারা বোনের হাতের মেহেদির শপথ করে বলতে চাই, ভাই হারা বোনের অশ্রুশিক্ত নয়নের শপথ নিয়ে বলতে চাই, বাবা হারা এতিম সন্তানদের অপেক্ষার প্রতিটি সেকেন্ডের শপথ নিয়ে বলতে চাই, এই জালিম মিথ্যাবাদী, লগি-বৈঠার আঘাতে জর্জরিত জাতির শপথ নিয়ে বলতে চাই, এই সরকারের মানবতা বিরুদী কর্মের বিচার এই বাংলার মাটিতে হবেই হবে।

যে ট্রাইব্যুনাল ট্রাইব্যুনাল নাটক এই সরকার খেলে এসেছেন, এই একই আদালতে সরকারের যারা দোষী তাদের বিচার এই একই ট্রাইব্যুনালে, এই একই আইনের আওতায়ই হবে, এটা এখন শুধু সময়ের ব্যাপার মাত্র।

কথায় আছে ”পাপ নাকি বাপেরেও ছাড়েনা”
দেশের মানুষ আজ মজলুম, জালিমদের অত্যাচারের মাত্রা ছাড়িয়ে গেছে, সীমা লংঘনকারীদেরকে আল্লাহ পাক ধ্বংস করে নিশ্চিন্ন করে দিবেন বা দিয়েছেন। ইতিহাস সাক্ষী, এমনকি আল্লাহপাক কোন কোন জালিমকে হাজার বছর ধরে মমি করে রেখে দিয়েছেন। যাদুগরে মানুষ ৪০ডলার দিয়ে টিকেট কেটে এইসব জালিমদের দেহাবশেষকে দেখতে যান। যেমন আমাদের শাসক নেতারাও দেখেতে যান, আমরা জনগনরাও দেখতে যাই কিন্তু সমস্যা হলো কেউই শিক্ষা গ্রহন করিনা।

বাংলাদেশের আবহাওয়া যেমন বৈচিত্রময় মানুষের চরিত্রও তেমনি বৈচিত্রময়। যেমন চৈত্র মাসে মাটি শুকিয়ে শক্ত পাথরের মতো হয়ে যায় সেই মাটিই আবার বর্ষায় নরম কাঁদামাটিতে পরিণত হয়ে যায়। তেমনি এদেশের মানুষ কাউকে কাউকে সহজেই উপরে তোলে ফেলে, তেমনি প্রয়োজনে তত জোড়ে আছার মেরে মাটিতে পুতে ফেলতেও দ্বিধাবোধ বা দেরী করেনা।

যেসব নেতারা এক হাত তোলতে বললে জনগন দুই হাত তোলে ফেলতো সেই নেতার মৃত্যুর পর ইন্নালিল্লাহও পড়েন নাই উল্টা ট্যাংকের উপর উঠে আনন্দ উল্লাস করেছেন এমনকি এই মহান কর্মের জন্য তাকে বর্তমান অবৈধ সরকার মন্ত্রীত্ব প্রদান করেছেন।

নেপোলিয়নের বিখ্যাত উক্তি ”সেলুকাস, বড়ই বিচিত্র এই দেশ” তাই এসব ভুলে গেলে চলবেনা মনে রাখতে হবে সব চোরেরই একটি খারাপদিন আসে। আমরা ছা পোষা ভদ্রলোক তাই সেই দিনটির আশায় বুক বেধে আছি, কখন এই অমানিশা কেটে নতুন ভোরের সূচনা হবে, দিগন্ত রেখায় লালাভ আলো ছড়িয়ে পড়বে। নতুন দিনের শুরু হবে, নতুন এক যুগের সূচণা হবে, যেখানে সব ভালো, সবাই ভালো। সেই অনাবিল সুখানন্দময় সময়ের অপেক্ষায় আছি এবং প্রতিক্ষায় প্রহর গুনছি আমরা।

লেখক: সাংবাদিক ও কলামিষ্ট এড. মোঃ সলীমুল্লাহ খান, কুমিল্লা জজ কোর্ট

সংবাদ সম্পর্কে আপনার মতামত দিন

এ বিভাগের আরো খবর