জয়ের অপেক্ষায় ১৬ কোটি মানুষ : গড়বে নতুন ইতিহাস

bd-indসময় বাংলা ডেস্ক : আর একটি জয়, তাহলেই হবে ইতিহাস। এই জয়ের অপেক্ষায় ১৬ কোটি মানুষ।

বাংলাদেশের ক্রিকেট ইতিহাসের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচে আজ মিরপুর শের-ই-বাংলা জাতীয় ক্রিকেট স্টেডিয়ামে ভারতের মুখোমুখি হবে স্বাগতিকরা। সন্ধ্যা সাড়ে সাতটায় শুরু হতে যাওয়া সেই ম্যাচ জিততে মরিয়া মাশরাফিরা।

কোনো বড় আসরে এটাই বাংলাদেশের প্রথমবারের মতো ফাইনাল খেলার ঘটনা। এবার নিজেদের অর্জনকে আরো সমৃদ্ধ করার সুযোগ স্বাগতিকদের সামনে। আজ টি-২০’র এক নম্বর দল ভারতকে হারাতে পারলেই ইতিহাস গড়বে মাশরাফি-সাকিবরা। ক্রিকেটাররা খেলবে মাঠে, আর জয়ের অপেক্ষায় থাকবে বাংলাদেশের ১৬ কোটি মানুষ।

মাশরাফি-মুশফিক-তামিম-সাকিবদের এশিয়ার সেরা মুকুট জেতার লড়াইয়ে ক্রিকেটারদের সঙ্গে মাঠে থাকতে যুদ্ধে সামিল হবে সমর্থকরা। পারলে ২৫ হাজার আসনের গ্যালারিতে থাকতে চায় ১৬ কোটি বাংলাদেশি।

এবার প্রথমবারের মতো টি-টিয়েন্টি ফরমেটে অনুষ্ঠিত হচ্ছে এশিয়া কাপ। টি-টিয়েন্টির তুলনায় ওয়ানডে ক্রিকেটে বাংলাদেশ অনেক উজ্জ্বল। আর এ সময়ে সংক্ষিপ্ত ভার্সনে মহেন্দ্র সিং ধোনির দল অনেক বেশি শক্তিশালী। সম্প্রতি তিন ম্যাচের টি-টিয়েন্টি সিরিজে প্রবল পরাক্রম অস্ট্রেলিয়াকে তাদেরই মাটিতে হোয়াইটওয়াশের লজ্জায় ডুবিয়েছে ভারত। এর পর দেশে ফিরে তারা হারিয়েছে শ্রীলঙ্কাকে।

এশিয়া কাপেও একই দাপট দলটির। এখন পর্যন্ত অপরাজিত একমাত্র দল তারাই। আসরের প্রথম ম্যাচেই বাংলাদেশকে ৪৫ রানে হারিয়েছে ভারত। চিরপ্রতিদ্বন্দ্বি পাকিস্তানকে এক রকম গুড়িয়ে দিয়েছে। তাদের কাছে পাত্তা পায়নি বর্তমান চ্যাম্পিয়ন শ্রীলঙ্কাও।

তার পরও টি-টিয়েন্টি র‌্যাঙ্কিংয়ের ১০ নম্বরে অবস্থান করা বাংলাদেশকে যথেষ্টই সমীহ করছে ভারত। অধিনায়ক ধোনি বলেছেন, ‘এ সময়ে বাংলাদেশ দারুণ ক্রিকেট খেলছে। তাদের শক্তিও বেড়েছে। ভালো একটি ফাইনালই আশা করছি।’

শিরোপার লড়াইয়ে বাংলাদেশ পাচ্ছে না এ সময়ের সাড়া জাগানো পেসার স্লোয়ার-কাটার স্পেশালিস্ট মুস্তাফিজুর রহমানকে। যদিও মুস্তাফিজকে ছাড়াই সেমিফাইনালের মর্যাদায় উত্তীর্ণ হওয়া ম্যাচে পাকিস্তানকে ৫ উইকেটে হারিয়েছে টাইগাররা।

বাংলাদেশ অধিনায়ক মাশরাফি অবশ্য বলেছেন, আগের ম্যাচে মুস্তাফিজের অভাব বুঝতে দেয়নি তাসকিন। টানা ১৪০-১৪৫ কিলোমিটার গতিতে বল করে ক্রিকেট বোদ্ধাদের ভালোই দৃষ্টি কেড়েছেন বাংলাদেশের এই স্পিডস্টার।

গত বছর তিন ম্যাচের ওয়ানডে সিরিজে ভারতকে ২-১ ব্যবধানে হারিয়েছিল বাংলাদেশ। সেই জয়ের কারিগর ছিলেন মুস্তাফিজ। পুরো সিরিজেই চার স্পেশালিস্ট পেসার নিয়ে মাঠে নামে বাংলাদেশ। এবারের এশিয়া কাপেও চার পেসার তত্ত্বই অনুসরণ করে বাংলাদেশ। তবে ইনজুরি আক্রান্ত মুস্তাফিজ দলের বাইরে চলে যাওয়ায় পাকিস্তানের বিপক্ষে কৌশল বদলায় স্বাগতিক ম্যানেজমেন্ট। চার পেসারের জায়গায় খেলতে নামে তিন পেসার নিয়ে। সেরা একাদশে আনা হয় বাঁহাতি স্পিনার আরাফাত সানিকে।

ঐতিহ্যগতভাবেই ভারতীয় ব্যাটসম্যানরা স্পিনের বিপক্ষে খুবই স্বচ্ছন্দ। তাই ফাইনালে বাংলাদেশ আবার চার পেসার তত্ত্বে ফিরে আসে কিনা, এ নিয়েও চলছে জোর জল্পনা-কল্পনা। কোচ চন্ডিকা হাথুরুসিংহের রিজার্ভে আছেন বাঁ হাতি পেসার আবু হায়দার রনি। সর্বশেষ বিপিএল কাঁপানো রনিকে এখন পর্যন্ত ব্যবহার করেননি এ লঙ্কান কোচ। মুস্তাফিজের জায়গায় স্কোয়াডভুক্ত হয়েছেন স্টাইলিশ ওপেনার তামিম ইকবাল। আগের ম্যাচে পাকিস্তানের বিপক্ষে ইনিংস উদ্বোধন করেন এ বাঁ হাতি। আসরের প্রথম ম্যাচে নেমে খুব একটা সুবিধা করতে পারেননি পিএসএলে দুর্দান্ত ব্যাট করা তামিম। আউট হয়ে যান ৭ রানে। তবে ব্যাটসম্যানদের আতঙ্ক হয়ে ওঠা মোহাম্মদ আমিরের করা প্রথম ওভারের দ্বিতীয় বলেই ফ্লিক করে ছক্কা হাঁকিয়ে নিজের জাত চেনান এ স্টাইলিশ ওপেনার।

মিরপুরে অনুশীলন শেষে তামিম বলেন, আমি মনে করি টি-টিয়েন্টির দুই ওভারের খেলা। দুই ওভারে ১৫ রান করে এল অথবা দুই ওভারে দুটি উইকেট চলে গেল, এতেই ম্যাচের রূপ বদলে যেতে পারে।’

সংক্ষিপ্ত ভার্সনে বাংলাদেশ এখন একটি বিপজ্জনক দল। শ্রীলঙ্কা ও পাকিস্তানের বিপক্ষে নিজেদের পারফর্মেন্স দিয়েই টাইগাররা তা প্রমাণ করেছে।

অতএব, বাংলাদেশ-ভারত ফাইনাল ম্যাচটি তীব্র প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ হবে আশা করাই যেতে পারে। বাংলাদেশ চাইবে প্রথমবারের মতো এশিয়া কাপের শিরোপা ঘরে তুলতে।

সংবাদ সম্পর্কে আপনার মতামত দিন