৪ বছরেও ফেরেনি ঝিনাইদহে গুম হওয়া গৃহবধু মনোয়ারা খাতুন

16216 রপজাহিদুর রহমান তারিক, ঝিনাইদহ : ঝিনাইদহের হরিণাকুন্ডু উপজেলার দখলপুর গ্রামের মনোয়ারা খাতুন (৩০) নামে এক গৃহবধু চার বছর ধরে গুম হয়ে আছেন। কোথায় আছেন, নাকি তাকে হত্যা করা হয়েছে এ নিয়ে মনোয়ারা খাতুনের স্বামীসহ ওই পরিবারটির কাছে কোন তথ্য নেই। এ নিয়ে হরিণাকুন্ডু থানায় একটি জিডি করা হলেও তা আলোর মুখ দেখেনি। গুম হওয়া গৃহবধূ মনোয়ারা খাতুন (৩০) হরিণাকুন্ডু উপজেলার দখলপুর গ্রামের কুটি মন্ডলের মেয়ে এবং আকরাম হোসেন মন্টু মিয়ার স্ত্রী।

মনোয়ারা খাতুনের স্বামী আকরাম হোসেন মন্টু জানান, ২০১২ সালের ৭ মার্চ থেকে মনোয়ারাকে খুজে পাওয়া যাচ্ছে না। তিনি অভিযোগ করেন, একই গ্রামের মৃত ইমান আলী সরদারের ছেলে আব্দুস সাত্তারের কাছে ৪৬ শতক জমি এক লাখ টাকায় বন্ধক রাখেন তার স্ত্রী। এ ঘটনার পর থেকেই মনোয়ারা খাতুন লাপাত্তা। তার ধারণা বন্ধকি জমি হাতিয়ে নিতেই মনোয়ারাকে হত্যার পর লাশ গুম করা হয়েছে। আকরাম হোসেন মন্টু আরো জানান, হরিণাকুন্ডু থানার তৎকালীন ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা আবুল খায়ের জমির বন্ধক গ্রহিতা আব্দুস সাত্তারকে সে সময় ৫ দিনের মধ্যে মনোয়ারাকে হাজির করার জন্য সময় বেধে দিয়েছিলেন। কিন্তু পরে বিষয়টি নিয়ে পুলিশ আর বেশিদুর এগোয়নি। তদন্ত থেমে গেছে। জমির বন্ধক গ্রহীতা আব্দুস ছাত্তার টাকা ওয়লা মানুষ। তিনি টাকা দিয়ে পুলিশকে থামিয়ে দিয়েছেন বলে অভিযোগ করেন মন্টু।

তিনি বলেন, কাজের জন্য তিনি সব সময় বাইরে থাকেন। এই সুযোগে তার স্ত্রীকে গুম করে প্রতিবেশি সাত্তার তার শ্বাশুড়ির ৪৬ শতক মুল্যবান জমি বন্ধক রাখার কথা প্রচার করনে। আব্দুস সাত্তার দেড়শ টাকার স্ট্যাম্পে একটি বন্ধকী চুক্তিনামাও দেখাচ্ছেন, যাতে কোন সাক্ষি নেই। ভূয়া বন্ধক নামার মাধ্যমে জমি দখলের জন্য তার স্ত্রীকে গুম করা হয়েছে বলেও মন্টু অভিযোগ করেন।

বিষয়টি নিয়ে এলাকায় শালিস বৈঠক হওয়ায়র পর সাত্তার মন্টুর শ্বাশুড়ি ও তাকেও হুমকী দিয়েছিলেন। মন্টু অভিযোগ করেন, এ ঘটনার পর ২০১২ সালের ২৭ জুন শৈলকুপার কেসমত মাইলমারী গ্রামের ওহিমুদ্দির বাড়ির সেফটি ট্যাংকীতে অজ্ঞাত এক গৃহবধুর লাশ পাওয়া যায়। লাশটি দেখতে তার স্ত্রীর মতো মনে হলেও পচেগলে যাওয়ার কারণে ঠিকমতো সনাক্ত করা সম্ভব হয়নি। অজ্ঞাত ওই গৃহবধুর পরিচয় ও ঘটনার সাথে জড়িতদের গ্রেফতার করা সম্ভব হলে মনোয়ারা গুমের রহস্য পাওয়া যেত বলে তিনি মনে করেন। তিনি বিষয়টি তদন্তের জন্য সিআইডির হস্তক্ষেপ কামনা করেন।

এ ব্যাপারে হরিণাকুন্ডুর দখলপুর গ্রামের আব্দুস সাত্তার জানান, মন্টুর মিয়ার স্ত্রী মনোয়ারা খাতুন তার কাছ থেকে এক লাখ টাকা নেওয়ার পর থেকেই নিখোঁজ রয়েছেন। এই গুম হওয়ার সঙ্গে তিনি মোটেও জড়িত নয়। বিষয়টি নিয়ে হরিণাকুন্ডু থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মাহাতাব উদ্দীন জানান, আমি নতুন এসেছি। আর বিয়টি ৪ বছর পার হয়ে গেছে। নতুন করে অভিযোগ পেলে তদন্ত করে দেখো যেতে পারে।

সংবাদ সম্পর্কে আপনার মতামত দিন