তাঁদের মন খারাপ

মন্ত্রিসভায় বড় রদবদল হয়েছে। নতুন করে তিনজন মন্ত্রী হয়েছে। ৮টি মন্ত্রণালয়ে পরিবর্তন হয়েছে। এত বড় রদবদলের পরও কয়কজনের মন খারাপ। কারণ তাঁদের প্রত্যাশা পূরণ হয়নি।

মন খারাপের দলে আছেন বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী নসরুল হামিদ বিপু, বস্ত্র ও পাট মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী মির্জা আজম এবং ডাক এবং টেলিযোগাযোগ মন্ত্রণালয়ের তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি (আইসিটি) বিভাগের প্রতিমন্ত্রী জুনাইদ আহমেদ পলক।

বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয়ের পূর্ণ মন্ত্রী নেই। বছরের শুরুতেই মন্ত্রিসভার রদবদলে নসরুল হামিদ বিপুর মধ্যে আশা জেগেছিল বলেই জানান সংশ্লিষ্টরা। একই রকম মন্ত্রী হওয়ার সম্ভাবনা জেগেছিল মির্জা আজমকে নিয়ে। বস্ত্র ও পাট মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী হিসেবে মুহা: ইমাজ উদ্দিন প্রামাণিক দায়িত্বে থাকলেও তিনি দীর্ঘদিন ধরেই অসুস্থ। তাই ওই মন্ত্রণালয়েও রদবদল আসতে পারত।

অবশ্য দুজন মন্ত্রী হওয়ার সম্ভাবনার পেছেন আরও কিছু কারণ ছিল। প্রথমত, তাঁরা দুজনই সাফল্যের সঙ্গে দায়িত্ব পালন করছিলেন। এছাড়া এর আগেও কয়েকজনের প্রতিমন্ত্রী থেকে মন্ত্রী হওয়ার নজির আছে, যার মধ্যে পড়েন বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রী ইয়াফেস ওসমান, পরিকল্পনামন্ত্রী আ হ ম মোস্তফা কামাল। প্রতিমন্ত্রী থেকে পূর্ণ মন্ত্রীর উদাহরণ তো এবারের রদবদলেও আছে নারায়ণ চন্দ্র চন্দ। মৎস্য ও প্রাণিসম্পদের প্রতিমন্ত্রী থেকে মন্ত্রী হয়েছেন। কিন্তু রদবলের নসরুল হামিদ, মির্জা আজম কারোরই ভাগ্যের শিঁকে ছেড়েনি।

নসরুল হামিদ বিপু ও মির্জা আজমের চেয়ে জুনাইদ আহমেদ পলকের বিষয়টি ভিন্ন। ডাক এবং টেলিযোগাযোগ মন্ত্রণালয়ের আইসিটি বিভাগের প্রতিমন্ত্রী হলেও মন্ত্রণালয় মন্ত্রী না থাকায় এক অর্থে তিনিই দায়িত্বে ছিলেন। রদবদলে তাঁর মন্ত্রী হওয়ার প্রত্যাশা ছিল কিনা তা বিস্তারিত জানা না গেলেও, এখন মন্ত্রণালয়ে পূর্ণ মন্ত্রী হয়েছেন দেশবরেন্য প্রযুক্তিবিদ মোস্তাফা জব্বার। মন্ত্রণালয়ের ওপর পলকের পূর্ণ কর্তৃত্ব তাই আর থাকছে না বলেই মত সংশ্লিষ্টদের।

সরকার সংশ্লিষ্ট একাধিক সূত্রে জানা গেছে মন্ত্রিসভায় রদবদলের সিদ্ধান্ত এসেছে সম্পূর্ণই প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার কাছ থেকে। দেশের উন্নয়ন গতিশীল ও সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় গুলোকে আরও ভালোভাবে চালানোর জন্য প্রয়োজনীয় মনে করেই প্রধানমন্ত্রী পরিবর্তন এনেছেন। এখানে কারও ব্যক্তিগত অনুভূতি প্রকাশের কোনো জায়গা নেই। এখন সময়ই বলে দেবে মন্ত্রিসভার পরিবর্তন কতটা কার্যকর ও ফলপ্রসূ হয়েছে।

সূত্র: বাংলা ইনসাইডার

সংবাদ সম্পর্কে আপনার মতামত দিন

এ বিভাগের আরো খবর