তারেক ঠেকাও: আগামী নির্বাচনে আওয়ামী লীগের ভরাডুবি ঠেকাতে শেষ চেষ্টা

সময় বাংলা ডেস্ক: ১৫% এর দালালী এবং মানুষের মাপকাঠিতে রেহানা শেখ, টিউলিপ সিদ্দিক আর সজীব আহমেদ ওয়াজেদ জয়ঃ জ্যাকব মিল্টন

এক সময় আমার নিজ চোখে দেখেছি সদ্য ভারত থেকে আগত নেতা আওরঙ্গের বিছানা ধানমন্ডি’র ৩২ নম্বর বাড়িতে। ছাত্রনেতা লিয়াকত আমাকে পরিচয় করিয়ে দিয়েছিলো আওরঙ্গের সাথে।তৎকালীন সংবাদ এর সম্পাদক আহমেদুল কবির গল্পে মশগুল ছিলেন আওরঙ্গের সাথে। পরিস্থিতি এমনি ছিল যে ওই খোশ গল্পে যোগ দেয়া ছাড়া আমার ও উপায় ছিল না। খোশ গল্প শেষে জনাব আওরঙ্গ আমাদেরকে নিয়ে গিয়েছিলেন অন্দরমহলে পীরানে পীর কুতুবে রাব্বানী গোঁউসে ভান্ডারী পীর সম্রাজ্ঞী হাসিনা শেখ এর আরশে মুয়াল্লায়। আমি কৃতজ্ঞ এজন্য যে পীর সম্রাজ্ঞী পয়সা নিয়েই ছিনাল এরশাদের মন্ত্রী শেখ শহিদুল হক কে ফোন করে বলেছিলেন, “শান্তিনগর বাজারের মধ্যে কাজটা জলদি শেষ করে দিও। এরশাদকে আমার কথা বলিও।” আমি শেখ শহীদ এর কথা শুনিনি তবে শান্তিনগর বাজারের মধ্যে প্রপার্টি ডেভেলপমেন্ট এর কাজটা দ্রুতই শেষ হয়েছিল।

৩২ নম্বর থেকে বেরোনোর সময় লিয়াকতকে বলছিলাম “মুজিব শেখ এর বাড়ী’তো এখন দালালীর আখড়ায় পরিণত হয়েছে?” লিয়াকত জবাব দিয়েছিলো, “বাংলাদেশের রাজনীতি ই তো শুধুমাত্র দালালী।” জবাবে আমি বলেছিলাম, “মাওলানা ভাসানী আর তর্কবাগীশ দালালীতে সফল হন নাই বলেই আওয়ামী লীগ চালাতে পারেন নাই। পক্ষান্তরে মুজিব শেখ রাজনীতিতে আসার আগেই দালালী শিখেছিলেন। তাই তিনি সফল হয়েছিলেন।” কিভাবে? লিয়াকত জিজ্ঞাসা করেছিল। উত্তরে আহমেদুল কবির বলেছিলেন, “পুরান ঢাকায় হানিফ এর বাসায় বিনা পয়সায় থেকে ইন্সুরেন্স কোম্পানীর চাকরী করতে গেলে যে কোনও ব্যক্তিকেই বিরাট দালালের যোগ্যতা দেখাতে হয়েছে!!!” বিদায় নেয়ার সময় লিয়াকতকে বলেছিলাম, “আওরঙ্গকে ওখান থেকে সরে যেতে বলবেন। ওখানে থাকলে তাকে পৃথিবীর মায়া ছাড়তে হবে ।” কেন? লিয়াকত আমাকে পুনরায় জিজ্ঞাসা করেছিল?বলেছিলাম “পীর সম্রাজ্ঞীর চোখে আমি আগুন দেখেছি যখন উনি আওরঙ্গের দিকে তাকিয়েছিলেন।” সময় বয়ে যায়। পীর সম্রাজ্ঞীর আগুন কাউকে হঠাৎ করে মারে না। আওরঙ্গকে মেরেছে প্রায় একযুগ পরে আবার শাকিল নামের একজন ও মরেছে আরেক যুগ পরে। শুনেছি শাকিলেরও জায়গা হয়েছিল ঠিক আওরঙ্গের জায়গায়, আমি যেখানে তাকে দেখেছি।

একসময় হাসিনা শেখকে দেখা গেছে ডাকসুর ভিপি সুলতান মানসুর এবং মাহবুবুল হক লিটুর মতো নেতাদের জড়িয়ে ধরে কথা বলতে।এসব ছাত্র নেতারা দলের জন্য ছিল নিবেদিত প্রাণ। তারা দেশকে ভালোবাসতো নিজের মায়ের মতো করেই।তারা ভারতীয় আধিপত্যবাদকে গ্রহণ করে নাই বলেই তারা আজ নিষ্ক্রিয়। আজ তারা হাজার চেষ্টা করলেও হাসিনা শেখ এর কাছে পৌঁছাতে পারবে না। বেশী চেষ্টা করতে গেলে তাদেরকেও বরণ করতে হবে শাকিল অথবা আওরঙ্গের পরিণতি।এই অবস্থার কথা বিবেচনা করেই পার্টির আধপাগল মহাসচিব “রাম ত্যেরা গঙ্গা ময়লা”র গান গেয়ে বেড়ায়।

১৯৭৫ সালের ১৫ই আগস্টের পর হাসিনা বা রেহানা শেখ মুজিব এর মেয়ে না হলে তারা বাবা মা হারানোর পর কি হতো? তাদের অবস্থা কি বিএনপি নেতা ইলিয়াস আলী’র সন্তানদের চেয়ে ভালো কিছু হতো? না কি তাদের চেয়েও খারাপ হতো? সবার মনে আছে কি না জানি না, হাসিনা শেখ যখন ছাত্ররাজনীতিতে ছাত্র সংসদে নির্বাচন করছিলেন তখন শেখ কামাল তার বোন হাসিনা শেখ সম্পর্কে বলেছিলেন যে “শেখ মুজিব পরিবারের সবচেয়ে বড় Block-Headed.” দেশের দুর্ভাগ্য এই যে শেখ কামালের দৃষ্টিতে যিনি ছিলেন সবচেয়ে বড় “বেকুব” তাকেই ভারত নিযুক্ত করেছে আমাদের দেশকে ধ্বংস করার জন্য।

আওয়ামী লীগ নামক দলটিতে ভারতীয় দালালদের পাশাপাশি একসময় কিছু দেশপ্রেমিক নেতা কর্মীও ছিল। যাদের দেশপ্রেম কারো চেয়েই কম ছিল না।যদিও তারা ধীরে ধীরে দলীয় কর্মকান্ড থেকে নিজেদেরকে গুটিয়ে নিয়েছে যেহেতু ভারতীয় দালালদের দাপটে আর হাসিনা শেখ এর ভারত প্রেম তাদেরকে দলের ভিতরে এবং বাহিরে সংখ্যালঘুতে পর্যবসিত করেছে। পরিস্থিতি এমনি এক পর্যায়ে পৌছেচে যে কোনো দেশপ্রেমিক আওয়ামী লীগের নেতা বা কর্মী যদি হাসিনা শেখকে ভারতের বিরুদ্ধে গিয়ে বাংলাদেশের স্বার্থের কথা মনে করিয়ে দেয় তবে হাসিনা শেখ তার মুখ দেখা বন্ধ করে দেন। তার দলীয় অবস্থান দ্রুত নিম্নগামী হতে থাকে। আবার কখনো কখনো তাদের লাশ দুর্ঘটনা কবলিত গাড়ীর মধ্যে পাওয়া যায়। একথা আওয়ামী লীগের প্রথম ও দ্বিতীয় সারির নেতারা জানেন বলেই তারা ভারতের বিরুদ্ধে বলা তো দূরের কথা তারা গণবক্তৃতায় ভারতের হিন্দি সিনেমার উপমা দিয়ে কথা বলতে স্বাচ্ছন্দ্য বোধ করেন।যেই তোফায়েল আহমেদ জেনারেল মইনের হাত ধরে আওয়ামী লীগে সংস্কার চেয়েছিলেন তিনি আজ নারী কুকুরের মতো হাসিনা শেখের পা-চাটায় চ্যাম্পিয়ন।

দলীয় তদবীর এবং সিদ্ধান্ত তৈরীর ধাপ ও অনেক। রেহানা শেখ লন্ডনে বসে আছেন তদবীরের বাক্স নিয়ে। ব্যবসা হলে ১৫% নগদ আর অন্যান্য সুপারিশ হলে বিষয় মাফিক।তার উড়নচন্ডী গাঁধী মেয়ে টিউলিপ সিদ্দিক স্কুলে বিখ্যাত হয়েছে সাদা ছেলেদের চুমা দিতে দিতে।কথা বার্তায় যেই ব্যক্তি হাউস কীপারদের যোগ্য সেই ব্যক্তি এখন লেবার পার্টির এমপি।কিছুদিন আগে এক সাংবাদিকের সাথে দুর্ব্যবহার করে লেবার পার্টির অনেক এমপিরাই প্রশ্ন তুলেছে যে এইরকম ব্যক্তি কি করে লেবার পার্টির মনোনয়ন পেয়েছে? উত্তরটি সহজ।পাশ্চাত্যের রাজনীতিতেও এখন দুর্নীতি ঢুকতে শুরু করেছে। পার্টিতে বিরাট অংকের ডোনেশন দিলে দলের মনোনয়ন পাওয়া অনেক সহজ।রেহানা শেখ, হাসিনা শেখ এবং তাদের পরিবারের বড় কুলাঙ্গার সজীব আহমেদ জয় বাংলাদেশের রক্তপিপাসু ব্যবসায়ীদেরকে বলে দিয়েছিলো যে তাদের কাছ থেকে কিছু নিতে হলে লন্ডনে গিয়ে লেবার পার্টিতে মোটা অংকের ডোনেশন দিতে হবে।যেই ডোনেশন দিয়েই স্কুলে সাদা ছেলেদের চুমা দেয়া লাফাঙ্গার লেবার পার্টির মনোনয়ন কিনে এমপি হয়েছে। সেই বদৌলতে টিউলিপ এখন তার রক্তপিপাসু খালার সাথে এখানে সেখানে গিয়ে বিদেশী নেতাদের সাথে ছবি তুলে নিজেকে হাউস কীপার ইমেজ থেকে বের করে আনার চেষ্টা করছে।

আজও, রেহানা শেখ, টিউলিপ বা জয় দেশে গেলে ৩২ নম্বরে গিয়ে দালালী করে। বাহির থেকে ওটাকে মুক্তিযুদ্ধ মিউজিয়াম বানালেও আসলে ওটা হলো মুজিব শেখ দালালী ভবন। যেখানে ১৫% থেকে ৫০% দালালীর মাধ্যমে যে কোনো কাজের সুরাহা করা হয়।দেশে বা বিদেশে দালালী দেবার ব্যবস্থা রয়েছে।

ভারতীয় দালালদের জন্য রয়েছে বিশেষ সুযোগ ।

ইদানীং মুক্তিযুদ্ধের চেতনা ব্যবসায় ভাটা পড়েছে। লোকজন হাসিনা শেখের মিথ্যা বুজরুকি ধরে ফেলেছে। তাই তারা বেছে নিয়েছে প্রাঞ্জল মিথ্যা বলার কৌশল।”পবিত্র কোরান” ছুঁয়ে শপথ করা থেকে শুরু করে “টুঙ্গী পাড়ার কবরের কসম” কোনো কিছুই বাদ যাচ্ছে না। কিন্তু পাবলিক বড় ত্যাদড় হয়েছে। পাবলিক এখন বেগম জিয়া’র পেছনে দৌড়ায়। শালা পাবলিক হলো ছোটলোকদের দল।হাসিনা এবং রেহানা শেখ এর দৃষ্টিতে এই দেশটাই খারাপ এবং দেশের পাবলিকরা ও খারাপ। এই কুত্তার বাচ্চা দেশ আমাদের পিতা আর পরিবারকে মেরেছে। শুধু তাই নয়!! মারার পরে এই দেশের পাবলিক রাস্তায় আনন্দ মিছিল করেছে। এই দেশ ধ্বংস না হওয়া পর্যন্ত আমরা ক্ষমতা ছাড়বো না।ভারতকে বাবা যখন ডেকেছি প্রয়োজনে বড় আব্বা ডাকবো। বাংলাদেশের প্রতিটি বালুকনা ভারতকে লিখে দেবো তবুও ক্ষমতা ধরে রাখবো ইনশাল্লাহ।

তবে কিছুটা মুশকিল হলো কুত্তারবাচ্চা পাবলিকদের নিয়ে। তাদেরকে কি দিয়ে বোঝানো যায়? অনুগত এবং নির্লজ্জ এরশাদ তাদের সমস্যার সমাধান করার অভিপ্রায়ে বর্গা দিলেন জিনাত মোশারফ এর তোয়ালে বহনকারী হাবিব পীর নামক জারীগীত লেখককে। হাবিব পীর খুব ভালো জারীগান লিখে যা ছোটোলোক পাবলিকরা পছন্দ করে। একসময় এই হাবিব পীর এরশাদকে মোঘল বাদশাহ আকবর বানিয়ে ফেলেছিলো।কপাল খারাপ বিধায় কর্নেল সাইফ এর এক থাপ্পড় খেয়ে ঢাকা ছেড়েছিলো। তবে জীনাত মোশারফের প্যান্টির ছবি হয়তো আজও তার কাছে রয়েছে। আজ হাবিব পীরের কদর আবার বেড়েছে। তিনি হাসিনা শেখকে রাশিয়ান সম্রাজ্ঞী ক্যাথারিন দি গ্রেট বানানোর চেষ্টা করচেন। তবে হাবিব পীরের প্রয়োজন একজন ভিলেন এর। হাসিনা শেখ নিজেই বের করে দিলেন একজনকে যিনি দেশেও নেই আর প্রতিবাদ করলিও কেউ শুনবে না। লন্ডনে বসে বিবৃতি দিলে কি এমন আসবে যাবে? শহীদ জিয়াউর রহমান এর নির্বাসিত ছেলে তারিক রহমানকে বানানো হলো বাংলাদেশের প্রখ্যাত ভিলেন। তারেক রহমান এবং তার মা এর বেসরকারী অফিস হাওয়া ভবনকে বানানো হলো ষড়যন্ত্রের পাঠশালা। হাবিব পীর তার টাক মাথায় কলপ লাগিয়ে ইদানীং ভালো অনুভব করছেন।জীনাত মোশারফের প্যান্টির ছবিটার প্রয়োজনীয়তা এখন আর খুব একটা নেই যেহেতু এই যুগের বহু জীনাত মোশারফদের প্যান্টির ছবি তার সংগ্রহে রয়েছে। শুধুমাত্র লন্ডনের লেবার পার্টির টিউলিপ নামধারীর প্যান্টির রংটা জানা থাকলে তারেক রহমানকে রাবন বানাতে খুব একটা সময় লাগবে না যেহেতু বিএনপি’র প্রথম সারির অনেক নেতারাই তারেক জিয়াকে তাদের প্রতিদ্বন্দ্বী মনে করেন। হাসিনা শেখ এবং তার পরিবার খুব ভালো করেই জানেন যে বর্তমান তারেক জিয়া’র মত রাজনৈতিকভাবে বিজ্ঞ, দূরদৃষ্টি সম্পন্ন এবং দেশপ্রেমিক নেতা তাদের পরিবারে নেই। আর সে জন্যই তারা ক্রয় করছেন হাবিব পীরের মতো জারীগান লেখক আর বিএনপির প্রথম সারির কিছু বেঈমান যারা দিনে বিএনপি আর রাতের আঁধারে পীর সম্রাজ্ঞী হাসিনা শেখ এর দরবার আরশে মুয়াল্লায় গিয়ে বসে থাকেন।

সাংবাদিক: লেখক ও কলামিস্ট
এখানে প্রকাশিত সব মতামত লেখকের ব্যক্তিগত ও লেখকের ফেসবুকে প্রকাশিত, সময় বাংলা সম্পাদকীয় নীতির আওতাভুক্ত নয়।

সংবাদ সম্পর্কে আপনার মতামত দিন