“তারেক রহমানও সরকারের স্বৈরাচারী মানসিকতার শিকার”-ব্যারিস্টার আবু সায়েম

বিবিসি বাংলাঃ বাংলাদেশ এখন স্বৈরশাসনের অধীন এবং সেখানে গণতন্ত্রের ন্যূনতম মানদণ্ড পর্যন্ত মানা হচ্ছে না বলে একটি জার্মান গবেষণা প্রতিষ্ঠানের মন্তব্যের পক্ষে প্রতিক্রিয়া জানিয়েছে বাংলাদেশের অন্যতম বিরোধীদল বিএনপি।

ঢাকার নয়াপল্টনে দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে শনিবার এক সংবাদ সম্মেলনে বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন: “আমরা এত দিন ধরে যে কথাগুলো বলছিলাম আজকে তা বিশ্বে স্বীকৃত হয়েছে। এই গবেষণার মধ্য দিয়ে আমাদের বক্তব্যের প্রতিফলন হয়েছে।”

বিশ্বের ১২৯টি দেশে গণতন্ত্র, বাজার অর্থনীতি এবং সুশাসনের অবস্থা নিয়ে এক সমীক্ষার পর জার্মান প্রতিষ্ঠান ‘বেরটেলসম্যান স্টিফটুং’ মন্তব্য করে, “বাংলাদেশ এখন স্বৈরশাসনের অধীন এবং সেখানে এখন গণতন্ত্রের ন্যূনতম মানদণ্ড পর্যন্ত মানা হচ্ছে না।”

রিপোর্টটি শুক্রবার প্রকাশ করা হয় যা বাংলাদেশ সরকারের পক্ষ থেকে প্রত্যাখ্যান করা হয়েছে।

সংবাদ সম্মেলনে বিএনপি মহাসচিব বলেন: “এই গবেষণায় আমরা বাংলাদেশের নাগরিক হিসেবে, গণতন্ত্রের জন্য লড়াই করে যারা স্বাধীনতা অর্জন করেছিলাম তারা অত্যন্ত লজ্জাবোধ করছি। এবং আমরা এর নিন্দা জানাচ্ছি”।

ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগকে দায়ী করে তিনি বলেন, “সরকার স্বৈরতান্ত্রিক হয়ে বাংলাদেশকে আজ এই অবস্থায় নিয়ে গেছে।”

অন্যদিকে আরেক প্রতিক্রিয়ায় লন্ডন থেকে দলটির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের উপদেষ্টা আবু সায়েম বলছেন, “গত নয়টি বছর বাংলাদেশ শাসিত হচ্ছে কেবল এক ব্যক্তির তুঘলকি খেয়ালখুশিতে। ভিন্নমত দমনে প্রয়োগ করা হয়েছে গুম, খুন, নির্যাতন ও মিথ্যা মামলার মতো পৈশাচিক সব পদ্ধতি।”

দলের চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধে মামলার সমালোচনা করে তিনি উল্লেখ করেন, “বিদ্যমান আইন ও কার্যবিধির প্রতি বৃদ্ধাঙ্গুলি প্রদর্শন করে তাকে বন্দী করে রাখা হয়েছে শত বছরের পুরানো ও পরিত্যক্ত কারাগারে।”

“অন্যদিকে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানও সরকারের স্বৈরাচারী মানসিকতার শিকার। বেআইনি পন্থায় আদালতকে প্রভাবিত করে তার বাক-স্বাধীনতা হরণ করা হয়েছে। গত প্রায় দশ বছর লন্ডনে নির্বাসনে থাকা সত্ত্বেও তারেক রহমানের বিরুদ্ধে দায়ের করা হয়েছে সত্তরটির ওপরে মামলা।”

‘বেরটেলসম্যান স্টিফটুং’-এর সমীক্ষা প্রতিবেদন নিয়ে বাংলাদেশ সরকারের প্রধানমন্ত্রীর একজন উপদেষ্টা এইচ টি ইমামের বক্তব্যেরও সমালোচনা করেন তিনি।

মি. সায়েম অভিযোগ করেন, সরকার “বরাবরের মতো এবারো বিএনপির কাঁধে বন্দুক রেখে কলঙ্কের বৈতরণী পার হতে চাচ্ছে।”

এসময় তিনি অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের কাছে ক্ষমতা হস্তান্তর করে “অবাধ, সুস্ঠু ও নিরপেক্ষ” নির্বাচন অনুষ্ঠানের আহ্বান জানান।

বিবিসি বাংলা | ২৪ মার্চ ২০১৮

http://www.bbc.com/bengali/news-43526442

সংবাদ সম্পর্কে আপনার মতামত দিন