তারেক রহমানের পরিবারের কাছে ঢাকা ও ভারতীয় পত্রিকার নি:শর্ত ক্ষমা প্রার্থনা

সময়বাংলা, লন্ডন : ঢাকা ও ভারতীয় দুইটি সংবাদপত্র বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের কাছে নি:শর্ত ক্ষমা চেয়েছে। তারা স্বীকার করেছে যে,বিদেশে তারেক রহমান বা তার পরিবারের অর্থ সম্পদ থাকার যে খবরটি তারা প্রকাশ করেছিলো ,তা নির্জলা মিথ্যা ও বানোয়াট।আওয়ামীলীগ সরকার আশ্রিত একটি সংঘবদ্ধ চক্র তারেক রহমানের রাজনৈতিক ইমেজ ক্ষুন্ন করার জন্যই এই সংবাদটি ঢাকা ও কলকাতাভিত্তিক কয়েকটি নামসর্বস্ব অনলাইন নিউজ পোর্টালে ছড়ানো হয়েছে। পরবর্তীতে নিউজটি আইনগতভাবে চ্যালেঞ্জ করা হলে তারা নিউজটি প্রত্যাহার করতে বাধ্য হয়।

বৃহস্পতিবার পূর্বলন্ডনের খ্যাতনামা ল’ফার্ম লন্ডনিয়াম সলিসিটর্সে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানান তারেক রহমানের অন্যতম আইনজীবী ব্যারিস্টার এ কে এম কামরুজ্জামান।সংবাদ সম্মেলনে বলা হয়, বছরের পর বছর ধরে বাংলাদেশে বিএনপি, বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা ও স্বাধীনতার ঘোষক জিয়াউর রহমান, বিএনপি চেয়ারপার্সন বেগম খালেদা জিয়া এবং বিশেষ করে বিএনপির বর্তমান ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান একটি সংঘবদ্ধ গোষ্ঠীর হীন রাজনৈতিক উদ্দেশ্যমূলক অপপ্রচারের টার্গেটে পরিণত হয়েছেন। বাংলাদেশের বর্তমান ক্ষমতাসীন সরকারের প্রত্যক্ষ মদদে দেশে বিদেশে বিএনপির বর্তমান ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান ও তার পরিবারের বিরুদ্ধে মিথ্যা সংবাদ প্রচার করে জনমনে বিরূপ ধারণা তৈরির অপচেষ্টা অব্যাহত রয়েছে।

লিখিত বক্তব্যে বলা হয়, বাংলাদশে ‘বাংলা ইনসাইডার’ নামে নতুন একটি অনলাইন নিউজ পোর্টাল গত প্রায় একবছর ধরে তারেক রহমানের বিরুদ্ধে এবং শেখ হাসিনার পক্ষে প্রায় প্রতিদিন একটি করে নিউজ প্রচার করছে। দেখা গেছে, বাংলা এবং ইংরেজি উভয় ভার্সনে সৈয়দ বোরহান কবির নাম জনৈক সাংবাদিকের এই নিউজ পোর্টালটিতে তারেক রহমানের বিপক্ষে কিংবা শেখ হাসিনার পক্ষে সকল নিউজ মিথ্যা মনগড়া ও ভুয়া।

ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ সরকারের দেশে নানা অজুহাতে ডজন ডজন নিউজ পোর্টাল বন্ধ করে দিলেও ফেইক নিউজে ভরা এই পোর্টালটি তারা বন্ধ করছেনা। কারণ ক্ষমতাসীন সরকার পূর্ব পরিকল্পনা অনুযায়ী প্রথমে এই নিউজ পোর্টালটিতে বিএনপি কিংবা তারেক রহমানের বিরুদ্ধে একটি নিউজ প্রচার করে। তারপর দেশের অন্যান্য মিডিয়াতেও ওই মিথ্যা নিউজটি প্রচার ও প্রকাশের জন্য চাপ সৃষ্টি করে।

এতে আরো বলা হয়, ‘বাংলা ইনসাইডার’ নামক এই নিউজ পোর্টালটিতে ২০১৭ সালের ২৫ ডিসেম্বর ‘বিদেশে তারেক রহমানের পরিবারের সম্পদ রয়েছে’ মর্মে সম্পূর্ণ মিথ্যা ও বানোয়াট একটি সংবাদ প্রকাশ করে।রিপোর্টের সোর্স হিসেবে ব্রিটেনের নাম করা ট্যাক্স ল’য়ার নাইজেল পপোলওয়েল এর নাম উল্লেখ করা হয়। তবে দেশের জনগণের কাছে ‘বাংলা ইনসাইডার’ নামক এই নিউজ পোর্টালটির ক্রেডিবিলিটি না থাকায় নিউজটি কেউ বিশ্বাস করেনি। কারণ জনগণ জানে, ক্ষমতাসীনদের স্বার্থে বোরহান কবিরের এই নিউজ পোর্টালটি বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান ও তার পরিবারের ইমেজ ক্ষুন্ন করতে বরাবরই মিথ্যা ও মনগড়া রিপোর্ট তৈরী করে প্রচার ও প্রকাশ করে আসছে ।

‘বাংলা ইনসাইডার’ নামক নিউজ পোর্টালে প্রকাশিত ভুয়া রিপোর্টটি মাস দুয়েক পর প্রায় হুবহু গত ফেব্রুয়ারি মাসের ২০ তারিখে ভারতের কলকাতার সাংবাদিক সুবীর ভৌমিক তার অনলাইন নিউজ পোর্টাল ‘লুকইস্ট’ এ ‘নিউ লাইট অন জিয়া ওয়েলথ ‘ শিরোনামে প্রকাশ করে। ওই নিউজেও সূত্র হিসেবে উল্লেখ করা হয় ব্রিটেনের নাম করা ট্যাক্স ল’য়ার ‘নাইজেল পপোলওয়েল’ এর নাম। সুবীর ভৌমিক কলকাতা থেকে প্রচারিত অনলাইন নিউজ পোর্টাল ‘ ‘লুকইস্ট’ এর এডিটোরিয়াল ডিরেক্টর। ‘লুকইস্ট’ এ সংবাদটি প্রচার হওয়ার পর একই তারিখে ওই রিপোর্টটি বাংলাদেশে ‘দৈনিক আমাদের সময়’ পত্রিকা প্রকাশ করে।

এরপর বিএনপি’র ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের আইনজীবী ল’ফার্ম বার্জেস সালমানের অন্যতম কর্ণধার ট্যাক্স ল’য়ার ‘নাইজেল পপোলওয়েল’ এর সঙ্গে তার বরাতে প্রকাশিত রিপোর্টের সত্যতা সম্পর্কে যোগাযোগ করে। জবাবে নাইজেল পপোলওয়েল লিখিতভাবে জানান, তারেক রহমান তাঁর ক্লায়েন্ট নন, তারেক রহমানকে তিনি চেনেন না। এ ধরণের বিষয়ে তিনি কিছুই জানেন না এমনকি এ ধরণের বিষয়ে তার সঙ্গে কেউ কখনো কথা বলেনি। কথিত অনলাইনে নিউজ পোর্টাল ‘বাংলা ইনসাইডার’ কিংবা ‘লুকইস্ট’ নামক এমন কোনো নিউজ পোর্টাল সম্পর্কেও তার কোনো ধারণা নেই।বিশিষ্ট আইনজীবী নাইজেল পপোলওয়েল তার প্রতিষ্ঠান ‘বার্জেস সলমনের’ প্যাডে ‘বাংলা ইনসাইডার’ এ প্রকাশিত নিউজের বিরুদ্ধে লিখিতভাবে প্রতিবাদ জানিয়ে অবিলম্বে রিপোর্টটি প্রত্যাহার করে নেয়ার জন্য নিউজপোর্টালের প্রতি আহবান জানান।

সংবাদ সম্মেলনে বলা হয়, বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান ও তাঁর পরিবারের বিরুদ্ধে মিথ্যা রিপোর্টটি প্রকাশের জন্য তারেক রহমানের পক্ষে দৈনিক আমাদের সময় পত্রিকার সম্পাদককেও ঢাকা থেকে তারেক রহমানের পক্ষে উকিল নোটিশ পাঠানো হয়।, ‘দৈনিক আমাদের সময়’ পত্রিকার সম্পাদক দুঃখ প্রকাশ করে মিথ্যা রিপোর্টটি প্রত্যাহার করে নিয়েছেন। ‘তারেক রহমানের স্ত্রী ও কন্যার কাছে আমরা দুঃখ প্রকাশ করছি’ শিরোনামে পত্রিকাটির সম্পাদক নাঈমুল ইসলাম খান মিথ্যা রিপোর্ট প্রকাশ কারণে গত ২৮ মার্চ স্বনামে একটি রিপোর্ট লিখে নিঃশর্ত দুঃখ প্রকাশ করেন।

সংবাদ সম্মেলনে আরো উপস্থিত ছিলেন, সলিসিটর ডেভিড রিকটার, বিএনপির কেন্দ্রীয় কমিটির আন্তর্জাতিক বিষয়ক সম্পাদক মাহিদুর রহমান, যুক্তরাজ্য বিএনপির সভাপতি এম এ মালিক, সাধারণ সম্পাদক কয়সর এম আহমেদ, যুক্তরাজ্য বিএনপি নেতা আব্দুল হামিদ চৌধুরী, এডভোকেট লিয়াকত এবং সলিসিটর ইব্রাহিম হোসেনসহ অনেকে।

তারেক রহমানের আইনজীবী ব্যারিস্টার একেএম কামরুজ্জামান তার বক্তব্যে বলেন, বছরের পর বছর ধরে আওয়ামী লীগ সরকার বিএনপি’র ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের বিরুদ্ধে মনগড়া বানোয়াট রিপোর্ট প্রকাশ ও প্রচার কিংবা বক্তব্য মন্তব্যের মাধ্যমে অপপ্রচার চালালেও সাম্প্রতিক সময়ে এই অপপ্রচারের মাত্রা বেড়েছে। এই অপপ্রচারে ভারতের কলকাতাভিত্তিক কিছু পত্রিকাও আওয়ামী লীগ সরকারের অপপ্রচারের সঙ্গে তাল মিলিয়েছে। এরই অংশ হিসেবে, দ্য টাইমস অফ ইন্ডিয়া’র কলকাতা এডিশনে গত ৬ মার্চ তারেক রহমানের নামে পক্ষে ভুয়া একটি ফেসবুক পেজের বরাত দিয়ে ‘খালেদা সন স্ল্যামস ইন্ডিয়ান ফরেন পলিসি’ শিরোনামে একটি নিউজ প্রচার করে। এ ব্যাপারে তারেক রহমানের আইনজীবী ব্যারিস্টার একেএম কামরুজ্জামান গত ৯ মার্চ দ্য টাইমস অফ ইন্ডিয়া’র কাছে একটি লিগ্যাল নোটিশ পাঠায়। পরবর্তীতে ‘দ্য টাইমস অফ ইন্ডিয়া’ কতৃপক্ষ তাদের ভুল বুঝতে পেরে রিপোর্টটি প্রত্যাহার করে নেন এবং ভুল সংবাদ প্রকাশের জন্য দুঃখ প্রকাশ করেন। রিপোর্টটি প্রত্যাহার এবং দুঃখ প্রকাশের নিউজটি তারা ২৭ মার্চ ‘দ্য টাইমস অফ ইন্ডিয়া’র কলকাতা এডিশনে প্রকাশ করেছে।

ব্যারিস্টার একেএম কামরুজ্জামান বলেন, বিএনপি’র ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের বিরুদ্ধে দেশে বিদেশে কিভাবে মিথ্যা মনগড়া ও বানোয়াট প্রকাশ এবং প্রচার হয় এখানে মাত্র কয়েকটি উদাহরণ। কলকাতার সাংবাদিক সুবীর ভৌমিক, বাংলাদেশের সৈয়দ বোরহান কবির, পীর হাবিবুর রহমানসহ কিছু সাংবাদিক উদ্দেশ্যমূলকভাবে বিএনপি এবং বিএনপির শীর্ষ নেতৃত্ব সম্পর্কে অপপ্রচার চালাচ্ছে। সুবীর ভৌমিক তার দেশে সরাসরি বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান সম্পর্কে ধারাবাহিক অপপ্রচার শুরু করেছে। সুবীর ভৌমিকের রিপোর্ট দেখে মনে হয় তিনি বাংলাদেশের জাতীয়তাবাদী শক্তি বিশেষ করে বিএনপি’র ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান এবং বাংলাদেশের সেনাবাহিনীর ইমেজ ক্ষুন্ন করতে পরিকল্পনা নিয়েই মাঠে নেমেছেন।

তিনি বলেন, সুবীর ভৌমিক ২০১৭ সালের ২২ সেপ্টেম্বর মিয়ানমারের একটি পত্রিকায় বাংলাদেশ সেনাবাহিনীকে জড়িয়ে একটি রিপোর্ট প্রকাশ করেছিল।দেখা গেছে, সৈয়দ বোরহান কবির কোনো রিপোর্ট প্রকাশ করলে কিছু কিছু রিপোর্ট সুবীর ভৌমিক নিজ দেশের পত্রিকায় প্রকাশ করে অপরদিকে সুবীর ভৌমিক কোনো রিপোর্ট প্রকাশ করলে সেটি বাংলাদেশে প্রচারের দায়িত্ব নেয় সৈয়দ বোরহান কবির।

বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর বিরুদ্ধে করা সুবীর ভৌমিকের ভিত্তিহীন ও উস্কানিমূলক রিপোর্টটি প্রকাশ করেছিল বোরহান কবিরের ‘বাংলা ইনসাইডার’ ‘পূর্ব-পশ্চিম’সহ আরো দু একটি গণমাধ্যম। তবে পরে তারা ওই ভুয়া নিউজ প্রত্যাহার করতে বাধ্য হয়।

ব্যারিস্টার একেএম কামরুজ্জামান বলেন, তারেক রহমানের বিরুদ্ধে মিথ্যা ও মনগড়া রিপোর্টগুলো পর্যালোচনা করতে গিয়ে দেখা গেছে, প্রতিটি রিপোর্ট মনগড়া বানোয়াট ও রাজনৌতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত।

এইসকল রিপোর্টের উদ্দেশ্য দেশে বিদেশে তারেক রহমানের রাজনৈতিক ইমেজ ক্ষুন্ন করা। তারেক রহমানের বিরুদ্ধে কলকাতার সাংবাদিক সুবীর ভৌমিকের তৎপরতায় এটি মনে করার যথেষ্ট কারণ রয়েছে যে তিনি বিএনপি এবং বিএনপির ভারপ্রাপ্ত সভাপতি তারেক রহমানের বিরুদ্ধে যা কিছুই করছেন এর পেছনে সরাসরি বর্তমান ক্ষমতাসীন সরকারের সহযোগিতা রয়েছে।

ব্যারিস্টার একেএম কামরুজ্জামান আরো বলেন, এটি মনে করার যৌক্তিক কারণও রয়েছে। ২০১৬ সালের ৩ রা মার্চ সুবীর ভৌমিকের বাংলাদেশী কর্মস্থল অনলাইন নিউজ পোর্টাল বিডিনিউজ২৪ এ তার সম্পর্কে একটি রিপোর্ট প্রকাশিত হয়েছে। ঐদিন ঢাকায় এক অনুষ্ঠানে সুবীর ভৌমিকের উপস্থিতিতে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার উপদেষ্টা গওহর রিজভী সুবীর ভৌমিক সম্পর্কে মন্তব্য করতে গিয়ে বলেন, “সম্ভবত তিনি আমাদের সেরা মুখপাত্রদের একজন”।

সাংবাদিক সুবীর ভৌমিক বর্তমান আওয়ামী লীগ সরকারের মুখপাত্র হিসেবে দেশে বিদেশে বিএনপি এবং বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান সম্পর্কে অপপ্রচারের দায়িত্ব নিয়েছেন বটে তবে আইনজীবী হিসেবে সকল মিথ্যার বিরুদ্ধে তারেক রহমানের আইনগত লড়াই অব্যাহত থাকবে। এখন থেকে প্রতিটি মিথ্যা ও বানোয়াট রিপোর্টকে আইনগতভাবে মোকাবেলা করা হবে।

সময়বাংলা/প্রতিনিধি/লন্ডন/৩০মার্চ

সংবাদ সম্পর্কে আপনার মতামত দিন