তুরিন আফরোজের টেলি-কথপোকথনের সেই অডিও টেপ ফাঁস⁉️

সময়বাংলা ডেস্ক : স্বাধীনতা যুদ্ধকালে সংঘটিত পাকবাহিনী ও তাদের দোসরদের যুদ্ধপরাধের অভিযোগ তদন্তের জন্য গঠিত টিমে আওয়ামীলীগ সরকারের নিয়োগে একজন প্রসিকিউটর ব্যারিস্টার তুরিন আফরোজ।

১৯৭১ সালে পাকিস্তান সেনাবাহিনীর ক্যাপ্টেন (পরে মেজর) পদে কর্মরত ওয়াহিদুল হকের বিরুদ্ধে রংপুর এলাকায় সংগঠিত মানবতাবিরোধী অভিযোগে আনা হয়। ব্যারিস্টার তুরিন আফরোজকে ঐ মামলার তদন্ত করতে দেয়া হলে তিনি আসামী ওয়াহিদুল হকের সঙ্গে গোপন যোগাযোগ স্থাপন করে তাকে বাঁচানোর চেষ্টা করেন। ২০১৭ সালের নভেম্বরের মাঝামাঝি তুরিন টেলিফোন করেন ওয়াহিদুল হককে। এতে তুরিন যা বলেন তার মর্মার্থ হলো- ওয়াহিদুল হক নিরাপরাধ। এক বছর ধরে তদন্ত করেও তার বিরুদ্ধে যুদ্ধাপরাধের অভিযোগ তিনি পাননি। কিন্তু তারপরও সরকার তাকে ফাঁসাতে চাইছে। তাই তুরিন ওয়াহিদুল হককে গ্রেফতারের বিরুদ্ধে মত দিয়েছিলেন। এমনকি ওয়াহিদুল হক তার বাপের মতন!

টেলিফোনে আলাপের সুত্র ধরে ১৯ নভেম্বর ২০১৭ প্রসিকিউটর তুরিন আফরোজ বোরখা পড়ে তার সহকারী ফারাবীকে নিয়ে স্বামী-স্ত্রীর মত গুলশানের অলিভ রেস্টুরেন্টে আসামি ওয়াহিদুল হকের সঙ্গে গোপনে বৈঠক করেন। তুরিন আফরোজ ঐ মামলার বিভিন্ন তথ্যই সরবরাহ করেননি, সহকারী ফারাবিকে দিয়ে ঘুসও চেয়েছিলেন।

ওই বৈঠকের পৌনে তিন ঘণ্টার রেকর্ড ওয়াহিদুল হকের মোবাইলে ধারণ করা টেপ এবং এই টেলিফোনে আলাপের রেকর্ড সহ সমস্ত প্রমানাদি তুরিন আফরোজের বিরুদ্ধে অভিযোগ আইন মন্ত্রণালয়ে জমা দিয়েছে চীফ প্রসিকিউটরের অফিস। ইতোমধ্যে আইসিটির সকল মামলার কার্যক্রম থেকে তুরিন আফরোজকে বাদ দেয়া হয়েছে। এইসব টেলিফোন ও গোপন বৈঠকের রেকর্ড সরকারী পক্ষত্যাগ করে তুরিন আফরোজ কতৃক আসামীকে সাহায্য করা ও দুর্নীতির অভিযোগের সুস্পষ্ট প্রমান।

উল্লেখ্য, ১৯৭১ সালের ৩০ মার্চ ওয়াহিদুল হক পশ্চিম পাকিস্তানে বদলী হন। যুদ্ধ শেষে পাকিস্তান থেকে প্রত্যাগতের পরে মুহাম্মদ ওয়াহিদুল হককে ১৯৭৪ সালে শেখ মুজিব সরকার সেনাবাহিনীর চাকরি থেকে পুলিশে এবজর্ব করেন। পরে তিনি জাতীয় নিরাপত্তা গোয়েন্দা সংস্থা (এনএসআই)র মহাপরিচালক এবং ১৯৯৬ সালের পরে শেখ হাসিনার সরকারে পাসপোর্ট অধিদপ্তরের মহাপরিচালক নিযুক্ত হন। মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগে ওয়াহিদুল হককে গত ২৪ এপ্রিল গ্রেফতার করা হয়। বর্তমানে তিনি কারাগারে আছেন।

সংবাদ সম্পর্কে আপনার মতামত দিন