তৃনমূল নেতাদের নিয়ে গঠিত হবে বিএনপি’র নতুন কমিটি

bnp_92742ঢাকা : তারেক রহমানকে কেন্দ্র করে গঠন করা হচ্ছে বিএনপির নির্বাহী কমিটি ষষ্ঠ কাউন্সিলের মাধ্যমে বেগম খালেদা জিয়া বিএনপিকে ঢেলে সাজানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। অতীতের সব আন্দোলনের ব্যর্থতার গ্লানি থেকে বেরিয়ে আসতে যেকোন মূল্যে নতুন কমিটির মাধ্যমে ঘুরে দাঁড়ানোর সর্বোচ্চ পরিকল্পনা রয়েছে দলটির। বিএনপি সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে। যেহেতু দলের পরবর্তী নেতৃত্ব তারেক রহমান তাই তারেক রহমানকেই কেন্দ্র করে এবং তার পরামর্শেই দল পুনর্গঠনের কাজ চলছে।

বিএনপি সূত্রে জানা যায়, আনুষ্ঠানিকভাবে কাউন্সিল হলেও ঐতিহ্যগত কারণেই পদাধিকার বলে বর্তমান চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়াই দলটির চেয়ারপারসন থাকবেন এবং তারেক রহমানকে কো-চেয়ারম্যান বা সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যান পদে নির্বাচিত করা হতে পারে। সেক্ষেত্রে চেয়ারপার্সন বা সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যান পদটি কাউন্সিলর দ্বারা সরাসরি ভোটের মাধ্যমে নির্বাচিত হবে। যা এবারই প্রথম।

দলের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ মহাসচিব পদে গত কয়েকমাস ধরেই একাধিক নেতার নাম শোনা যাচ্ছে।তার মধ্যে বর্তমান ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, বর্তমান ভাইস চেয়ারম্যান মেজর হাফিজ, আব্দুল্লাহ আল নোমান ও স্থায়ী কমিটির সদস্য বাবু গয়েস্বর চন্দ্র রায়। তবে এক্ষেত্রে বর্তমান ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের সম্ভাবনা বেশী থাকলেও শেষ পর্যন্ত বেগম খালেদা জিয়া তারেক রহমানের মতামতকেই প্রাধান্য দিয়ে দলের মহাসচিব নির্বাচন করবেন।

স্থায়ী কমিটির নতুন মুখের আলোচনায় রয়েছেন মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, শাহ মোয়াজ্জেম হোসেন, চৌধুরী কামাল ইবনে ইউসুফ, এম মোর্শেদ খান, মেজর অব. হাফিজ উদ্দিন আহমেদ, আব্দুল্লাহ আল নোমান, সাদেক হোসেন খোকা, আমির খসরু মাহামুদ চৌধুরী, বেগম সেলিমা রহমান, শামসুজ্জামান দুদু, ড. ওসমান ফারুক, অ্যাডভোকেট খন্দকার মাহাবুব হোসেন, সালাহ উদ্দিন আহমেদ । ভাইস চেয়ারম্যান পদে নতুন মুখের আলোচনায় শোনা যাচ্ছে মো. শাজাহান, ব্যারিস্টার শাজাহান ওমর, (অব.) রুহুল আলম চৌধুরী, মীর মোহাম্মদ নাছির উদ্দিন, জয়নুল আবেদিন ফারুক, আব্দুস সালাম, আমান উল্লাহ আমান, মিজানুর রহমান মিনু, বরকত উল্লাহ বুলু, আ ন ম এহাসনুল হক মিলন, ব্যারিস্টার জিয়াউর রহমান খান, গাজী মাজহারুল আনোয়ার, বেগম খালেদা রব্বানী, কাজী আসাদুজ্জামান, মনিরুল হক চৌধুরী,গিয়াস কাদের চৌধুরী এবং হাবিুবুল ইসলাম হাবিব, নূরে আরা সাফার নাম।

ষষ্ঠ কাউন্সিলের মাধ্যমে নতুন কমিটির উপদেষ্টা হতে পারেন অধ্যাপক ড. এমজাউদ্দিন আহমেদ, ডা. জাফরুল্লাহ, মাহমুদুর রহমান, ড. তাজমেরি এস ইসলাম, সাংবাদিক মাহফুজ উল্লাহ, ড. ইউসুফ হায়দার, সাবেক ক্যাবিনেট সচিব আব্দুল হালিম এবং স্থায়ী কমিটি ও যুগ্ন মহাসচিব থেকে যারা বাদ পরবেন তারা এই তালিকার অন্তর্ভুক্ত হবেন। মহাসচিব, স্থায়ী কমিটি এবং সিনিয়র যুগ্ম মাহসচিব পদে অ্যাডভোকেট রুহুল কবির রিজভী আহমেদ আলোচনায় থাকলেও অনেকে মনে করছেন, শেষ পর্যন্ত সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব (দফতরের দায়িত্বপ্রাপ্ত) পদেই রাখা হবে রিজভী আহমেদকে।

এছাড়া যুগ্ম মহাসচিব পদে আলোচনায় রয়েছেন ডাঃ জাহিদ, ড. আসাদুজ্জামান রিপন, গোলাম আকবর খন্দকার, মজিবুর রহমান সরোয়ার, নিঁখোজ এম ইলিয়াস আলী, আসাদুল হাবিব দুলু, খায়রুল কবীর খোকন, শহীদ উদ্দিন চৌধুরী এ্যানি, সৈয়দ মোয়াজ্জেম হোসেন আলাল, হাবিবুর রহমান হাবিব এবং হাবিব উন নবী খান সোহেল। সাংগঠনিক সম্পাদক হিসেবে রাখা হতে পারে নাদিম মোস্তফা, নাজিম উদ্দিন আলম, আবুল খায়ের ভূঁইয়া, রুহুল কুদ্দুস তালকুদার দুলু, ব্যারিস্টার নাসির উদ্দিন আহমেদ অসীম, এমরান সালেহ প্রিন্স, আব্দুল মোমিন তালুকদার খোকা, নজরুল ইসলাম মঞ্জু, ডা. সাখাওয়াত হাসান জীবনকে।

এছাড়াও দলের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পেতে পারেন এবিএম মোশাররফ, আজিজুল বারী হেলাল, সুলতান সালাউদ্দিন টুকু সহ আরও অনেকে।

ছাত্রনেতাদের মধ্য থেকে সানাউল হক নীরু, কামরুজ্জামান রতন, কামরুল ইসলাম সজল, ঢাকা বিশ্ব বিদ্যালয়ের সাবেক সভাপতি মনির হোসেন, রেহানা আক্তার রানু, আব্দুল আউয়াল, কাজী রউনকুল ইসলাম টিপু,শহীদুল ইসলাম বাবুল, নুরুল ইসলাম নয়ন, আব্দুল কাদের ভূইয়া জুয়েল, হাবিবুর রশিদ হাবিব, আসাদুজ্জামান আসাদ, হাসান মামুন, সাইফুল ইসলাম ফিরোজ, বেনজির আহমেদ টিটু, হায়দার আলী লেলিন, আমিরুজ্জামান খান শিমুল, বজলুল করিম চৌধুরী আবেদ, শেখ মোহাম্মদ শামীম, আব্দুল মতিন, ওমর ফারুক সাফিন, আবু বকর, দুলাল হোসেন, শাম্মি আক্তার, সাইদ ইকবাল টিটু, আনোয়ারুল হক রয়েল, আব্দুল হালিম খোকন, আহসান উদ্দিন খান শিপন, আবু সাইদ, শহিদুল্লাহ ইমরান, রফিকুল ইসলাম রাসেল, আনিসুর রহমান তালুকদার খোকন, তরুন দে, কামাল আনোয়ার আহমেদ, ওবায়দুল হক নাসির, আনোয়ার হোসেন টিপুর নাম বিএনপির নতুন নির্বাহী কমিটির আলোচনায় পাওয়া গেছে।

যুবদল নেতাদের মধ্যে থেকে মূল দলে যাদের নাম শোনা যাচ্ছে তাদের মধ্যে রয়েছেন সাইফুল ইসলাম নীরব, সেলিমুজ্জামান সেলিম, আ ক ম মোজ্জাম্মেল হক, মোরতাজুল করিম বাদরু, হামিদুর রহমান হামিদ, আব্দুল বারী ড্যানি, ফজলুর রহমান, ফরহাদ হোসেন আজাদ, নেওয়াজ আলী, আলবাট পি কস্টা, খন্দকার মাশুকূর রহমান, মাহবুবুল হাসান পিংকু ভূইয়া, কে ওয়াই এম খলিল, কাজী রফিক, মামুন হাসান, রফিকুল আলম মজনু এবং এস এম জাহাঙ্গীর সহ আরও অনেকে।

স্বেচ্ছাসেবক দলের মধ্যে বিএনপিতে আসার আলোচনায় রয়েছেন মীর সরাফত আলি সপু, মুহাম্মদ মুনির হোসেন, সফিউল বারি বাবু, সাইফুল ইসলাম পটু, ইয়াসিন আলী, হাজী মনির। কৃষকদলের মধ্য থেকে জসিম উদ্দিন, এম এ তাহের, জামাল উদ্দিন খান মিলন,আলহাজ একেএম মোয়াজ্জেম হোসেন, আলহাজ্ব নাজিম উদ্দিন, মো. শাজাহান মিয়া সম্রাট, ইলিয়াস আহমেদ পাল, মনিরুজ্জামান মনির, নাসির হায়দার, এবং এস কে সাদী আলোচনায় রয়েছে।

জাসাস থেকে এম এ মালেক, কণ্ঠশিল্পী বেবী নাজনীন, খল অভিনেত্রী রিনা খান, মনির খান, শাহবুদ্দিন ভুইয়া শিশির, শাইরুল কবির খান, বাংলা চলচ্চিত্রের নায়িকা শাহারিয়া ইসলাম শায়লা, শামসুদ্দিন দিদার, অভিনেতা হেলাল খান, অভিনেতা বাবুল আহমেদ এবং জাহাঙ্গীর শিকদার। শ্রমিক দলসহ অন্যান্য সহযোগী সমমনা সংগঠন থেকেও বিএনপিতে দেখা যেতে পারে নতুন মুখ। এছাড়াও ইউনুস মৃধা, কাউন্সিলর হারুন, ব্যারিস্টার রুমিন ফারহানা, সাবেক ফুটবলার আমিনুল ইসলাম কণ্ঠ শিল্পী রুমানা ইসলাম কনক চাপার নাম আলোচনা হচ্ছে বিএনপির নতুন কেন্দ্রীয় কমিটি ঘিরে।

এছাড়াও দলে নতুন করে যুক্ত হতে পারেন কর্নেল (অব.) অলি আহমেদ, চেয়ারপারসনের সাবেক উপদেষ্টা মেজর জেনারেল (অব.) জেড এ খান, সাবেক সচিব মোফাজ্জল করীম, সাবেক যুগ্ম মহাসচিব আশরাফ হোসেন, সাবেক প্রতিমন্ত্রী আলমগীর, সাবেক মন্ত্রী আনোয়ার তালুকদার, সাবেক মন্ত্রী শাহ মোহাম্মদ আবুল হোসাইন, সাবেক হুইপ সৈয়দ শহীদুল হক জামাল, সাবেক এমপি আবু হেনা, সাবেক দফতর সম্পাদক মফিকুল হাসান তৃপ্তি, সাবেক তথ্য গবেষণা সম্পাদক জহির উদ্দিন স্বপন, সুনামগঞ্জ জেলা বিএনপির সাবেক সভাপতি নজির হোসেন, গোপালগঞ্জ জেলার সাবেক সভাপতি ও কেন্দ্রীয় সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক এম এইচ খান মঞ্জু, সাবেক এমপি সাখাওয়াত হোসেন বকুল, চাঁদপুরের সাবেক জেলা সভাপতি এস এ সুলতান টিটু, বরগুনার সাবেক জেলা সভাপতি নুরুল ইসলাম মণি, সাবেক এমপি শামীম কায়সার লিঙ্কন, বগুরার সাবেক এমপি ডা. জিয়াউল হক মোল্লা ও এজিএম সিরাজ, সাবেক এমপি এম এম শাহীন, সাবেক হুইপ খলিলুর রহমান, সাবেক এমপি দেলোয়ার হোসেন দুলু, সাবেক এমপি শহীদুজ্জামান, সাবেক এমপি মেজর (অব.) আখতারুজ্জামান, সাবেক এমপি প্রকৌশলী ফজলুল অজিম, সাবেক হুইপ আবু ইউসুফ মো. খলিলুর রহমান, সাবেক এমপি করিম আব্বাসী, মেহেরপুরের সাবেক এমপি আব্দুল গনি, সাবেক সচিব আব্দুল হাকিম, সাবেক এমপি আতাউর রহমান আঙ্গুর, সুরঞ্জন ঘোষণ।

এদিকে এক নেতার এক পদ রাখার ফর্মুলা বাস্তবায়ন হলে পরিস্থিতি অনেকটাই বদলে যেতে পারে। সেক্ষেত্রে বেশ কিছু নেতাকে কেন্দ্রীয় পদ ছেড়ে জেলায় স্থানান্তর করা হতে পারে। অবশ্য দলটির দফতরের দায়িত্বপ্রাপ্ত যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী আহমেদ মনে করেন, হাই কমান্ড আমাকে যেখানে রাখে এতেই আমার সিদ্ধান্ত হবে। আমি সন্তুষ্ট থাকবো। তবে কমিটির আকার সম্পর্কে তিনি এই মুহূর্তে ধারণা দিতে পারছেন না বলেও জানান। পদপদবী পাওয়ার ক্ষেত্রে বাইরের কোনো প্রভাব থাকে কি-না এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, এটা দলের অভ্যন্তরীণ বিষয়। কাউন্সিলে নেতাকর্মীদের মূল্যায়নের ক্ষেত্রে কোনো ধরনের চ্যালেঞ্জ রয়েছে কি-না এমন প্রশ্নের জবাবে রিজভী আহমেদ বলেন, যোগ্যরা তাদের স্থানে যাবেন, আর অযোগ্যরা বাদ যাবেন। আশা করছি ত্যাগী নেতাকর্মীদের যথার্থ মূল্যায়ন হবে।

সংবাদ সম্পর্কে আপনার মতামত দিন