দালালের প্রতারণার ফাদেঁ পড়ে বাহরাইনে অনেক প্রবাসী শ্রমিক মানবেতর জীবন যাপন

নিজস্ব প্রতিনিধি: দালালের মন ভোলানো কথায় প্রভাবিত হয়ে ২০১৫ সালে জুনে নিজের বসতভিটা ও হালের বলদ বিক্রি করে তিন লাখ টাকায় বাহরাইন পাড়ি দেন মানিকগঞ্জের সাটুরিয়ার জামাল মিয়া। চার মাস মানবেতর জীবন যাপনের পর দৈনিক মজুরির ভিত্তিতে কাজ মেলে একটি নির্মাণ কোম্পানিতে। সেখানে কঠোর পরিশ্রম করেও ঠিক মত বেতন পান না। গত দুই বছরে সর্ব সাকুল্যে দেশে পাঠিয়েছেন দুই লাখ টাকা ।
বাহরাইন এসে দালের দেয়া প্রতিশ্রুত কাজ মেলেনি, দেখাও পাননি দালালের।

বাহরাইনের আসকার নেস্টো মার্কেটের সামনে প্রতিবেদককে  দেখে এগিয়ে আসেন গাজীপুর কালীগঞ্জের মঞ্জুরুল আলম পরিবারের খোরাকি একমাত্র ফসলি জমিটি বিক্রি করে সাড়ে তিন লাখ টাকায় বাহরাইন এসেছেন । তাকে বলা হয় ৫০ হাজার টাকা বেতনে এসি রুমে বড় কোম্পানিতে অফিস বয়ের চাকরি।

কিন্তু এখানে আসার পর তাকে ক্লিনিং কাজ করতে হচ্ছে। কাজ করার কিছু দিন পর তিনি জানতে পারেন কোম্পানি তাকে সম্পূর্ণ বিনামূল্যে এখানে এনেছে এবং এই টাকার পুরোটাই নিয়েছে দালালরা। বেতন যা পান দেশে ১২হাজার টাকার বেশি পাঠাতে পারেনা বলে জানান। সেও দালালের কথার সাথে কোন মিল খুজে পায়নি।

মঞ্জুরুল আলম অনুরোধ করে বলেন, আপনারা বাহরাইনের প্রকৃত অবস্থা সম্পর্কে লিখুন, যাতে করে ৩/৪ লাখ টাকা খরচ করে দালালদের মিথ্যা কথায় বিশ্বাস করে এখানে যেন কেউ না আসে,আমি যদি জানতাম-কখনো আসতাম না।

এই টাকা দেশে বিনিয়োগ করে এখানে যে পরিশ্রম করছি-তা যদি দেশে করতাম তার ৪ গুণ আয় করতে পারতাম, আমি যে সম্পত্তি বিক্রি করে এখানে এসেছি-আজীবন বাহরাইন থাকলেও তা কিনতে পারবো না বলে তিনি কেঁদে উঠেন ।

জামাল মিয়া ও মঞ্জুরুল আলমই শুধু নয়,দালাদের প্রতারণার ফাদেঁ পড়ে বাহরাইনে আসার পর কর্মহীন হয়ে অসহায় মানবেতর জীবন যাপন করছেন প্রায় ২০ হাজার বাংলাদেশি।

যারা পরিবারের আর্থিক স্বচ্ছলতার স্বপ্ন নিয়ে প্রবাসী হয়ে ছিলেন তারা নিজেরাই এখন অসহায় মানবেতর জীবন যাপন করছে

সংবাদ সম্পর্কে আপনার মতামত দিন