“টেনেহিঁচড়ে হাসপাতালে নেওয়া হয়নি দেশমাতাকে খালেদা জিয়াকে”

জাহিদ এফ সরদার সাদী : কিছু ব্যক্তিবিশেষের উদ্ধৃতি দিয়ে গুটিকতক সংবাদমাধ্যম গুজব ছড়াচ্ছে, শনিবার কারাগার থেকে হাসপাতালে নেওয়ার পথে বেগম খালেদা জিয়া টানাহেঁচড়ার শিকার হন। বাস্তবে এ ধরণের কোন ঘটনা ঘটেনি। সন্দেহ নেই, একটি কুচক্রিমহল বেগম জিয়ার আকাশচুম্বি জনপ্রিয়তাকে প্রশ্নবিদ্ধ করতেই এজাতীয় হালকা কল্পকাহিনী ছড়াচ্ছে।

জানে হয়তো সবাই, কিন্তু বোঝার ক্ষমতায় ঘাটতি আছে অনেকেরই। কাকে নিয়ে কথা বলছি আমরা? বেগম খালেদা জিয়া বাংলাদেশের প্রথম এবং মুসলিম বিশ্বের দ্বিতীয় মহিলা প্রধানমন্ত্রী। প্রায় তিন যুগ ধরে তিনি দেশের সবচেয়ে বড় ও জনপ্রিয় রাজনৈতিক দলটির কর্ণধার, পাশাপাশি তিন তিনবারের সাবেক সফল সরকারপ্রধান।

তিনি পরমশ্রদ্ধেয় একজন রাজনীতিবিদ, আপামর জনতার সবচেয়ে প্রিয় নেত্রী। বাংলাদেশের বিবিধ দুর্যোগমুহূর্তে বেগম খালেদা জিয়া অত্যাচার, নীপিড়ন ও নির্যাতনের শিকার হয়েছেন কিন্তু তার সম্মানের প্রতি এতটুকু আঘাত করার সাহস কেউ কখনো দেখাতে পারেনি, কখনো তা পারবেও না। আমি চ্যালেন্জ দিয়ে বলতে পারি, দেশমাতার সান্নিধ্যে এলে যে কারো মস্তকই শ্রদ্ধায় নুয়ে পড়ে। তাঁকে টানাহেঁচড়া করবে এমন বুকের পাটা নিয়ে বাংলাদেশের মাটিতে আজও কেউ জন্মগ্রহণ করেনি। অন্যসকল নেতানেত্রীদের ক্ষেত্রে কিন্তু ব্যাপারটা মোটেও সেরকম নয়।

তবে কেন এ প্রোপাগান্ডাটা ছড়ানো হচ্ছে? নিশ্চয়ই ভয়ংকর কোন স্বার্থসিদ্ধির চেষ্টায় লিপ্ত রয়েছে বিশেষ একটি মহল। কুচক্রিমহলটি হয়তো বেগম জিয়াকে শেখ হাসিনার কাতারে নামিয়ে আনতে তৎপর। আমাদের মনে আছে, ১/১১’র বৈরী দিনগুলোতে সামরিকজান্তার আদিষ্ট পুলিশবাহিনী বর্তমান অবৈধ প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে টেনেহিঁচড়ে, চাপাচাপি আর ধাক্কাধাক্কি করে আদালতে হাজির করেছিলো। সেসময়ের সংবাদপত্র ঘাটলে শেখ হাসিনার বিকৃত ও বিব্রতকর চেহারার ছবিগুলো এখনো আমাদের চোখে পড়ে। আমরা তখন ব্যথিত হই, লজ্জায় কুঁকড়ে মরি।

কিন্তু বাংলাদেশের রাজনীতির এযাবৎকালের ইতিহাসে বেগম খালেদা জিয়া একজন শ্রদ্ধাভাজন রাজনীতিক হিসেবে তাঁর অবস্হান সমুন্নত রেখেছেন। আজব্দি অসম্মানজনক কোন আচরণের মুখামুখি তাঁকে হতে হয়নি। আমি নির্দ্ধিধায় বলতে পারি, বাংলাদেশের জনগণ তৎক্ষনাত রুখে দাঁড়াবে যদি কখনো তেমনটা ঘটানোর দুঃসাহস কেউ দেখায়।

সতের কোটি সন্তানের ভালোবাসায় সিক্ত দেশমাতা বেগম খালেদা জিয়া। তাঁর সম্মানের জিম্মাদার বাংলাদেশের প্রতিটি নাগরিক। এতে যারা ভীত তারাই গুজব ছড়াচ্ছে। কিন্তু তাদের ব্যর্থতা আমাদের সবার চোখে স্পষ্ট।

শ্রদ্ধায় লিখি নাম – দেশমাতা বেগম খালেদা জিয়া!

লেখকঃ জাহিদ এফ সরদার সাদী, বাংলাদেশের তিন তিনবারের প্রধানমন্ত্রী বিএনপি চেয়ারপার্সন বেগম খালেদা জিয়ার সাবেক বৈদেশিক উপদেষ্টা এবং বিএনপির বিশেষ দূত।

সংবাদ সম্পর্কে আপনার মতামত দিন