দেশের গনতান্ত্র নষ্ট করার জন্য ৭৫-এর জঙ্গি বিখ্যাত ট্যাংক-ডান্সারই দায়ী

ড. তুহিন মালিক: আজ তথ্যমন্ত্রী হাসানুল হক ইনু দেশের সাংবাদিকদের এখন থেকে খালেদা জিয়ার নামের শুরুতে ‘জঙ্গি নেত্রী’ লিখতে বলেছেন। গণমাধ্যমের প্রতি একটি দেশের তথ্যমন্ত্রীর এইরকম নির্দেশনা কতটা যুক্তিযুক্ত ও ন্যায্য তা হয়ত সময়ই বলে দিবে। তবে, একটি গনতান্ত্রিক রাষ্ট্রের তিনবারের একজন সাবেক প্রধানমন্ত্রী, কমবেশি দেশের প্রায় অর্ধেক জনগোষ্ঠীর প্রতিনিধিত্বকারী বিশাল রাজনৈতিক দলের নেত্রীর নামের শুরুতে যদি সেই দেশের তথ্যমন্ত্রী নিজেই সাংবাদিকদের বলেন ‘জঙ্গি নেত্রী’ লিখতে, তাহলে আমরা যতই চিৎকার দিয়ে অস্বীকার করি না কেন বাংলাদেশকে সারাবিশ্ব জঙ্গি রাষ্ট্র বলেই জানবে।

আসলে ৭৫ এর জঙ্গি কোটায় মন্ত্রী হওয়ার পর তথ্যমন্ত্রীর সকল বক্তব্য এখন আর তার ব্যাক্তিগত বক্তব্য হওয়ার সুযোগ নাই। দেশের জনগন ইনুকে ২০৩ ভোটের জাসদের নেতা মনে করে না। জনগন তার বক্তব্যকে সরকারের বক্তব্য বলেই বিশ্বাস করে। আর এটাই হচ্ছে সরকারের সবচেয়ে বড় সর্বনাশের জায়গা। দেশের সংখ্যাগরিষ্ঠের ধর্মীয় বিশ্বাসের অবমাননা, আলেম-ওলামা-ইমামদের অশ্লীল কটুক্তি করা থেকে শুরু করে দেশের গনতান্ত্রিক পরিবেশ নষ্ট করার জন্য সর্বাগ্রে এই ৭৫-এর জঙ্গি বিখ্যাত ট্যাংক-ডান্সারই দায়ী।

আওয়ামী লীগ যদি ভাবে ইনুকে দিয়েই সব নোংরা কাজ করাবে, সেটা ভুল হবে। কারন ইনুর সব অপকর্মের জন্য মানুষ কিন্তু আওয়ামী লীগকেই গালি দিচ্ছে। ইনুর হটকারীতার দায় আওয়ামী লীগ কেন নিজের কাঁধে নিচ্ছে, সেটা হয়তো শেখ হাসিনাই ভালো জানেন।

প্রধানমন্ত্রী কেন ইনুকে নিজের পিতার হত্যাকারী জেনেও মন্ত্রী বানিয়ে রেখেছেন, সেটাও আজ মিলিয়ন ডলারের প্রশ্ন। কেননা, গতবছরের ১৩ জুন আওয়ামী লীগের তৎকালীন সাধারণ সম্পাদক ও মন্ত্রী সৈয়দ আশরাফুল ইসলাম স্পষ্টতই বলেছিলেন, ‘বঙ্গবন্ধু হত্যার প্রেক্ষাপট তৈরি করেছিল জাসদ। মুক্তিযুদ্ধের চেতনাকে বিকৃত ও বিনষ্ট করতে চেয়েছিল জাসদ।’

সৈয়দ আশরাফ আরো গুরুত্বপূর্ণ কথা বলেছিলেন যে, ‘জাসদ নামের একটা রাজনৈতিক সংগঠন করে। আর এখন আমাদের লেজুড়বৃত্তি। একজনকে মন্ত্রী দেওয়া হইছে। এই যে একটা সিদ্ধান্ত। সিদ্ধান্ত নিতে গিয়ে যদি একটা ভুল করে তার প্রায়শ্চিত্য কিন্তু সারা জীবনই করতে হয়। জাতিকে ঐক্যবদ্ধ করেছিলেন বঙ্গবন্ধু। বঙ্গবন্ধুর দেশে ফিরার আগেই এই বৈজ্ঞানিক সমাজতন্ত্রবাদীরা দেশটাকে আবার ছিন্নভিন্ন করার চেষ্টা করেছে। তারা ভণ্ড। তারা আপনার বৈজ্ঞানিক সমাজতন্ত্রের কথা বলছে। তারা একশ ভাগ ভণ্ড।’

এরআগে ২০১৫ সনের ২৩শে অগাস্ট আওয়ামী লীগের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য শেখ সেলিম বঙ্গবন্ধু হত্যায় তথ্যমন্ত্রী ইনুকে সরাসরি দায়ী করে তথ্য-প্রমানসহ প্রথম আলোতে বলেছিলেন, ‘কর্নেল তাহের বঙ্গবন্ধু যেদিন মারা যায়, সেদিন সেও রেডিও স্টেশনে যায়। জাসদের গণবাহিনীর প্রধান ছিলেন। একটা সরকারি বাহিনীর বিরুদ্ধে সে গণবাহিনী করেছিল। যাঁকে বঙ্গবন্ধু সহানুভূতিশীল হয়ে বিআইডব্লিউটিএর চেয়ারম্যান বানাইছিল, সেও ওই ষড়যন্ত্রের সঙ্গে যুক্ত ছিল। পরবর্তীতে তো দেখেছিলেন ক্ষমতার ভাগাভাগিতে তাহেরের কী হয়েছিল।’ তিনি বলেন, ‘জাসদই বঙ্গবন্ধুর হত্যার পথ পরিষ্কার করে দিয়েছিল। এই মুক্তিযুদ্ধের নামধারী জাসদ কী বৈজ্ঞানিক সমাজতন্ত্র, কী বিপ্লব ঘটাবে? যেহেতু জাসদের কর্মীরা মুজিববাহিনী, মুক্তিবাহিনী, গণবাহিনীতে ছিল। স্বাধীনতাবিরোধীরা কখনো বঙ্গবন্ধুর ওপর আঘাত হানতে পারত না, যদি এই গণবাহিনী, জাসদ বঙ্গবন্ধুর বিরোধিতা করে বিভিন্ন জায়গায় ডাকাতি করে, মানুষ হত্যা করে, এমপি মেরে যদি পরিবেশ সৃষ্টি না করত। সুতরাং বঙ্গবন্ধুর হত্যার মূল রহস্য বের করতে হবে, কারা কারা জড়িত ছিল।’
আরো ভয়ংকর ব্যাপার হচ্ছে স্বয়ং প্রধানমন্ত্রী গত বছর ২৭ নভেম্বর জানিয়েছেন, তিনি নিজে এক মন্ত্রীর দেয়া আঘাতের চিহ্ন এখনও মাথায় বয়ে চলেছেন। যদিও প্রধানমন্ত্রী সেদিন তাকে আঘাতকারী সেই মন্ত্রীর নামটা বলেননি, কিন্তু দেশের মানুষ ঠিকই বুঝেছিল সেটা ৭৫-এর সেই জঙ্গিই হবে।
এ পর্যন্ত দেশে যতগুলো জঙ্গি আক্রমন বা জঙ্গি ধরা হয়েছে, তার মধ্যে বেগম খালেদা জিয়ার দলের কতজন নেতা-কর্মী রয়েছে? একজন তথ্যমন্ত্রী নিজেই যখন মিথ্যা, সাজানো ও কল্পিত তথ্য পরিবেশন করে, তখন জঙ্গি নিধনে সরকারের সকল কর্মতৎপরতা কঠিনতম প্রশ্নের মুখে পড়তে বাধ্য হয়।

লেখকের ফেসবুক থেকে সংগৃহীত

সংবাদ সম্পর্কে আপনার মতামত দিন