‘দ্য লাস্ট কিস’ বাংলাদেশের প্রথম চলচ্চিত্র!

সময়বাংলা, বিনোদন: লুমিয়ের ভ্রাতৃদ্বয় যখন চলচ্চিত্র আবিষ্কার করেন তখন হয়ত তারা ভাবেননি তাদের আবিষ্কার বিশ্বে বহুল চর্চিত একটি বিষয় হয়ে দাঁড়াবে। তবে তাঁরা চেষ্টা করে গিয়েছেন চলচ্চিত্র যেন সমগ্র বিশ্বে ছড়িয়ে যায়। তারপর যখন সোভিয়েত ইউনিয়নে চলচ্চিত্রের পথচলা আরম্ভ হলো তখন মার্কসবাদী লেনিন,ম্যাক্সিম গোর্কির মতো সাহিত্যক চলচ্চিত্রকে বিশাল গণমাধ্যম বলে অভিহিত করেছিলেন। ওদিকে ম্যাক্সিম গোর্কি ভবিষ্যৎ বাণীতে বলেছিলেন,আগামী বিশ্বের সব থেকে আকর্ষর্ণীয় মাধ্যম হবে চলচ্চিত্র।

বর্তমান বিশ্বের দিকে তাকিয়ে যদি দেখি, তাহলে ম্যাক্সিম গোর্কির কথার সত্যতা মিলবে। চলচ্চিত্র বিশ্বকে নতুন এক জগতের সঙ্গে পরিচয় করিয়ে দিয়েছে। যে জগতে কেবল শিল্পের চর্চা হয়। চলচ্চিত্র এমন এক জায়গা যেখানে সম্ভবত সব ধরনের শিল্প চর্চা হয়।

বিশ্বের বহু দেশের মতো বাংলাদেশে চলচ্চিত্রের হাওয়ার লাগে দেশ স্বাধীন হওয়ার বেশ কবছর আগে। খাতা কলমে ১৯৫৬ সালে ‘মুখ ও মুখোশ’ দিয়ে ঢাকাই চলচ্চিত্রের যাত্রা আরম্ভ হলেও প্রকৃতপক্ষে ১৯৩১ সালে ‘দ্য লাস্ট কিস’ বাংলাদেশের প্রথম চলচ্চিত্র। যদিও তার কোন প্রিন্ট বর্তমানে সংরক্ষিত নেই বলে নিশ্চিত হওয়া গেছে।

এসব পুরোনো কাসুন্দি। বাংলাদেশের চলচ্চিত্রের ইতিহাসের দু-একটা বইয়ের পাতা ওল্টালে এসব তথ্য পাওয়া যাবে। এর থেকে বড় বিষয় হলো যে অপার সম্ভাবনা নিয়ে তৎকালিন সময়ে পাকিস্তানী গোষ্ঠির ধারণা পাল্টে দিতে বা তাদেরকে দেখিয়ে দিতে যে এফডিসির যাত্রা আরম্ভ হয়েছিলো তা বর্তমানে এসে কোন পথে এগোচ্ছে? এই প্রশ্নটাই এখন সব থেকে বড় মাথা ব্যথার কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। সেই সঙ্গে আরও একটি প্রশ্ন মাথার ভেতর দৌড়ঝাপ করে, চলচ্চিত্রের বিশ্বায়নে বাংলাদেশের চলচ্চিত্র পিছিয়ে পড়ার কারণ কী? আজ হলিউড,বলিউডসহ বহু দেশের চলচ্চিত্র বিশ্বব্যাপী মুক্তি পাচ্ছে। অথচ বিশ্বব্যাপী বাংলা ছবির বাজার সৃষ্টি হচ্ছে না। পৃথিবীর অন্যান্য দেশ তো দূরে থাক,পাশের পশ্চিমবঙ্গে বাংলাদেশের চলচ্চিত্র মুক্তি পাচ্ছে না। ২০০৪ সালে স্বাক্ষরিত হওয়া মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি (সাফটা) ২০০৬ সালে কার্যকার হওয়ার পর পশ্চিমবঙ্গের সঙ্গে চলচ্চিত্র বিনিময় করা হচ্ছে প্রায় নিয়মিতভাবে।

এই বিনিময়ে টালিগঞ্জের ছবি এদেশে মুক্তি পেলও ঢালিউডের ছবি ওখানে মুক্তি পায় না। পেলেও নামমাত্র। বিষয়টি নিয়ে অনেকে প্রতিবাদ করছেন। সংশ্লিষ্টরা অনেকভাবে মতামত দিচ্ছেন। মূল ব্যাপার হলো,সমান সমান মূল্যমান বা কোয়ালটি ছাড়া বিনিময় হলে সেখানে একটি পক্ষ অবিচারের স্বীকার হয়। তুলনা করতে গেলে মানের দিক থেকে বাংলাদেশের চলচ্চিত্র বেশ পিছিয়ে।

কলকাতার শিয়ালদহ এলাকার ‘ছবিঘর’ সিনেমা হলের ম্যানেজারকে প্রশ্ন করেছিলাম, কেনো বাংলাদেশের চলচ্চিত্র পশ্চিমবঙ্গে মুক্তি দেয়ার বিষয়ে উদাস দেখা যায়? তিনি এক কথায় উত্তর দিলেন,তোমাদের ছবি চলে না। কেন লোকশান করবো বলো? আমি কৌতূহল বাড়িয়ে আবার প্রশ্ন করলাম, কেন চলে না? তিনি হেসে বললেন, না চিনলে কেন দেখবে বলো? তোমাদের ছবির মান ভালো নয়। তাছাড়া এখানকার ছবিই তো চলছে না। আমি আর কথা বাড়ালাম না। সত্যিই তো আমরা যেমন টালিগঞ্জের সবাইকে চিনি। তেমন ওরা আমাদের চেনে না। এটা আমাদের ব্যর্থতা। কারণ, ওদেশে বাংলাদেশি টেলিভিশন চ্যানেল চলে না। চেনার উপায় নেই। অথচ সাফটা চুক্তির আগে ওদেশে বাংলাদেশের চ্যানেল উন্মক্ত করার প্রয়োজন ছিল।

মাঝে মাঝে শোনা যায়,এটা নিয়ে বৈঠক হয়। যদিও তা ফলপ্রসূ নয়। ২০১৫ সালে একবার ভারতীয় পররাষ্ট্র সচিব ডঃ এস জয়শঙ্কর আশ্বাস দিয়েছিলেন,ভারতে বাংলাদেশি চ্যানেল দেখানোর ব্যবস্থা করা হবে। কিন্তু তা আর বাস্তবে রুপ নেয়নি।

বাংলাদেশের চলচ্চিত্র এখন অনেকটা কলকাতামুখী। ওখান থেকেই বেশিরভাগ চলচ্চিত্রের অভিনয়শিল্পী নির্বাচন,কণ্ঠশিল্পী বা পোস্ট প্রোডাকশন-সব ধরনের কাজ করা হচ্ছে। টালিগঞ্জ যদি দাবি করে-ঢাকাই চলচ্চিত্রের নব্যরুপের কারিগর কলকাতা,তাহলে অবাক হওয়ার কিছু থাকবে না।

সময়বাংলা/আইজু

সংবাদ সম্পর্কে আপনার মতামত দিন