ধর্ম যার যার উৎসব সবার—ট্রেডিশন এ ধর্ম ভুলে গেলে হবে না





সময় বাংলা অনলাইন ডেস্ক: দাদা, পুজো দেখতে যাবেন না?  না ভাই, সেটাতে আমার ধর্মে মানা আছে।
কেন?
আমরা যখন গরু কুরবানি করি, সেই জায়গায় আপনাদের যাওয়া নিষেধ না? – হ্যাঁ নিষেধ। ভগবানের অভিশাপ পরে।
 ঠিক তেমনি, অন্য ধর্মের ধর্মীয় অনুষ্ঠানের জায়গায় যাওয়া আমাদের জন্যও নিষেধ… আমার ধর্মমতে পুজোর স্থানে অনবরত আল্লাহর গজব নাজিল হতে থাকে।
হজরত উমর (রা) বলেছেন, “তোমরা মুশরিকদের উপসনালয়ে তাদের উৎসবের দিনগুলোতে প্রবেশ করোনা। কারন সেই সময় তাদের উপর আল্লাহর গজব নাজিল হতে থাকে”। (বায়হাক্বী) যেখানে আল্লাহর গজব নাজিল হতে থাকে, সেখানে যাই কি করে?
ঠিক আছে, পুজো উপলক্ষ্যে প্রসাদ খেতে তো পারবেন ?
আপনার বাসায় অন্য যেকোনো সময় দাওয়াত খেতে যেতে পারব। এ বিষয়ে মানা নেই। কিন্তু পুজো উপলক্ষ্যে কিছু খেতে পারব না।
ব্যাপারটা একটু অন্য রকম হয়ে গেল না? – ধরুন, আমি আপনাকে গরুর মাংস খেতে বললাম… আপনি কি খাবেন? না। ঠিক তেমনি কিছু কিছু জিনিস আমাদের জন্য খাওয়া নিষিদ্ধ (হারাম), যেমন- মদ, শুকুরের গোশত, আল্লাহ ছাড়া অন্য কারো নামে জবেহ করা গোশত, অন্য ধর্মের ধর্মীয় উৎসবের খাবার ইত্যাদি।
সব ধর্মেরই নিষিদ্ধ কিছু বিষয় থাকে যা মানতে হয়। – কিন্তু ধর্ম যার যার, উৎসব সবার। – ওটা হয়তো অন্যদের জন্য হতে পারে, কিন্তু আমাদের জন্য না… অন্য ধর্মের অনুষ্ঠানে গেলে যেখানে আমার নিজেরই ধর্ম থাকছে না, সেখানে যার যার ধর্ম নিয়ে কি করব?
 মানে বুঝিনি?

 




মানে হল, ইসলাম ধর্মের মূলনীতি অনুযায়ী অন্য কারো ধর্মের উৎসবে স্বেচ্ছায় আনন্দের সাথে যোগদান করার অর্থই হল আল্লাহর সাথে শিরকের কাজে নিজেকে জড়িয়ে ফেলা। আর আল্লাহ সব গুনাহই মাফ করে দিবেন, একমাত্র শিরকের গুনাহ ছাড়া। আল্লাহ বলেন “নিশ্চয়ই আল্লাহ তা’আলা তার সাথে শিরক করার অপরাধ ক্ষমা করবেন না। এ ছাড়া অন্য সকল গুনাহ যাকে ইচ্ছা ক্ষমা করে দিবেন।” (সুরা নিসা: ৪৮)
তাহলে আপনি কি অন্যদের অপছন্দ করেন?
সেটা করব কেন? যার ধর্ম তার কাছে। আর ইসলাম এটাও শিক্ষা দেয়, অন্যদেরকে তাদের ধর্মীয় অনুষ্ঠান পালনে কোন প্রকার বাধা না দিতে। আমি প্রয়োজনে আপনাদের নিরাপত্তা দিব, পাহারা দিব, কেউ বিপদগ্রস্থ হলে তাকে সাহায্য করার জন্য ঝাঁপিয়ে পরব… এতে আমার আপত্তি নেই। কিন্তু সব ধর্মেরই কিছু বিধি নিষেধ থাকে… সেগুলো তো মানা উচিত।
 তাহলে? – তাহলে অন্য একদিন আপনার বাসায় দাওয়াত দিয়েন। আমি গিয়ে খেয়ে আসব। সেটাতে কোন বিধি নিষেধ নেই। আমাদের নবীজিও (সা) অন্য ধর্মের লোকদের বাসায় গিয়ে খেয়ে এসেছেন… এক ইহুদী উনাকে দাওয়াত দিয়েছিল, উনি গিয়ে খেয়েছিলেন। আর অবশ্যই আমার বাসায় আপনারো নেমন্ত্রন থাকল। আমি আপনাকে সম্মান করি, আপনি আমাকে করেন, অথচ দুজন দু’ধর্মের… এই যে একে অন্যের প্রতি সম্মান, এটাই হল প্রকৃত অসাম্প্রদায়িকতা।
ধর্ম যার যার উৎসব সবার—ট্রেডিশন এ ধর্ম ভুলে গেলে হবে না। লেখা~ ডা. তারাকী হাসান মেহেদী
সংবাদ সম্পর্কে আপনার মতামত দিন