ধর্ষণের প্রতিবাদে এইচএসসি পরীক্ষার্থীর আত্মহত্যা

সময় বাংলা, কিশোরগঞ্জ:
আজ সোমবার থেকে সারা দেশে শুরু হচ্ছে উচ্চ মাধ্যমিক সার্টিফিকেট পরীক্ষা (এইচএসসি)। এই পরীক্ষায় অংশ নেয়ার কথা ছিলো কিশোরগঞ্জ সরকারি মহিলা কলেজের বিজ্ঞান শাখার শিক্ষার্থী শান্তা আক্তারের। কিন্তু তার আর পরীক্ষায় বসা হল না। রোববার পৃথিবী ছেড়ে বিদায় নিয়েছে রাজধানীর একটি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন এই পরীক্ষার্থী। এর আগে ধর্ষণের প্রতিবাদে গত ২৬ মার্চ আত্মহত্যার চেষ্টা করেছিল এই শিক্ষার্থী।

কিশোরগঞ্জ সদর উপজেলার লতিবাবাদ ইউনিয়নের ব্রাহ্মনকচুরী গ্রামের বাসিন্দা ফিরোজ মিয়ার কলেজ পড়ুয়া মেয়ে শান্তার সঙ্গে প্রেমের সম্পর্ক ছিলো প্রতিবেশী লাল মিয়ার মাস্টার্স পড়ুয়া ছেলে মাইনুল হোসেনের।

গত ২৫ মার্চ শান্তাকে বিয়ের প্রলোভন দেখিয়ে ধর্ষণ করে ওই যুবক। পরে নিজের প্রতিশ্রুতি থেকে সরে আসে মাইনুল। সে শান্তাকে ফোন করে জানায়, তার পক্ষে ওই মেয়েকে বিয়ে করা সম্ভব নয়। এই কথা শুনে গত ২৬ মার্চ সকাল ৯টার দিকে নিজ ঘরে ফ্যানের সঙ্গে ওড়না পেঁচিয়ে আত্মহত্যার চেষ্টা করে শান্তা। তাকে মুমূর্ষু অবস্থায় উদ্ধার করে কিশোরগঞ্জ সদর হাসপাতালে ভর্তি করে পরিবারের লোকজন।

অবস্থার অবনতি হলে উন্নত চিকিৎসার জন্য তাকে ঢাকায় নিয়ে আসা হয়। কিন্তু ঢাকা মেডিকেল কলেজের আইসিইউতে বেড না পাওয়ায় তাকে ভর্তি করা হয় জাপান-বাংলাদেশ ফ্রেন্ডশিপ হাসপাতালে। সেখানে দুই দিন চিকিৎসার তাকে ভর্তি করা হয় সেন্ট্রাল হাসপাতালে। ওই হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় গতকাল দুপুরে মারা যায় শান্তা আক্তার।

কিশোরগঞ্জ সদর মডেল থানায় শান্তার বাবা ফিরোজ মিয়া বাদী হয়ে মামলা দায়ের করবেন বলে জানিয়েছেন নিহত শান্তার ভাই মিজান মিয়া।

এদিকে, ওই ছাত্রীর মৃত্যুর খবর গ্রামে পৌছার পর ঘরে তালা দিয়ে গা ঢাকা দিয়েছেন প্রেমিক মাইনুল ও তার পরিবারের লোকজন।

এসএস

সংবাদ সম্পর্কে আপনার মতামত দিন