ধান্ধাবাজ জার্মান প্রবাসী মুন্নার অপ্রচার ফাঁস

বিশেষ রিপোর্ট: মেহেদি হাসান মুন্না উগ্রবাদী এক জার্মান প্রবাসী বাঙালি তরুণ। নানা অনিয়ম আর ধান্ধাফিকিরেই যার ব্যস্ত সময় কাটে। মুন্নার বিরুদ্ধে প্রবাসে বিভিন্ন সামাজিক অনৈতিক কর্মকাণ্ডের অভিযোগ বাঙালি কমিউনিটিতে ব্যাপক আলোচিত। তার পরও দমে যায়নি উদ্রবাদী এই তরুণের অপকর্ম।

কথায় বলে ‘চোর না শুনে ধর্মের কাহিনী’। মেহেদি হাসান মুন্নার ক্ষেত্রেও এই কথাটা মিলে যায়। কারণ মুন্না তার ধান্ধাফিকিরে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টিকারী যে কারো বিরুদ্ধে উঠেপড়ে লাগে। এক্ষেত্রে জার্মানিতে রাষ্ট্রদূতসহ আওয়ামী লীগের শীর্ষ নেতাদেরও কট্টর সমালোচনা করতে দ্বিধা বোধ করে না। এ জন্য দলীয় শৃঙ্খলা ভঙ্গ এবং তার অব্যাহত অনৈতিক কর্মকাণ্ডের কারণে মুন্নাকে জার্মান আওয়ামী লীগ থেকেও বহিস্কৃত করা হয়েছে। এ হলো সেই মুন্না যে নিজের স্বার্থে মিথ্যা, বানোয়াট, কাল্পনিক আর উদ্দেশ্যপ্রণোদিত গল্প কাহিনী সৃষ্টি করে বিভিন্ন মাধ্যমে অপ্রচারে সিদ্ধহস্ত।

সম্প্রতি এমনি একটি ন্যাক্কারজনক ঘটনা ঘটিয়েছে মেহেদি হাসান মুন্না জার্মান প্রবাসী নন্দিত সাংবাদিক হাবিবুর রহমান হেলাল এবং ফাতেমা রহমান রুমার বিরুদ্ধে। মুন্না উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে এই দুই নন্দিত সাংবাদিককে সামাজিকভাবে অসম্মানিত করার উদ্দেশ্যে কাল্পনিক গল্প-কাহিনী তার ফেসবুক এবং কয়েকটি নিউজ পোর্টালে প্রচার করে চরম মিথ্যাচারের প্রমাণ দিয়েছে। সাংবাদিক হাবিবুর রহমান হেলাল এবং ফাতেমা রহমান রুমার বিরুদ্ধে অপ্রচারের সঠিক তথ্য অনুসন্ধান করতে গিয়ে মুন্নার আসল চরিত্র উন্মোচিত হয়েছে।
ঘটনা সূত্রে জানা যায়, জার্মানির বার্লিন দূতাবাসের উদ্দ্যোগে গত ২৬ মার্চ ৪৭তম মহান স্বাধীনতা দিবস উদযাপন অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। অনুষ্ঠানের শুরুতে জাতীয় পতাকা উত্তোলন করে বাঙালি বীর শহীদদের প্রতি সম্মান জানানোর মধ্যে দিয়ে রাষ্ট্রদূত-এর নেতৃত্বে সর্বস্তরের জনতা স্মারক স্মৃতিসৌধে শ্রদ্ধা জ্ঞাপন করেন। পরে মহান স্বাধীনতা দিবস-এর আলোচনায় অংশ নেন জার্মান আওয়ামী লীগ নেতা মো. শাহবুদ্দিন, মোবারক আলী মুকল, মাসুদুর রহমান, মো. সাইফুল ইসলাম, নুরী আলম সিদ্দিকী রুবেল প্রমুখ। উক্ত অনুষ্ঠানটির সংবাদ ও ভিডিও ফুটেজ জার্মানি থেকে ডিবিসি চ্যানেলে প্রচার করেন সাংবাদিক ফাতেমা রহমান রুমা।

উল্লেখিত সংবাদ ও ভিডিও ফুটেজে মেহেদি হাসান মুন্নাকে কেন প্রচার করা হয়নি এটাই ওই সাংবাদিক দম্পত্তির অপরাধ। মুন্না এই বিষয়টি নিয়ে অল ইউরোপীয়ান বাংলা প্রেস ক্লাবের ভাইস-প্রেসিডেন্ট হাবিবুর রহমান হেলাল এবং তার স্ত্রী ডিবিসির জার্মান প্রতিনিধি ফাতেমা রহমান রুমাকে মোবাইলে জিজ্ঞাস করেন। সাংবাদিক দম্পত্তি জানান, ২৬ মার্চ মহান স্বাধীনতা দিবসের সংবাদ ফুটেজটি তারা অন্য একজন সাংবাদিকের কাছ থেকে সংগ্রহ করেছেন। তিনি যেভাবে দিয়েছেন তারা শুধু সংবাদের ওই ভিডিও ফুজেট যুক্ত করেছেন। মুন্না সাংবাদিক দম্পতির কথায় বিশ্বাস না রেখে এক পর্যায়ে ক্ষিপ্ত হয়ে উঠে এবং তাদের বিরুদ্ধে হলুদ সাংবাদিকতা, টাকা খেয়ে সংবাদ প্রচার করা এমন সব মিথ্যা ও বানোয়াট গল্প সাজায়। মুন্না নিজের অপ্রচারকে যুক্তিযুক্ত করার জন্য ‘প্রাণনাশের আশঙ্কায় আওয়ামী লীগ নেতা মুন্না’ শিরোনামে একটি মিথ্যা বানোয়াট সংবাদ দৈনিক মৌমাছির কণ্ঠ পত্রিকার অনলাইনে প্রচার করে।

এ বিষয়ে দৈনিক মৌমাছির কণ্ঠ’র সম্পাদক-এর সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি সংবাদের সতত্যা বিতর্কে না গিয়ে গত ২৭ মে ‘প্রাণনাশের আশঙ্কায় আওয়ামী লীগ নেতা মুন্না’ শিরোনামের সংবাদটি তার অনলাইন পত্রিকা থেকে মুছে দেন।

এতেই বুঝা যায়, মুন্না জার্মান প্রবাসী নন্দিত সাংবাদিক দম্পতিকে সামাজিকভাবে হেয়প্রতিপন্ন করার জন্যই এই মিথ্যা অপ্রচার করে। সাংবাদিক দম্পতির বিরুদ্ধে মুন্নার এ ধরনের ন্যাক্কারজনক ঘটনায় জার্মানিসহ ইউরোপের বিভিন্ন স্থানে প্রতিবাদের ঝড় উঠেছে। ইতোমধ্যে অল ইউরোপীয়ান বাংলা প্রেস ক্লাবের পক্ষ থেকে এ ধরনের স্বার্থান্বেষী অপ্রচারকারীদের বিরুদ্ধে প্রতিরোধ গড়ে তোলার আহ্বান জানানো হয়েছে।

সংবাদ সম্পর্কে আপনার মতামত দিন